Advertisement
  • এই মুহূর্তে স | হ | জ | পা | ঠ
  • মে ১০, ২০২৫

যুক্তরাজ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানীকে চিনের সওগাত। চাঁদের দুর্গম অঞ্চলের মাটি পৌঁছাল মিল্টন কিনসে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
যুক্তরাজ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানীকে চিনের সওগাত। চাঁদের দুর্গম অঞ্চলের মাটি পৌঁছাল মিল্টন কিনসে

চাঁদের দুর্গম অঞ্চল থেকে সংগৃহীত ধূলিকণার নমুনা পেলেন যুক্তরাজ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অধ্যাপক মহেশ আনন্দ। চিনের সৌজন্যে পাওয়া এই মহাজাগতিক ধুলো চাঁদ ও পৃথিবীর জন্মরহস্য উন্মোচনের আশায় নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

চাঁদের অদেখা দিক থেকে সংগৃহীত প্রথম ধূলিকণার সামান্য অংশ এসে পৌঁছেছে ব্রিটেনের মিল্টন কিনসে। ইতিহাস গড়ে সেই মহাজাগতিক উপাদান হেফাজতের দায়িত্বে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী, অধ্যাপক মহেশ আনন্দ। বিবিসির সূত্রে জানা গেছে, চিনের চাং’ই-৬ মিশনের মাধ্যমে সংগৃহীত এই নমুনা বিশ্বের প্রথম ‘ফার-সাইড চাঁদমাটি’, যা এত দিন মানুষের অধরাই ছিল। এ মাটি এতটাই অমূল্য, এ মাটি এতটাই দুর্লভ যে, অধ্যাপক আনন্দ বলেছেন ‘সোনার ধূলিকণার থেকেও এ জিনিস অনেক অনেক বেশি মূল্যবান’। ইতিমধ্যে বিজ্ঞানীরা এই ধুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে শুরু করেছেন। গবেষনায় চাঁদের উৎপত্তি আর পৃথিবীর প্রাথমিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন হতে পারে।

চাঁদের এই অচেনা দিকটি এত দিন পর্যন্ত প্রায় অজানা ছিল। কারণ, পৃথিবী থেকে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হয় না সেখানে। যোগাযোগের জটিলতার কারণে এর আগে, কোনো দেশ নমুনা সংগ্রহ করতে পারেনি। সেই চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে চিন ২০১৯ ও ২০২৪ সালে পরপর সাফল্যের সঙ্গে চাঁদের আগ্নেয় অঞ্চলের মনস রুমকার বা চাঁদের না-দেখা দিক থেকে মোট ৩.৯ কেজি মাটি সংগ্রহ করে। রোবোটিক বাহু মাটি খুঁড়ে এই উপাদান সংগ্রহ করে, একটি ক্যাপসুলের মাধ্যমে তা পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেয়। চিনের মহাজাগতিক গবেষনায় ইতিহাসের নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়। তার মধ্য থেকে মাত্র ৬০ মিলিগ্রাম মাটি এসে পৌঁছেছে অধ্যাপক আনন্দের গবেষণাগারে। কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে সেই অমূল্য ধূলিকণা। মিল্টন কিনসের ওপেন ইউনিভার্সিটিতে থাকা এই ল্যাবে চলছে পরীক্ষার তুমুল প্রস্তুতি।

বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই ধুলোকণাকে প্রথমে গুঁড়ো করে তাতে লেজার প্রয়োগ করা হবে। তারপর একাধিক ল্যাবে বিশ্লেষণ করা হবে। কণাতে থাকা অক্সিজেন, কার্বন, নাইট্রোজেন ও বিভিন্ন মহাজাগতিক গ্যাসের উপস্থিতি বিশ্লেষিত হবে। ল্যাবের প্রযুক্তিবিদ কায় নাইট বলেন, ‘এই ধুলো স্পর্শ করার আগে বেশ নার্ভাস লাগছে। কারণ এই রকম কিছু দ্বিতীয়বার পাবার সম্ভবণা কম। তাই, এ ক্ষেত্রে ভুলত্রুটির কোনো জায়গা নেই।’ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই কণাতে আগ্নেয়গিরির উদগিরণের ছাপ মিলতে পারে, তা হলে চাঁদের ইতিহাসের একেবারে গোড়ার দিকের কথা জানা যাবে। এমনকি এই গবেষণার ফলে, পৃথিবী ও এক মঙ্গল-আকৃতির গ্রহের সংঘর্ষে সৃষ্টি হয়েছিল চাঁদের, এমন ধারণার পক্ষে প্রমাণ মিলতেও পারে

অধ্যাপক আনন্দ বলেন, ‘এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত সম্মান নয়। এটা আন্তর্জাতিক স্তরে বৈজ্ঞানিক ঐক্যের নিদর্শন। অ্যাপোলো মিশনের সময় যেমন বিশ্ব একজোট হয়েছিল, এখন চিনের হাত ধরেও সেই একই ঐতিহ্য এগিয়ে চলেছে। আমি আশাবাদী, চিনের সাথে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সূচনা হবে। আমি চাই অন্য দেশগুলোও এই ধারা অনুসরণ করুক।’ চিন এই প্রথমবার আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের হাতে তাদের মহাকাশ মিশনের নমুনা তুলে দিল। রাশিয়া, জাপান, পাকিস্তান আর ইউরোপের আরো ৬ জন বিজ্ঞানীর সঙ্গে, এক অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আনন্দ এই মাটি গ্রহণ করেন। তারপর নিজের হাতব্যাগে ঢুকিয়ে তা নিয়ে আসেন ব্রিটেনে। আনন্দ বলেন, ‘এই মাটির মধ্যে না জানি লুকিয়ে রয়েছে কত অজস্র প্রশ্নের উত্তর। এখন থেকে এক বছর আমরা সেসব উত্তর খুঁজতে থাকবো, খুঁজতেই থাকবো।’ প্রসঙ্গত, এই গবেষণার জন্য অধ্যাপক আনন্দের দলকে এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষণের প্রক্রিয়ায় ধূলিকণা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এই নমুনার বৈশিষ্ট্য পূর্ববর্তী নমুনাগুলোর চেয়ে আলাদা, এতে বেশি পরিমাণ প্ল্যাজিওক্লেস আর কম অলিভাইন খনিজ রয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!