- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- ডিসেম্বর ১০, ২০২২
নিয়ম রক্ষার ম্যাচে ২২৭ রানে জিতে মান বাঁচাল ভারত।দ্রুততম দ্বিশত রানের বিশ্ব রেকর্ড ঈশান কিষানের।
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত নিয়ম রক্ষার তৃতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রানের পাহাড় গড়ল ভারত(৪০৯/৮)। দ্বিশত রান পেলেন ঈশান কিষান। প্রায় তিন বছর পর শতরান করলেন কিং কোহলিও।
পরপর ২ ম্যাচে হেরে আগেই সিরিজ হাতছাড়া হয়েছিল ভারতের। বাংলাদেশের মতো দলের কাছে হোয়াইট ওয়াশ হতে হবে না তো ? আশঙ্কা একটা ছিলই। হেলায় সেই আশঙ্কা উড়িয়ে মান বাঁচাল ভারত। বাংলাদেশকে শেষ একদিনের ম্যাচে ২২৭ রানে উড়িয়ে ব্যবধান কমাল ‘মেন ইন ব্লুজ’রা।একদিনের ক্রিকেটে এটাই সবথেকে বড় ব্যবধানে হার বাংলাদেশের।
ভারতের জয়ের নায়ক ঈশান কিশান। চোট পাওয়া রোহিত শর্মার জায়গায় এদিন প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে জ্বলে উঠলেন ভারতের এই ওপেনার। তাঁর ১৩১ বলে ২১০ রানের ইনিংসই ভারতকে বিশাল রানে পৌঁছে দেয়। ঈশানকে যোগ্য সহয়তা করেন বিরাট কোহলি। ৯১ বলে তিনি করেন ১১৩। তৃতীয় উইকেটে ২৯০ রানের এক বিশাল পার্টনারশিপ গড়ে ভারতকে মাত্র ৩৬ ওভারে তিনশো রানের গণ্ডি পার করে দেন তারাই। ২৪ চার ও ১০ টি ছয়ের সাহায্যে ঈশান কিষান ১৩১ বলে ২১০ রান করে ক্রিস গিলের ২০১৫ র বিশ্বকাপে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে করা দ্রুততম দ্বিশত রানের রেকর্ড ভাঙেন। গেইল ১৩৮ বলে ২০০ করেছিলেন আর ঈশান মাত্র ১২৬ বলে ২০০ রানের গণ্ডী স্পর্শ করেন। অপরদিকে বিরাট কোহলি ১১ টা চার ও ২ টি ছয়ের সাহায্যে ৯১ বলে ১১৩ রান করে একদিনের ক্রিকেটে ৪৪ টি শতরান করে পণ্টিংকে টপকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শতরানের মালিক হলেন।এই দুজনের ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৪০৯ রান তোলে ভারত। জবাবে ৩৪ ওভারে ১৮৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
এদিন টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান লিটন দাস। শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে ওপেন করতে নামেন ঈশান কিশান। পঞ্চম ওভারে মেহদি হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হন শিখর ধাওয়ান (৩)। মেহদি হাসানের বলে জীবন পেয়ে ঈশানের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে টেনে নিয়ে যান কোহলি। ৪৯ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ঈশান। সেঞ্চুরি আসে ৮৫ বলে। সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর বাংলাদেশ বোলারদের ওপর রীতিমতো তান্ডব চালান ঈশান কিশান। মাত্র ১২৬ বলে ২০০ রান পূর্ণ করেন। অর্থাৎ তাঁর পরের ১০০ রান আসে মাত্র ৪১ বলে।
শেষ পর্যন্ত ১৩১ বলে ২১০ রান করে তাস্কিন আমেদের বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ঈশান। ২৪টি চার ও ১০টি ছক্কার সাহায্যে তিনি এই রান করেন। ঈশান আউট হওয়ার পরপরই ফিরে যান শ্রেয়স আয়ার (৩)। এরপর ৮৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কোহলি। লোকেশ রাহুল (৮) রান পাননি। ২০ বলে ১৭ রান করে আউট হন অক্ষর প্যাটেল। ২৭ বলে ৩৭ রান করেন ওয়াশিংটন সুন্দর। বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন সাকিব আল হাসান, এবাদত হোসেন ও তাস্কিন আমেদ।
বিশাল রানের লক্ষ্যমাত্রার সামনে চাপ নিতে পারেনি বাংলাদেশ। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলেই এনামুল হককে (৮) তুলে নেন অক্ষর প্যাটেল। অধিনায়ক লিটন দাসও (২৬ বলে ২৯) বড় রান করতে পারেননি। অস্টম ওভারে মহম্মদ সিরাজের চতুর্থ বলে তিনি আউট হন। মুশফিকুর রহিমও (৭) রান পাননি। ১২ ওভারের মধ্যে ৭৩ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সাকিব আল হাসান ও ইয়াসির আলি। ২০ তম ওভারের তৃতীয় বলে ইয়াসিরকে (২৫) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন উমরান মালিক। ৩ ওভার পরেই সাকিবকে (৫০ বলে ৪৩) ফেরান কুলদীপ যাদব। ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে আউট হন মাহমুদুল্লা। ২৬ বলে তিনি করেন ২০। আফিফ হোসেন ৮ রান করে শার্দুল ঠাকুরের বলে আউট হন। শেষ পর্যন্ত ৩৪ ওভারে ১৮৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ভারতের হয়ে ৩ উইকেট নেন শার্দুল ঠাকুর। ২টি করে উইকেট অক্ষর প্যাটেল ও উমরান মালিকের।
❤ Support Us







