- এই মুহূর্তে দে । শ স | হ | জ | পা | ঠ
- মে ১৪, ২০২৫
ড্রোন হানার বিরুদ্ধে ভারতের নয়া সুরক্ষা বলয়। পরীক্ষায় সফল ‘ভার্গবাস্ত্র’
বিশ্বের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত, ভারতের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ‘ভার্গবাস্ত্র’। এটি একটি বহুস্তরীয় ‘কাউন্টার-ড্রোন’ সিস্টেম, যা তুলনামূলক কম খরচে ঝাঁকবদ্ধ ড্রোন মুহূর্তে ধূলিসাৎ করতে পারে। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার আবহে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে এই দেশীয় প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ভারতের আকাশসীমা আরো সুরক্ষিত করতে ভারতের হাতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। দিশা দেখাচ্ছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ভার্গবাস্ত্র’। মঙ্গলবার ওড়িশার গোপালপুর উপকূলে সফল ভাবে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমের, যার লক্ষ্য— ছোট ড্রোন কিংবা ড্রোনের ঝাঁক প্রতিহত করা। এদিন পরীক্ষার সময় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সেনার বায়ু প্রতিরক্ষা বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকরা। সেনা সূত্রে খবর, মোট তিনটি পরীক্ষা হয়— দুটি একক রকেট উৎক্ষেপণ আর একটি স্যালভো মোডে, যেখানে মাত্র ২ সেকেন্ডের ব্যবধানে ছোড়া হয় ২টি মাইক্রো রকেট। সব কটিই নির্ধারিত লক্ষ্যভেদে সফল।
#WATCH | A new low-cost Counter Drone System in Hard Kill mode ‘Bhargavastra’, has been designed and developed by Solar Defence and Aerospace Limited (SDAL), signifying a substantial leap in countering the escalating threat of drone swarms. The micro rockets used in this… pic.twitter.com/qM4FWtEF43
— ANI (@ANI) May 14, 2025
‘হার্ড কিল’ প্রযুক্তি নির্ভর এই সিস্টেমটি ২.৫ কিমি দূর থেকে ছোট ড্রোন চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে সক্ষম। দুই স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রথম স্তরে রয়েছে মাইক্রো রকেট, যার পাল্লা সর্বোচ্চ ২০ মিটার। দ্বিতীয় স্তরে আছে গাইডেড মাইক্রো মিসাইল, যা নিখুঁত নিশানায় শত্রু ড্রোনে আঘাত হানতে পারে। এর আগেই সফল হয়েছে সেই মিসাইলের পৃথক পরীক্ষা। পর্বতশ্রেণি থেকে মরুপ্রান্তর— ভারতের বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতিতে ব্যবহারযোগ্য করে তৈরি করা হয়েছে ‘ভার্গবাস্ত্র’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫,০০০ মিটার উঁচুতেও এটি কাজ করতে পারে। নির্মাতা সংস্থা ‘স্যোলার ডিফেন্স অ্যান্ড এরোস্পেশ লিমিটেড’-এর দাবি, ‘ভার্গবাস্ত্র’ বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত মডিউলার এবং বহুস্তরীয় ‘কাউন্টার-ড্রোন’ সিস্টেম, যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে ঝাঁকবদ্ধ ড্রোন ধূলিসাৎ করতে পারে। জানা যাচ্ছে, এই ব্যবস্থায় নানা ধরণের সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। রাডার, ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রিসিভার এতে রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে অত্যাধুনিক সি৪আই প্রযুক্তি যার মাধ্যমে ৬ থেকে ১০ কিমি দূরত্বে আকাশপথে আসা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র হুমকিও শনাক্ত করা সম্ভব।
‘সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে, সীমান্তে ড্রোন হানার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সেনা সূত্রের খবর, অনেক ক্ষেত্রেই পাক ড্রোন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকতে চেষ্টা করেছিল, যদিও বেশিরভাগই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এই আবহে ভর্গবাস্ত্রের সাফল্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। পহেলগাঁও কাণ্ডের পরে যেভাবে এল৭০, শিল্কা, জু-২৩, আকাশ এবং রাশিয়ার এস-৪০০, ‘সুদর্শন চক্র’ একযোগে দেশের আকাশসীমা রক্ষা করেছে, তেমনই ভবিষ্যতের লড়াইয়ে ভর্গবাস্ত্র হতে চলেছে ভারতের অন্যতম এক বড়ো ভরসার জায়গা। সূত্রের খবর, দেশের আকাশসীমার সুরক্ষায় আরো ৩টি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সেনার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। সেই তালিকায় ‘ভার্গবাস্ত্র’ ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে। এক সেনাকর্তা জানিয়েছেন, ‘ড্রোন-হানার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা শুধু প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়, এখন জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
❤ Support Us






