- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫
সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করে ‘অযৌক্তিক নাটক’, জাতিসংঘে পাক প্রধানমন্ত্রীর তীব্র নিন্দা ভারতের
কাশ্মীর এবং সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাল ভারত। শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করার শেহবাজ শরীফের ‘অযৌক্তিক নাটক’–এর সমালোচনা করেছে ভারত।
ভারতীয় কূটনীতিক পিতল গেহলট জাতিসংঘে শেহবাজ শরীফের বক্তৃতার জবাব দেওয়ার সময় বলেন, ‘এই অধিবেশনে সকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর অযৌক্তিক নাটকীয়তা দেখা গেছে। যিনি আবার তাঁদের পররাষ্ট্র নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করেছেন। তবে যে কোনও নাটক এবং যে কোনও মাত্রার মিথ্যা তথ্য গোপন করতে পারে না। সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতির কেন্দ্রবিন্দু।’
শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ অপারেশন সিদুঁরের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর দেশ এই বছরের শুরুতে ভারতের প্ররোচনাহীন আগ্রাসনের মুখোমুখি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী অত্যাশ্চর্য পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং বিচক্ষণতার সাথে ভারতের আক্রমণ প্রতিহত করেছে। আমরা যুদ্ধে জয়ী হয়েছি এবং এখন আমরা আমাদের অংশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’
গেহলট স্মরণ করিয়ে দেন যে, জম্মু ও কাশ্মীরে পর্যটকদের হত্যাকাণ্ডের পর পাকিস্তান এই বছরের শুরুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠনকে রক্ষা করেছিল। তিনি বলেন, ‘এটা সেই পাকিস্তান, যারা ২০২৫ সালের ২৫শে এপ্রিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর বর্বর গণহত্যা চালানো পাকিস্তানি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টকে রক্ষা করেছিল।’
গেহলট পাকিস্তানের চরমপন্থীদের আশ্রয় দেওয়ার রেকর্ডের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান হল দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদ মোতায়েন এবং রপ্তানির ঐতিহ্যে নিমজ্জিত একটা দেশ। সেই লক্ষ্যে সবচেয়ে হাস্যকর আখ্যানগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কোনও লজ্জা পায় না। তারা এক দশক ধরে ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছিল। এমনকি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশীদার হওয়ার ভান করেও। পাকিস্তানের মন্ত্রীরা সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে, তারা কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাসী শিবির পরিচালনা করে আসছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে আবারও এই দ্বিচারিতা অব্যাহত রয়েছে, এবার তার প্রধানমন্ত্রীর স্তরে।’
শেহবাজ শরীফ তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমরা যুদ্ধে জয়ী হয়েছি এবং এখন আমরা আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’ শরীফের এই মন্তব্যের জবাবে পিতল গেহলট উপহাস করে বলেন, ‘১০ মে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আমাদের কাছে সরাসরি যুদ্ধ বন্ধের জন্য আবেদন করেছিল।যদি প্রধানমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী ধ্বংসপ্রাপ্ত রানওয়ে এবং পুড়ে যাওয়া হ্যাঙ্গারগুলিকে জয়ের মতো দেখায়, তাহলে পাকিস্তান তা উপভোগ করতে পারে। যদি তিনি সত্যিই শান্তির ব্যাপারে আন্তরিক হন, তাহলে পথ পরিষ্কার। পাকিস্তানকে অবিলম্বে সমস্ত সন্ত্রাসী শিবির বন্ধ করে দিতে হবে এবং ভারতে কাঙ্ক্ষিত সন্ত্রাসীদের আমাদের হাতে তুলে দিতে হবে।’
শেহবাজ শরীপ সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তিনি ভারতের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জল আটকে রাখার এবং চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এই জলসীমার ওপর আমাদের ২৪ কোটি মানুষের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। আমাদের কাছে, এই সিন্ধু চুক্তির যে কোনও লঙ্ঘন যুদ্ধের শামিল।’
❤ Support Us







