Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • অক্টোবর ১৫, ২০২২

অপুষ্টিতে ধুঁকছে ভারত।বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে পতন অব্যাহত। বিরোধী তীরে বেকায়দায় মোদি সরকার

২০২১ এ ক্ষুধা সূচকের তালিকায় ১০১ নম্বর স্থানে ছিল ভারতের । এবারে আরও ছয় ধাপ নেমে স্থান হল ১০৭-এ । উপমহাদেশের প্রতিবেশী দেশ গুলোর থেকেও পিছিয়ে এই দেশ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অপুষ্টিতে ধুঁকছে ভারত।বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে পতন অব্যাহত। বিরোধী তীরে বেকায়দায় মোদি সরকার

অপুষ্টিতে ধুঁকছে ভারত । বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে আরও পিছিয়ে গেল বিশ্বর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র । ২০২১ এ ক্ষুধা সূচকের তালিকায় ১০১ নম্বর স্থানে ছিল ভারতের । এবারে আরও ছয় ধাপ নেমে স্থান হল ১০৭-এ । উপমহাদেশের প্রতিবেশী দেশ গুলোর থেকেও পিছিয়ে এই দেশ । তালিকায় এগিয়ে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল ।

আইরিশ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এবং জার্মান সংস্থা ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে যৌথ উদ্দ্যেগে এই রিপোর্টটি তৈরি করেছে । সেই রিপোর্টে ক্ষুধা সূচকে ভারতের অবস্থান উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারা । ক্ষুধা সূচকের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের জনসংখ্যার ১৬.৩ শতাংশ ক্ষুধা ও অপুষ্টির শিকার । ১৯.৩ শতাংশ শিশুর উচ্চতার অনুপাতে ওজন খুবই কম। আর ৩৫.৫ শতাংশ শিশুর অপুষ্টি এতটাই যে বয়সের তুলনায় উচ্চতায় বাড়েনি ।

গত বছর মোট ১১৬ টি দেশকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা সূচকের সমীক্ষা চালিয়েছিল ওই দুই সংস্থা । ভারত ছিল ১০১ নম্বর স্থানে । এবারের সমীক্ষার ফলাফল ১২১ টি দেশের ভিত্তিতে । ভারত এবারের তালিকায় ১০৭ নম্বরে । যদিও সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে ক্ষুধা সূচকে যে হারে ভারতের পতন ঘটছিল তা কিছুটা হলেও কমেছে । ২০০০ সালে অনাহার বা অপুষ্টির হার ছিল ৩৮.৮ শতাংশ । ২০১৪ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সেই হার ২৮.১ থেকে ২৯.১শতাংশে এসেছে ।

এই সারণীর প্ৰথম সারিতে রয়েছে চিন, তুরস্ক, কুয়েত সহ বিশ্বের ১৭টি দেশ, ক্ষুধা সূচকের তালিকায় যাদের ক্ষুধা নিবৃত্তির হার পাঁচের নিচে, অর্থাৎ এই সব দেশে অনাহার বা অপুষ্টির হার প্রায় তালানিতে । তুলনায় ভারতের শতকরা হার ২৯.১ । বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে আফ্রিকা মহাদেশের সোমালিয়া, কঙ্গোর থেকেও নিচে ভারতের অবস্থান ।

আর এই ইস্যুতেই এবার সরব হয়েছে বিরোধী শিবির । দেশের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম এক টুইট বার্তায় কটাক্ষ করে লিখেছেন, ২০১৪ সালে আচ্ছে দিনের স্বপ্ন দেখিয়ে দেশে ক্ষমতায় এসেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার । তখন থেকে শুরু করে গত ৮ বছর মোদী জমানায় পরিস্থিতি ক্রমশই খারাপ হয়েছে । প্রশ্ন তুলে চিদম্বরম বলেছেন, “ক্ষুধা, অপুষ্টি, রোগভোগে জীর্ণ শিশুদের ব্যাপারে আর কবে ভাববেন প্রধানমন্ত্রী ?

ক্ষুধা সূচক প্রকাশের পর লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেছেন, নরেন্দ্র মোদী ভাল করেই জানেন যে দেশ খিদের জ্বালায় জ্বলছে। তাই তো উনি থালা বাজাতে বলেছেন । খালি পেটে থালা বাজিয়ে যাও । যাতে সেই আওয়াজে অপুষ্টি, অনাহারে থাকা মানুষের কান্নার শব্দ ঢাকা পড়ে যায় ।

আসন্ন গুজরাট এবং হিমাচলে বিধানসভা ভোটের আগে এই রিপোর্ট ঘিরে বেকায়দায় মোদি সরকার। দিন কয়েক আগে দেশ জুড়ে কূষক আত্মহত্যা বৃদ্ধি সহ মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের নিরিখে টাকার পতন অস্বস্তি বাড়িয়েছে নরেন্দ্র মোদির । গত বছর সমীক্ষার ফলকে ত্রুটিপূর্ণ বলে, তীব্র সমালোচনা করেছিল কেন্দ্র সরকার । সওয়াল তুলেছিল ক্ষুধা সূচক নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে । কেন্দ্র সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, দুই সংস্থাকে দিয়ে এই সমীক্ষা করিয়েছে তা ভুল তত্ত্ব ও প্রক্রিয়া ।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ব ক্ষুধা সূচকের পরামর্শদাতা মিরিয়াম উইমার্স বলেছেন, ‘কোন দেশে কী পরিমাণ অপুষ্টিতে কত মানুষ ভুগছে তাই দেখা হয়েছে। তার ভিত্তিতে ফুড ব্যালেন্স শিট তৈরি করা হয়েছে। ভারত সহ বিভিন্ন দেশ সরকারি ভাবে রাষ্ট্রপুঞ্জকে যে পরিসংখ্যান সরকারি ভাবে দিয়েছে তাই এখানে ব্যবহার করা হয়েছে । ফলে প্রক্রিয়ায় কোনও ভুল নেই । ‘ বিশ্ব ক্ষুধা সূচক চারটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। এক, অপুষ্টি । দুই, দেশে পাঁচ বছরের নীচে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা কত? অর্থাৎ উচ্চতার অনুপাতে যাদের ওজন অনেকটাই কম। তিন, পাঁচ বছরের কত শিশুর উচ্চতা তাঁদের বয়সের অনুপাতে অনেক কম। ক্রনিক অপুষ্টিতে ভোগার জন্য কত জনের ক্ষেত্রে এমন হচ্ছে? এবং চার, পাঁচ বছরের নিচে কত জন শিশু মারা যাচ্ছে?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!