- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- অক্টোবর ৩১, ২০২৬
কুস্তিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত, নজির মনীষার
কুস্তির বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস গড়লেন মনীষা ভানওয়ালা। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতলেন হরিয়ানার এই কুস্তিগীর। আর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ১৬ বছর পর দেশকে সোনা এনে দিলেন। এর আগে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে সোনা জিতেছিলেন সুশীল কুমার।
২৯ বছর বয়সী মনীষা ৫৯ কেজি বিভাগের ফাইনালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাবিগেল এলিজাবেথ নেটকে ৮–৬ ব্যবধানে পরাজিত করে সোনা জেতেন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ী প্রথম ভারতীয় মহিলা কুস্তিগীর হিসেবে ইতিহাস গড়লেন। সোনা জয় অবশ্য সহজ ছিল না মনীষার কাছে। একসময় মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাবিগেল ৬–০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে টানা পয়েন্ট তুলে নিয়ে ৬–৬ করে ফেলেন মনীষা। শেষ ২৭ সেকেন্ডে পরপর ২ পয়েন্ট তুলে নিয়ে বাজিমাত।
মনীষার এই সোনা জয় শুধু বড় ক্রীড়া সাফল্যই নয়, এটা তাঁর প্রয়াত বাবার স্বপ্ন পূরণের এক আবেগঘন গল্পও বটে। সোনা জেতার পর মনীষা দর্শকদের উদ্দেশে তাঁর বাবা-মায়ের ছবি ছাপা একটা সাদা টি-শার্ট নাড়েন। এটা ছিল তাঁর বাবা সুরেশের প্রতি এক মেয়ের আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি, যিনি তাঁর মেয়েকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন খতে চেয়েছিলেন।
হরিয়ানার জিন্দ-এর বাসিন্দা মনীষার পথচলা সহজ ছিল না। ২০২২ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে যোগ দিতে মঙ্গোলিয়া যাওয়ার ঠিক আগের দিনই তাঁর বাবা সুরেশ মারা যান। আগের রাতে তিনি একটা স্মরণসভায় যোগ দিয়েছিলেন এবং পরদিন সকালে ঘুমের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। বাবার খুব কাছের মনীষা এই ধাক্কা সহ্য করতে পারেননি। পরিবার হারানোর বেদনায় তিনি কুস্তি ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।
সেই পরিস্থিতিতে তিনি বাড়ি ছেড়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যেতে চাননি। পরিবার মনীষাকে বুঝিয়েছিল, তাঁকে কুস্তিগীর বানানোর জন্য তাঁর বাবা যে কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা অপূর্ণ থাকতে পারে না। পরিবার বুঝিয়ে মনীষাকে মঙ্গোলিয়া যেতে রাজি করিয়েছিল। তিনি সেখানে পৌঁছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে ফিরে আসেন। এভাবেই তাঁর প্রত্যাবর্তনের সূচনা হয়।
কৃষক পরিবারের মেয়ে মনীষার খেলাধুলার পরিবেশ আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। তাঁর ভাই রিঙ্কু একজন কাবাডি খেলোয়াড়, বৌদি মমতা সিহাগও একজন কুস্তিগীর। মনীষা ছোটবেলায় গ্রামে ভাইকে কাবাডি খেলতে দেখত। এখান থেকেই খেলাধুলার প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্মায়। পরে, পরিবার মনীষাকে দলীয় খেলার পরিবর্তে একক খেলা বেছে নিতে উৎসাহিত করে। তাঁর শারীরিক শক্তি এবং মানসিক দৃঢ়তার কথা বিবেচনা করে কুস্তিকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার আগে মনীষা তাঁর বাবা-মায়ের ছবি দিয়ে একটা সাদা টি-শার্ট বানিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল যে, সোনা জেতার পর সে এই টি-শার্টটি বিশ্বকে দেখাবে। মনীষার ভাই রিঙ্কু জানান, ‘আস্তানার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগেই মনীষা এই টি-শার্টটি বানিয়ে নিয়েছিল। সে আত্মবিশ্বাসী ছিল যে সোনা জিতবে এবং বাবা-মায়ের ছবি সবাইকে দেখাবে। ফাইনালে আমেরিকান কুস্তিগীরকে পরাজিত করার পর সে ঠিক তাই করেছিল।’ রিঙ্কু আরও বলেন, ‘আমাদের পুরো পরিবারের স্বপ্ন ছিল যে মনীষা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে। আজ সে আমাদের স্বপ্ন পূরণ করেছে। এটা আমাদের বাবার জন্য আরও বেশি বিশেষ। তার এবং পুরো পরিবারের স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে।’
❤ Support Us








