Advertisement
  • বি। দে । শ
  • এপ্রিল ২৪, ২০২৬

মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও, লেবাননে হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইজরায়েলের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও, লেবাননে হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইজরায়েলের

আরও তিন সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হল ইজরায়েল ও লেবানন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোওয়াদ উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকে হিজবুল্লাহর কোনও প্রতিনিধি ছিলেন না।

ইজরায়েলি হামলায় একজন সাংবাদিকসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার একদিন পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, ‘‌খুব ভাল আলোচনা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলকে হিজবুল্লাহর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।’‌ ট্রাম্প আরও বলেন যে, তিনি শীঘ্রই ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ জানাতে চান। ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, এই তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি হওয়ার দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।

বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ইজরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এবং লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা উপস্থিত ছিলেন। ইজরায়েলি ও লেবানিজ রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে আলোচনার পর, ১৭ এপ্রিল ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। আগামী ২৭ এপ্রিল, রবিবার সেই যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা ছিল। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হিংসা অনেকটাই কমেছে। কিন্তু দক্ষিণ লেবাননে হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সেখানে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী একটা বাফার জোন তৈরি করেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, সাম্প্রতিক হামলায় তিনজন নিহত এবং এক শিশুসহ আরও দুজন আহত হয়েছেন। বুধবার সাংবাদিক আমাল খলিলও নিহত হন, যা যুদ্ধবিরতির পর থেকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন ছিল।

বৈঠকে লেবানন ইজরায়েলের কাছে সেনা প্রত্যাহার, বন্দিদের মুক্তি এবং সীমান্ত স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইজরায়েল চায় লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে তাদের সঙ্গে কাজ করুক। লেবানন সরকার গত এক বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে এই সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করে আসছে। মাঝে কিছুদিন সংঘর্ষ বন্ধ থাকার পর ইজরায়েল ইরান আক্রমণ করার পর ২ মার্চ আবার সংঘাতশুরু হয়। হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইজরায়েলের ওপর হামলা চালায়। তারপর থেকে প্রায় ২৫০০ জন নিহত হয়েছেন। ইজরায়েল তার উত্তরাঞ্চলকে হামলা থেকে রক্ষা করার জন্য দক্ষিণ লেবাননের ৫–১০ কিলোমিটার এলাকা দখল করেছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছেন, লেবানন সীমান্তে অভিযান থামানোর কোনো প্রশ্নই নেই এই মুহূর্তে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকেও তিনি ‘শতভাগ সফল’ বলতে নারাজ। তাঁর কথায়, আগের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনও অনিশ্চয়তায় মোড়া। বিশেষত, হিজবুল্লাহর তরফে রকেট হামলা অব্যাহত থাকলে পাল্টা জবাব দিতে পিছপা হবে না ইজরায়েল। তাঁর হুঁশিয়ারি ‘যেখানে হুমকি, সেখানেই প্রতিরোধ।’ একই সঙ্গে লেবাননের  প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ড্যানন। তাঁর মতে, লেবানন সরকার আদৌ দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। হেজবুল্লাহর ওপর লেবানন সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। এদিকে ইজরায়েলি সেনার দাবি, লেবানন থেকে ছোড়া একাধিক রকেট মাঝ আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। এর জেরে সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা অঞ্চলে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!