পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ় প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। যদিও প্রণালীটি দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ শুরু করেছে। এর মধ্যেই বুধবার সকালে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছেছে একটি তেলবাহী ভারতীয় ট্যাঙ্কার। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে প্রায় ৮০,৮০০ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে এসেছে ওই জাহাজ। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, বর্তমানে দেশে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই এবং এই অতিরিক্ত তেল পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করবে।

তবে এই পরিস্থিতিতে নিশ্চিন্ত থাকতে রাজি নয় সংসদের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক স্থায়ী কমিটি। কমিটির মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের জেরে ভবিষ্যতে আরও বড়ো জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে দেশের তেলের মজুত বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালের চাহিদা সংক্রান্ত সপ্তম প্রতিবেদনে কমিটি সুপারিশ করেছে যে, কেন্দ্রের উচিত অন্তত ৯০ দিনের অপরিশোধিত তেলের মজুত নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্যে পৌঁছতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।

এর পাশাপাশি, তেলের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার ওপরও জোর দিয়েছে কমিটি। কোন কোন অঞ্চল থেকে অতিরিক্ত তেল আমদানি করা যেতে পারে, তা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, গ্রামীণ ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এলপিজি সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলেছে কমিটি। রান্নার গ্যাস যেন সঠিক ও সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশে প্রতিদিনই জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।