Advertisement
  • দে । শ স | হ | জ | পা | ঠ
  • জুলাই ২৮, ২০২৩

হিমালয়ের অভ্যন্তরেই ছিল সুবিশাল মহাসমুদ্র, যৌথ গবেষণায় দাবি ইন্দো-জাপ বিজ্ঞানীদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হিমালয়ের অভ্যন্তরেই ছিল সুবিশাল মহাসমুদ্র,  যৌথ গবেষণায় দাবি ইন্দো-জাপ বিজ্ঞানীদের

স্মরণাতীত কাল থেকে ভারতের উত্তর সীমান্তে নিজের বিশালতা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে হিমালয় । তাকে নিয়ে গড়ে উঠেছে একের পর এক কল্পকথা যা নিঃসন্দেহে রহস্যের আলো-আঁধারিতে পরিপূর্ণ । কিন্তু সত্যানুসন্ধান রহস্যময়তা নয় ,তা ভেদ করতেই বেশি আগ্রহ দেখায়। তাই তুষারাবৃত গিরিরাজকে নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে কৌতূহলের সীমা নেই। জাপান ও ভারতের বিজ্ঞানীদের যৌথ প্রচেষ্টায় সামনে এসেছে পর্বতমালার প্রাথমিক গঠন পর্বের এক অজানা কিছু দিক । পাথর এবং জলের পরীক্ষা করতে তাঁরা বুঝতে পারেন হিমালয়ের মধ্যেই ছিল সুবিশাল এক জলরাশি।

পশ্চিমে কুমায়ন হিমালয় অঞ্চল থেকে গঙ্গোত্রী হিমবাহ এলাকা জুড়ে সমীক্ষা চালাচ্ছিলেন বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স ও জাপানের নিগাটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর পাথরের খাঁজে খাঁজে জলবিন্দুর অস্তিত্ব খুঁজে পান তাঁরা। যা থেকে তাঁদের ধারণা, আজ থেকে প্রায় ৬০ কোটি বছর আগে এখানে এক মহাসাগর ছিল। কালক্রমে তা হারিয়ে গিয়ে ক্রিস্টালে পরিণত হয়। ‘অক্সিজেনেশন’- নামক এক জৈব -রাসায়নিক প্রক্রিয়ার কারণে কয়েক লক্ষ কোটি বছর ধরে পাথরের মধ্যে জল রয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে।

প্রিক্যাম্ব্রিয়ান রিসার্চ পেপারে সমীক্ষা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আইআইএসসি এর সেন্টার ফর আর্থ সায়েন্সের গবেষক প্রকাশ চন্দ্র আর্য বলেন, যে জলের সন্ধান তাঁরা  পাথরের মধ্যে  পেয়েছেন তাতে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম কার্বোনেট প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। মনে করা হচ্ছে,  সেই সময় পৃথিবীতে অক্সিজেন প্রচুর পরিমাণে ছিল। অক্সিজেনেশন প্রক্রিয়াও চলত। সেডিমেন্টারি বেসিন যে অঞ্চলগুলি ছিল সেখানে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ভীষণ রকমের   কমে গিয়েছিল। বিপরীতে  ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণ রেকর্ড হারে বেড়ে যায়৷ জলের মধ্যে  জমা হতে থাকে ম্যাগনেশিয়াম কার্বনেট ।  যে কারণে   তা  একসময়ে  ক্রিস্টালে পরিণত হয়। তাতে হারিয়ে যায় সুপ্রাচীন  সাগর। যার  জন্য স্নো-বল গ্লেশিয়েশনকে দায়ী করেছেন বিজ্ঞানীরা।পাথরের মধ্যে জলকণাকে আণুবীক্ষণিক যন্ত্রে ফেলে এমনটাই  জানতে পেরেছেন গবেষকরা।

স্কুল স্তরের পাঠ্য বই থেকে জানা যায়, টার্শিয়ারি যুগে ভূ-আন্দোলনের ফলে গোণ্ডোয়ানাল্যাণ্ড ও আঙ্গারাল্যাণ্ড নামক ভূ-ভাগ দুটি পরস্পরের কাছাকাছি আসতে থাকলে টেথিস সাগরে সঞ্চিত প্রস্তরীভূত পাললিক শিলাস্তরে প্রচণ্ড পার্শ্বচাপ পড়ে। যে কারণে ওই শিলাস্তরে ভাঁজের সৃষ্টি হয় ও তা ধীরে ধীরে ওপরে উঠে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ের জন্ম হয়। এখন ভারতীয় ও জাপানি বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানলব্ধ ফল শেষ বিচারে সত্য হলে হিমালয়ের উৎপত্তি সম্পর্কে চিরাচরিত ধারণায় বদল আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!