- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- নভেম্বর ১, ২০২৫
পুলিশ ও চোরাচালানকারীদের মধ্যে গুলি যুদ্ধ, সৌদিতে নিহত ভারতীয় যুবক
সৌদি আরব স্থানীয় পুলিশ এবং সন্দেহভাজন চোরাচালানকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে নিহত হয়েছেন এক ভারতীয় যুবক। বিজয় কুমার মাহাতো নামে ২৭ বছর বয়সী ওই যুবক ঝাড়খণ্ডের গিরিডিহ জেলার দুধাপনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। গত ৯ মাস ধরে তিনি একটা বেসরকারি কোম্পানিতে টাওয়ার লাইন ফিটার হিসেবে কাজ করছিলেন।
হুন্ডাই ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনে কর্মরত বিজয় কুমার কোম্পানির এক ঊর্ধ্বতন কর্তার নির্দেশে কাজের জায়গায় উপকরণ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় ওই এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযানে লিপ্ত ছিল সৌদি পুলিশ। পুলিশ চোরাচালান কারীদের উদ্দেশ্য করে গুলি চালায়। সেই সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন বিজয় কুমার মাহাতো। দুর্ঘটনাক্রমে পুলিশের গুলি গিয়ে তাঁর শরীরে আঘাত করে। এরপর তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৪ অক্টোবর তিনি মারা যান।
বিজয় কুমার মাহাতো তাঁর স্ত্রী বাসন্তী দেবীকে হোয়াটসঅ্যাপে একটা ভয়েস বার্তা পাঠান। সেই বার্তায় তিনি স্ত্রীকে জানান পুলিশের সঙ্গে চোরাচালানকারীদের গুলি বিনিময়ে আহত হয়েছেন। পরিবার প্রাথমিকভাবে ভেবেছিল আহত হওয়ার পর তিনি বেঁচে গেছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ অক্টোবর মারা যান বিজয় কুমার। কিন্তু পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর জানত না। বাসন্তী দেবী তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকদের জানিয়েছিলেন, বিজয় কুমারের গুলি লেগেছে। তারা ভেবেছিলেন বিজয়ের চিকিৎসা চলছে। ২৪ অক্টোবর কোম্পানির পক্ষ থেকে পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
বিজয়ের মৃত্যুর ঘটনা জানার পর ডুমরির বিধায়ক জয়রাম কুমার মাহাতো সৌদি আরবে ভারতীয় দূতাবাসে চিঠি লিখে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। চিঠিতে তিনি বলেছেন যে, বিজয়ের মৃত্যুর একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা উচিত এবং শীঘ্রই তাঁর মৃতদেহ ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা উচিত। তিনি শোকাহত পরিবারকে আইনি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য দূতাবাসের প্রতি আহ্বান জানান। ঝাড়খণ্ডের শ্রম বিভাগের কর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিজয় মাহাতোর মরদেহ দেশে আনার জন্য সৌদি আরবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
অভিবাসী নিয়ন্ত্রণকারী সেলের কর্তা শিখা লাকরা নিশ্চিত করেছেন যে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে এবং গিরিডিহ থেকে মৃতদেহ ফেরত পাঠানোর জন্য একট আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পেয়েছে। শিখা লাকরা বলেন, ‘আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ ফিরিয়ে আনার জন্য জেদ্দা পুলিশ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।’
বিজয়ের বাড়িতে স্ত্রী বাসন্তী দেবী, দুই পুত্র ঋষি কুমার (৫) এবং রোশন কুমার (৩), তাঁর বাবা সূর্যনারায়ণ মাহাতো এবং মা সাবিত্রী দেবী রয়েছেন। বিজয়ই ছিলেন বাড়ির একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি। পরিবারের জন্য কোম্পানি ও জেদ্দা পুলিশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
❤ Support Us






