- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ৪, ২০২৩
হিনার মন্তব্যে সীমার পাল্টা জবাব ! মানবাধিকার পরিষদ ভারত বিরোধী প্রচারের মঞ্চ নয়, নিজের দেশের আর্থিক দুরবস্থায় নজর দেওয়ার পরামর্শ ভারতের
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মানবাধিকার পরিষদে পাক বিদেশ প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। ভারতীয় প্রতিনিধি সীমা পূজানি জানান, আন্তর্জাতিক সমাবেশকে ভারত বিরোধী অসত্য ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রচারের মঞ্চ রূপে ব্যবহার করছে পাকিস্তান। নিজেদের দেশের মানুষের আর্থিক দুরবস্থা দূরীকরণ নয়, পরিবর্তে ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোই লক্ষ্য হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে, দেশে গণতন্ত্র ও সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে পাকিস্তানের সমালোচনা করেন তিনি।
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনে দুদিন আগে পাক বিদেশ মন্ত্রী হিনা রব্বানি কারো নাম না করে বলেছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সব থেকে বড়ো দেশ বেআইনি ও আইনি উভয় পদ্ধতিতে প্রচুর অস্ত্র সরবরাহ করছে। তাঁর জন্য ব্যাহত হচ্ছে গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতা। প্রশ্নের মুখে পড়ছে তাঁর নিজের দেশের নিরাপত্তাও। জাতিপুঞ্জের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে হিনা আরো জানান, নীতি ভেঙে পরমাণু অস্ত্রের দিকে বার বার ঝুঁকেছে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বৃহত্তম এই দেশটি। কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে তিনি বলেছিলেন ভারতের হিন্দুত্ববাদী শাসক জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াইকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে এক করে দেখাতে চায় যা উপত্যকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নতির জন্য কাম্য নয়।
শুক্রবার হিনার মন্তব্যর জবাবে ভারতের প্রতিনিধি সীমা পূজানি জানান, পাকিস্তান এখন নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কোনো সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে তাঁদের ধর্মপালন করতে পারেন না। আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা তাঁদের বিশ্বাস ও আচার অনুষ্ঠানের কারণে সংখ্যাগুরুর নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। গত এক দশকে এ ব্যাপারে ৮ হাজারের বেশি অভিযোগ এসেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ।
তিনি আরো জানান, আর্থিক সংকটে জর্জরিত দেশ। কিন্তু সেই সংকট থেকে দেশকে বের করে আনার কোনো প্রচেষ্টা নেই। শুধু ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে চলেছে ইসলামাবাদ। বর্তমন পাক সরকারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার কোন বিষয়টা হওয়াটা উচিত তা নির্ণয় করতেও ব্যর্থ পাক সরকার। পাক সরকারকে তাঁর পরামর্শ, নাগরিক কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করাই তাঁদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, ভারত বিরোধী প্রচার নয়।
কাশ্মীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাক মন্ত্রী ও ওআইসির মন্তব্য অনভিপ্রেত। কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে মন্তব্য করা থেকে দূরে থাকুক তাঁরা। বরং পাকিস্তান কাশ্মীরের বেশ কিছুটা জায়গা জোর করে দখল করে রেখেছে সেটা আগে স্বীকার করুক। পাকিস্তান ওআইসি-র সদস্য রাষ্ট্র। কিন্তু তাদের ন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রীয় মদত দেওয়া বন্ধ করতে এবং ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে দখল তুলে নেওয়ার জন্য কখনও আহ্বান জানায়নি। দক্ষিন এশিয়ায় শান্তি স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে ভারত-পাক সম্পর্কের তিক্ততার প্রশমন প্রয়োজন। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের বৈঠকের পরস্পরের দিকে কাদা ছোঁড়াছুড়ি সে সম্ভাবনাকে আরো হ্রাস করল।
❤ Support Us






