- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১০, ২০২৫
জুবিন গর্গের মৃত্যুর তদন্তে গ্রেপ্তার দুই নিরাপত্তারক্ষী
অসমের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুবিন গর্গের মৃত্যুর তদন্তে লাগাতার অভিযানে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। এবার জুবিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নন্দেশ্বর বরা ও পরেশ বৈশ্যকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, তাঁদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেনের হদিস মিলেছে, যার কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।জানা যাচ্ছে, দুই নিরাপত্তারক্ষীর অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। নন্দেশ্বর বরা-র অ্যাকাউন্টে ৭০ লক্ষ টাকারও বেশি এবং পরেশ বৈশ্যের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। আর তা তাঁদের স্বীকৃত আয়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি। তদন্তকারীদের অনুমান, এ টাকা জুবিনেরই—যা ব্যবহার হতো তাঁর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রকল্পে। অসম পুলিশের তরফে আগেই বরখাস্ত করা হয়েছিল এই দুই অফিসারকে। তার পর শুরু হয় দীর্ঘ জেরা পর্ব। আর শুক্রবার দুপুরে তাঁদের গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত ‘শিট’ আধিকারিকরা।
প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগে জুবিন গর্গের কাছে মৃত্যুর হুমকি আসে নিষিদ্ধ উলফা জঙ্গিগোষ্ঠীর তরফ থেকে। তখনই পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয় তাঁকে। সে সূত্রেই দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন বরা ও বৈশ্য। তদন্তকারীরা মনে করছেন, শুধুই নিরাপত্তারক্ষী নন, ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনেও অভিযুক্ত দুইজন ছিলেন জুবিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। নানা দাতব্য কাজে টাকা বিলির জন্য তাঁদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন শিল্পী। এমনকি, একটি হাতে লেখা হিসেবের খাতা উদ্ধার হয়েছে, যেখানে উল্লেখ রয়েছে বহু লেনদেনের খুঁটিনাটি। এই গ্রেফতারির পর নতুন করে উঠছে প্রশ্ন —সিঙ্গাপুরে জুবিনের মৃত্যুর দিন কী ঘটেছিল? সত্যিই কি নিছক দুর্ঘটনা, না কি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো রহস্য?
প্রশ্ন তুলেছেন গায়কের স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া গর্গ। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘জুবিন সমাজসেবার জন্যই ওঁদের হাতে কিছু টাকা তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই দিন কী হলো, কেন ওঁকে ঠিকমতো নজরে রাখা হলো না, এসব প্রশ্নের উত্তর চাই আমরা।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘এমন মর্মান্তিক বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়। আমরা শুধু সত্যটা জানতে চাই। জুবিন সবার আপন ছিলেন। সবাই ওঁকে ভালবাসতেন। তবে শেষ সময়ে কেন এমন উদাসীনতা?’ তাঁর ক্ষোভ, ‘জুবিনের মৃত্যুর ভিডিও ক্লিপ একের পর এক সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, যেন কোনো ওয়েব সিরিজ! এতে শুধু বিভ্রান্তি বাড়ছে। আমরা চাই সত্য প্রকাশ পাক।’ জুবিনের বোন পালমে জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অসম সরকার ইতিমধ্যেই উচ্চ পর্যায়ের একটি ‘শিট’ গঠন করেছে। তদন্ত চলছে একাধিক দিক থেকে— ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন এবং সিঙ্গাপুরে মৃত্যুর সময়কার পরিস্থিতি। তবে শিল্পীর অগণিত ভক্ত ও অসমের বিরোধী দলগুলি লাগার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে এ মামলা তুলে দেবার আর্জি জানাচ্ছেন। এ প্রেক্ষিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন, ‘শিট’-কে কিছুটা সময় দেওয়া হোক, তদন্দে উল্লেখযোগ্য গতি না এলে তখন কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়া হবে।
❤ Support Us






