Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ৫, ২০২৬

ইরানে হামলায় ভারতীয় বন্দরের ব্যবহার, দাবি নাকচ বিদেশ মন্ত্রকের

কানাডার ভূমিকা ঘিরে উঠছে প্রশ্ন ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইরানে হামলায় ভারতীয় বন্দরের ব্যবহার, দাবি নাকচ বিদেশ মন্ত্রকের

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার আবহে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ভারতের বন্দর ব্যবহার করছে—এমন দাবি ঘিরে শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক। তবে ভারতের তরফে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়ো বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

সম্প্রতি মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্নেল ডগলাস ম্যাকগ্রেগর একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে আমেরিকা ভারতের কিছু নৌবন্দর ব্যবহার করছে। তিনি এই মন্তব্য করেন ওয়ান আমেরিকা নিউস নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। সেখানে ম্যাকগ্রেগর বলেন, ইরানের পাল্টা হামলায় আমেরিকার কয়েকটি ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু নৌবন্দরেও পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। সেই কারণে মার্কিন নৌবাহিনী এখন ভারতের বন্দরগুলির উপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ম্যাকগ্রেগরের বক্তব্য অনুযায়ী, “চারটি ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বন্দরের আমাদের পরিকাঠামোও নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমাদের এখন ভারতের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে এবং তাদের বন্দর ব্যবহার করতে হচ্ছে, যদিও এটি আমাদের কাম্য ছিল না।”

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে এবং ভারতেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে কি সত্যিই ভারতের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে ?

এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় ভারতের বিদেশমন্ত্রক। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের অফিসিয়াল ফ্যাক্ট-চেক হ্যান্ডেল MEA FactCheck সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ স্পষ্ট জানায় যে এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের বক্তব্য, “আমেরিকার নৌবাহিনী ভারতের বন্দর ব্যবহার করছে—এমন যে দাবি করা হয়েছে, তা ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন। এই ধরনের বানানো ও বিভ্রান্তিকর খবর থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একযোগে ইরানের উপর বড় ধরনের হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। সেই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খেমেইনি এবং দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক আধিকারিক—এমন খবর প্রকাশ্যে আসে। এর পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

এই সংঘাতের প্রভাব ভারত মহাসাগর এলাকাতেও পড়তে শুরু করেছে। শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে, ভারত মহাসাগরে ইরানের একটি নৌজাহাজে হামলার অভিযোগ উঠেছে আমেরিকার বিরুদ্ধে। সেই হামলায় ইরানের অন্তত ৮৭ জন নৌসেনা নিহত হয়েছেন এবং এখনও ৬১ জন নিখোঁজ বলে জানা গেছে।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ডগলাস ম্যাকগ্রেগরের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করে। তবে ভারতের বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট করে দিয়েছে — ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে ভারতের বন্দর ব্যবহার করার দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে কানাডার সম্ভাব্য ভূমিকা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাম্প্রতিক মন্তব্য, যেখানে তিনি জানিয়েছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই যুদ্ধে তাদের দেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয় না। সেই মন্তব্যের পরই তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য আরও বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারণ তিনি স্পষ্টভাবে জানাননি যে ক্যানাডা এই সংঘাতে অংশ নেবে না। কার্নি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে কানাডার অবস্থান পরিষ্কার। তাঁর মতে, গোটা অঞ্চলে অস্থিরতা ও সন্ত্রাসের একটি বড় উৎস হলো ইরান। একই সঙ্গে তিনি ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!