- বি। দে । শ
- জুলাই ৩০, ২০২৬
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনে ইরানের পাশে চিন, ৭০ মিলিয়ন ডলারের সামরিক চুক্তি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে টানা যুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তেহরানের পাশে দাঁড়াচ্ছে চিন। ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। তেহরানের সঙ্গে ৭০ মিলিয়ন ডলারের সামরিক চুক্তি করতে সম্মত হয়েছে বেজিং। ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত করতে চলেছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কিছু ক্ষেপনাস্ত্র তেহরান পৌঁছনোর কথা রয়েছে।
চুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চিনের তৈরি কিউডব্লিউ–১২ এবং এফএন–১৬ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপকসহ ৩০০ থেকে ৪০০টি বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জন্য বেজিংয়ের সঙ্গে চুক্তি করেছে তেহরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের এটা স্বল্প পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বৃহত্তম প্রচেষ্টা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাত সামরিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ধারাবাহিক বিমান হামলা থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে ইরানের দুর্বলতা প্রকাশ প্রকট করে তুলেছিল। সামরিক চুক্তিটি হংকংভিত্তিক সংস্থা ঝংচিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সংস্থাটি ইরান ও চিনা সরবরাহকারীর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করবে।
টানা কয়েকমাসের লড়াইয়ের ফলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো বিপর্যস্ত হওয়ার পর ইরান তার বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন ও আধুনিক করতে চাওয়ায় এই চুক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল বারবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে এবং ইজরায়েলের ওপর একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে যে, উন্নত যুদ্ধবিমান এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের বিরুদ্ধে স্থায়ী সামরিক স্থাপনাগুলি রক্ষা করা কতটা কঠিন। চুক্তিটি সম্পন্ন হলে শত শত ম্যানপ্যাড সরবরাহের ফলে ইরানের স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ভান্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে তেহরান ও বেজিংয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্কও স্পষ্ট হবে।
চিন অবশ্য রয়টার্সের এই প্রতিবেদন খারিজ করে দিয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহে কোনও ধরনের চুক্তির কথা অস্বীকার করেছে। চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চিন শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং সংঘাতের অবসানে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা পালন করে আসছে।’ তবে সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিক চালানগুলি পশ্চিম চিনের উরুমকি থেকে রওনা হয়ে পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ইরানে প্রবেশ করবে। তবে, যাত্রাপথের শেষ অংশটি আকাশপথে হবে, নাকি স্থলপথে হবে, তা প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে, পাকিস্তান অস্ত্র পরিবহনে কোনও ভূমিকা পালনের কথা অস্বীকার করেছে।
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এগুলি দ্রুত মোতায়েন করা যায়, ছোট দল দ্বারা পরিচালিত হয় এবং ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করা যায়। ফলে এক জায়গায় স্থায়ী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় এগুলি শনাক্ত করা ও ধ্বংস করা অনেক বেশি কঠিন।
কিউডব্লিউ–১২ এবং এফএন–১৬ হল কাঁধে বহনযোগ্য, ইনফ্রারেড নির্দেশিত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা নিচু দিয়ে উড়ন্ত বিমান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোনকে বাধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই ক্ষেপনাস্ত্রর গতিশীলতা বাহিনীকে সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি কেন্দ্র এবং অন্যান্য কৌশলগত স্থানের চারপাশে দ্রুত মোতায়েন করার সুযোগ করে দেবে, যেগুলি সংঘাতের সময় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
❤ Support Us







