- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ৭, ২০২৩
নওশাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারিণীর তৃণমূল যোগ।বেকায়দায় শাসকগোষ্ঠী
অভিযোগ ওঠার পরমুহূর্তেই আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী এবং সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছিলেন “এটা ষড়যন্ত্র।” বাস্তবে কী সেটাই হল? কেননা নওশাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগ যিনি করেছেন তিনি আর কেউ নয়, তিনি হলেন ডোমকলের তৃণমূল যুবনেত্রী। পাশাপাশি তিনি রেশন ডিলারদের সামলান, এখন এমনি শোনা যাচ্ছে।
শনিবার পঞ্চায়েত ভোট। তার ঠিক তিন দিন আগে বুধবার নিউ টাউন থানায় ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা এবং ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এক তরুণী। তাঁকে ‘সহায়তা’ করেছিলেন সল্টলেক পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল দলের তরফে ভাঙড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সব্যসাচী দত্ত। ওই অভিযোগকে গোড়াতেই ‘ষড়যন্ত্র’ বলে পাল্টা অভিযোগ করেছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। এবার ওই অভিযোগকারিণী তরুণীর ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ সামনে এল। তার পরেই নওশাদ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু তাঁর অনুগামীরা সোজাসুজিই বলছেন, দুইয়ে-দুইয়ে চার মিলে গেল! প্রমান হয়ে গেল তৃণমূল তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ভাবে পেরে না উঠে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নওশাদের সামাজিক সম্মানহানির কাজে নেমে পড়েছে।
এই বিষয় তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদের ডোমকল শহর তৃণমূল কংগ্রেসের শেষ যে কমিটি দলের তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল, তাতে মোট পাঁচ জন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সেই পাঁচ জনের চার নম্বরে নাম ছিল নওশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগকারিনী তরুণীর। জানা গিয়েছে, দলের তরফে তিনি রেশন ডিলারদের সংগঠন ও সেই সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় দেখাশোনা করতেন। ওই তরুণী এবং তৃণমূল যুবিনেত্রীর অভিযোগ ছিল, বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে একটি অফিসে নওশাদ তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন। তার পরে একাধিক বার বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করেন বলে দাবি তাঁর। অভিযোগকারিণী ও তাঁর ভাই গিয়ে বুধবার নিউটাউন থানায় নওশাদের বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁরা থানায় পৌঁছনোর খানিকক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফেরা সব্যসাচী দত্ত।
ওই তরুণীর পরিচয় প্রকাশ পেতেই তৃণমূল খুব স্বভাবতই এই ঘটনাটিকে ‘রাজনীতি’র বাইরে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই এখন দেখাতে চাইছে। তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকার, যিনি ডেভিড নামেই পরিচিত তিনি বলেছেন, ‘‘কিছু না হলে তো কেউ অভিযোগ জানাতে যায় না! সম্পর্কের ক্ষেত্রে দলীয় ভেদাভেদ দেখা উচিত নয়। নিশ্চয়ই কিছু হয়েছে।’’ তৃণমূলের অন্যান্য নেতাও একই কথা বলছেন। তাঁদের মতে, বিরোধী পক্ষের হলেই তো আর কারও অভিযোগের যথার্থতা ভুল হয়ে যায় না। সমস্ত কিছুর মধ্যে রাজনীতি টেনে আনা হবেই বা কেন!
তবে ভয়ে হোক চক্রান্ত ফাঁস হওয়ার আশংকায় হোক এখন বিষয়টিকে তৃণমূল নেতারা অরাজনৈতিক বললেও বিষয়টির মধ্যে প্রথম থেকেই রাজনীতি এসে গিয়েছিল । কারণ, অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে করা হয়েছে তিনি একজন রাজনীতিক নেতা। এখন দেখা যাচ্ছে, অভিযওগ যিনি করেছেন, তিনিও একজন রাজনীতিক নেত্রী। তবে অভিযোগকারিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কিছুই বলেননি নওশাদ। ওই অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে নওশাদ শুধু বলেছিলেন, তিনি ওই অভিযোগের জবাব সঠিক সময়ে দেবেন।
এদিকে বৃহস্পতিবারই এই ইস্যুতে নওশাদ সিদ্দিকীর পক্ষ সমর্থন করে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‘এই সব্যসাচী দত্তকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কামদুনির আন্দোলন ভাঙতে পাঠিয়েছিলেন। এখন যখন ভাঙড়ে আরাবুল ইসলাম আর শওকত মোল্লা মিলে নওশাদকে ঠেকাতে পারছেন না, তখন এই নোংরা চিত্রনাট্য নিয়ে উনি নেমেছেন!’’
পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে নওশাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে এই মামলা নিয়ে তৃণমূলের মধ্যেও মতপার্থ্যক রয়েছে। শাসক দলের একটি অংশের মনে করছেন, এর ফলে উল্টে নওশাদ আরও বেশি ‘রাজনৈতিক গুরুত্ব’ পেয়ে গেলন। আবার কেউ বলছেন, নওশাদের উপর এ ভাবে ‘চাপ’ তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশিই তাঁকে ‘বার্তা’ দেওয়া হচ্ছে যে, শাসক দলের সঙ্গে থাকলে এ সব ‘গোলমাল’ থাকবে না। অনেকেই আবার মনে করছেন, বাগে আনতে না-পেরে নওশাদকে জোড়াফুল শিবিরে নেওয়ার জন্যই বিভিন্ন রাস্তা নেওয়া হচ্ছে। তার উপরে বৃহস্পতিবার অভিযোগকারিনীর ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ সামনে আসার পর সেই তত্ত্ব আরও জোরাল হয়েছে বলেই মনে করছেন তৃণমূলের একাংশ।
তবে নওশাদ সিদ্দিকী এতো সজোহে তৃণমূলের কাছে মাথা নোট করার পাত্র যে নয় সেটা তিনি আগেই জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “বিপুল পরিমান টাকা, অনেক পদের লোভ দেখিয়ে তৃণমূল আমায় দলে টানার চেষ্টা করেছিল। সব তথ্য আমার কাছে আছে। এসব প্রকাশ করলে অনেকের চাকরি চলে যাবে।” এই প্রসঙ্গে তিনি তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের নামও বলেছিলেন। তবে রাজনীতিতে কিছুই অসম্ভব নয় সেটা ভারতীয় রাজনীতির নেতারা দেখিয়ে দিয়েছেন। তাই নওশাদ তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ কী ভাবে মোকাবিলা করেন সেটাই এখন দেখার। তবে আইএসএফ কর্মীরা বলছেন, “আমাদের প্রথম কাজ পঞ্চায়েত নির্বাচনটা ঠিক ভাবে করা। তার পর এই বিষয়টা বুঝে নেওয়া যাবে। তৃণমূল চাইছে নির্বাচনের আগে আমাদের ওপর নানান চাপ সৃষ্টি করে আমাদের বিভ্রান্ত করতে, কারণ রাজনৈতিক ভাবে ওরা আমাদের সঙ্গে পেরে উঠছে না।”
❤ Support Us






