Advertisement
  • এই মুহূর্তে স | হ | জ | পা | ঠ
  • মে ১৫, ২০২৫

ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লার মহাকাশ যাত্রা ৮ জুন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লার মহাকাশ যাত্রা ৮ জুন

ভারতের মহাকাশ গবেষণায় আরো এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। তবে সেই অধ্যায়ে কিছুটা দেরি হল। ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা, ভারতের দ্বিতীয় জাতীয় মহাকাশচারী হতে চলেছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন বেসরকারি মহাকাশ অভিযান ‘এক্সিওম মিশন-৪’ এর উৎক্ষেপণের তারিখ পিছিয়ে গেল। হিউস্টনের বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা ‘এক্সিওম স্পেস’ জানিয়েছে, ৮ জুন মহাকাশযানের পরবর্তী উৎক্ষেপণের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। উৎক্ষেপণ হবে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে, স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেট এবং ড্রাগন ক্যাপসুলের সহায়তায়। নাসা জানিয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে একাধিক অভিযানের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী উৎক্ষেপণ হবে ৮ জুন, রবিবার, সকাল ৯:১১ মিনিটে।’ অর্থাৎ ভারতীয় সময় সন্ধে ৬:৪১।

১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মা সয়ুজ মহাকাশযানে করে প্রথম ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে গিয়েছিলেন। এবার যাবেন শুভাংশু শুক্লা। তিনি ইসরো-র পক্ষ থেকে প্রথম ব্যক্তি যিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে পা রাখবেন। পেশায় ফাইটার পাইলট, শুক্লা বর্তমানে ইসরো-র গগনযান মিশনের নির্বাচিত চারজন মহাকাশচারীর অন্যতম। তাঁকে মার্চ ২০২৪-এ গ্রুপ ক্যাপ্টেনে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাঁর ঝুলিতে আছে ২০০০ ঘণ্টার বেশি ওড়ার অভিজ্ঞতা। এই মিশনে থাকছেন পেগি হুইটসন, যিনি প্রাক্তন নাসা মহাকাশচারী এবং বর্তমানে এ মিশনের কমান্ডার। তাঁর সঙ্গে থাকবেন পোল্যান্ডের স্লাভোস উজনানস্কি-উইসনিয়েভস্কি এবং হাঙ্গেরির টিবোর কাপু। মোট ১৪ দিন তাঁরা মহাকাশে থাকবেন। তাঁরা প্রায় ৬০টি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাবেন। এই পরীক্ষাগুলির অনেকগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। নাসা ও ইএসএ-র সহযোগিতায় পরিচালিত এই গবেষণা ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

জানা যাচ্ছে, মহাকাশে স্ক্রিনের সঙ্গে মানুষের চোখ ও মন কেমনভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তার উপরে একটি গবেষণা হবে।এ গবেষণায় দেখা হবে চোখের নড়াচড়া, দৃষ্টি স্থির রাখা, মানসিক চাপ ইত্যাদি কেমন প্রভাব ফেলে। ভবিষ্যৎ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে খাওয়া-যোগ্য মাইক্রোঅ্যালগির বৃদ্ধি, জিনগত কার্যকলাপ ও পুষ্টিমান বিশ্লেষণ করা হবে। ভবিষ্যতের মহাকাশ যাত্রায় এগুলি টেকসই খাদ্য উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। ইএসএ-এর সহযোগিতায় আরও একটি গবেষণায় দেখা হবে ফটোসিন্থেসিস সক্ষম সায়ানোব্যাকটেরিয়া কিভাবে মহাকাশে বাড়ে, কেমন জৈবিক প্রতিক্রিয়া জানায়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের স্পেস লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হবে। ‘নাসা’ ও ‘বায়োসার্ভ স্পেশ টেকনোল্যজিস’-এর সঙ্গে একটি গবেষণায় দেখা হবে মহাকাশে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে মাংসপেশির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে এবং তা রোধে কী ধরনের উপায় নেওয়া যায়। আরো একটি পরীক্ষায় মহাকাশে ফসলের বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার প্রক্রিয়া ও তার পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ করা হবে। এ ছাড়াও, মহাকাশের চরম পরিবেশে বেঁচে থাকতে সক্ষম টারডিগ্রেড নামের একটি অতিক্ষুদ্র প্রাণীর ওপর গবেষণা হবে। তাদের বেঁচে থাকার উপায়, জিনগত পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতের মহাকাশযাত্রায় তাদের প্রয়োগযোগ্যতা বিশ্লেষণ করা হবে।

‘এক্সিওম স্পেশ’ -এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরো-র গবেষণা আন্তর্জাতিক মহাকাশ বিজ্ঞানে ভারতের সক্রিয় ও নেতৃত্বমূলক ভূমিকা প্রমাণ করে। এই গবেষণাগুলি ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের অনুপ্রাণিত করবে।এটি এক্সিওম স্পেস -এর চতুর্থ বেসরকারি মহাকাশচারী মিশন। এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে এএক্স-১ মিশনে চারজন মহাকাশচারী মহাকাশের স্পেশ ষ্টেশনে ১৭ দিন কাটান। এএক্স-২ উৎক্ষেপণ হয় ২০২৩ সালের মে মাসে, আর এএক্স-৩ জানুয়ারি ২০২৪-এ। এই আবহে ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ মিশন গগনযান চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৭ সালের প্রথম দিকেই একজন ভারতীয়, নিজস্ব মহাকাশযানে অন্তরীক্ষে যাবেন, এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তিনি বলেন, ‘গগনযান হল ভারতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক।’ তাঁর মতে, এই অভিযান ভারতের অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামোকে আরো মজবুত করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র ভারতীয় মহাকাশ কেন্দ্র স্থাপন আর ২০৪০ সালের মধ্যে একজন ভারতীয়কে চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য স্থির করেছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!