Advertisement
  • বি। দে । শ
  • এপ্রিল ২৩, ২০২৬

নিয়ম লঙ্ঘন। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন, ইজরায়েল গ্রিসের জাহাজে হামলা ইরানের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নিয়ম লঙ্ঘন। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন, ইজরায়েল গ্রিসের জাহাজে হামলা ইরানের

কদিন আগেই হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের পণ্যবাহী জাহাজ আটক করেছিল মার্কিন নৌসেনা। হরমুজে নিজেদের জাহাজে হামলার ৪৮ ঘণ্টা পরেই পাল্টা জবাব দিল ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের দুটি জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলি আটক করে। জাহাজগুলির একটাতে লাইবেরিয়ার এবং অন্যটিতে পানামার পতাকা ছিল। ইরানের দাবি হরমুজ প্রণালীতে যাতায়াতের নিয়ম লঙ্ঘন করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গ্রিসের একটা জাহাজেও হামলা করা হয়েছে, তবে সেটা আটক করা হয়েছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।

রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের একটা জাহাজে হামলা চালায়। হামলার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী জাহাজটি আটক করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি চিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম নিয়ে ইরানের বন্দরের দিকে আসছিল। প্রথমে হরমুজ প্রণালীর কাছে জাহাজটিকে এগিয়ে না আসার জন্য সতর্ক করেছিল মার্কিন নৌসেনা। কিন্তু সতর্কবার্তা অমান্য করে জাহাজটি এগিয়ে আসায় মার্কিন নৌসেনা জাহাজের ইঞ্জিনে গুলি চালিয়ে ফুটো করে দেয়। এরপর সেটি আটক করে। সেন্টকম জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

জাহাজটি আটক করার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, এই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের দুটি জাহাজে হামলা চালিয়ে সে দুটি আটক করছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। মেরিন ট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি নৌকার সাহায্যে ওমানের কাছে এমএসসি–ফ্রান্সেসকা এবং ইপামিনোডস নামে দুটি জাহাজকে ঘিরে ফেলে। তারপর গুলি চালায় এবং পরে জাহাজ দুটি আটক করে। পরে হরমুজের কাছে আরও একটা গ্রিসের আটক করে। জাহাজগুলিতে কী ছিল সে সম্পর্কে অবশ্য বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি জাহাজ দুটিক ইহুদি শাসনের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিহিত করেছে। তৃতীয় জাহাজ সম্পর্কে আর কোনও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

এদিকে, বুধবার ইরান সংসদে হরমুজ সংক্রান্ত ১২ দফা পরিকল্পনা পেশ করেছে। অনুমোদন পাওয়ামাত্রই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। এই ১২ দফা পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে যে কোনো ইজরায়েলি জাহাজ চলাচল বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। ইরান তার মিত্রদের জাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

ইরান বলেছে, যে কোনো দেশ পারস্য উপসাগরের অস্তিত্ব স্বীকার না করলে, তাদের জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। ইরান হরমুজে ইরানি রিয়ালে টোল আদায়েরও প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের সংসদে উত্থাপিত একটা বিল অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর নিয়ম অমান্যকারী জাহাজগুলিকে প্রথমে বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং এরপর সেগুলির ওপর ২০ শতাংশ জরিমানা করা হবে।‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!