- খাস-কলম প্রচ্ছদ রচনা
- অক্টোবর ৩০, ২০২৩
মহাতামসিক সর্বনাশ আসন্ন। পশ্চিম এশিয়ায় লম্বা যুদ্ধের ছায়া
চিন, রাশিয়া, ইরান চুপ করে বসে থাকবে না। ভারত আলটপকা মন্তব্য করেও সরে গেল, মানতে হল ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব। রাষ্ট্রসঙ্ঘ কার্যত দুভাগ। বড়ো অংশ আক্রান্ত নিঃসহায় গাজার পাশে। ক্ষুদ্রাংশ ভোট না দিয়ে চুপ থাকল। এ কীসের লক্ষণ ? বৃহত্তর, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি?
চিত্র সৌজন্য রয়টার্স
৭ অক্টোবর, ইসরাইলে হামাসের আক্রণণে নিহতের সংখ্যা ছিল ১২৩৩। কিংবা একটু বেশি। পাল্টা ইসরাইলি সেনার হামলায় সমুদ্র ঘেঁষা গাজায় এপর্যন্ত গণহত্যার শিকার ৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনী। সশস্ত্র যোদ্ধাদের মৃত্যুর পরিধি কতটা ব্যাপক, তা হামাস কিংবা পিএলও সূত্র জানায়নি।সম্ভব নয় জানানো, দুর্দিনে মৃত্যুর হিসেব রাখে কে ? দুপক্ষই কেবল যুদ্ধ, হুঙ্কার, প্রতিহুঙ্কার জারি রেখেছে। মাঝে মাঝে ফিলিস্তিনি যোদ্ধা কিংবা তাঁদের লেবাননি সমর্থকরা ইসরাইল ভূখন্ডে প্রবেশ করলেও জলে স্থলে এবং আকাশ পথে ইসরাইলি হানা তাঁরা রুখতে পারেনি। প্রতিশোধকামী আর আগ্রাসী ইসরাইলের হামলার কবল থেকে নিরীহ শিশু, মহিলা, নিরস্ত্র নাগরিক কারো রেহাই নেই। রক্তে ভাসছে জলাঞ্চল আর স্থলাঞ্চল। রাস্তায়, হাসপাতালে শবদেহের ভিড়, শেষকৃত্যের লোকজনও আতঙ্কগ্রস্ত।ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিহুর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, হামাসকে খতম করবেন। শুধু হুমকিতেই সীমাবদ্ধ নয় তাঁর পরিকল্পনা, লেবানন ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সম্প্রসারিত করবেন তাঁর রাষ্ট্রসীমা, আল্ আকসা মসজিদে প্রার্থনা বন্ধ হয়ে যাবে, জেরুজালেমে স্থানান্তরিত হবে রাজধানী।গত প্রেসিডেন্ট ভোটের আগে, জো বাইডেন বলেছিলেন, তিনি ইসরাইলের যাবতীয় পরিকল্পনাকে সমর্থন করছেন। ভোটে জেতার পরও তাঁর ইসরাইল নীতি বদলায়নি।
প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর এরকম রক্ত খেকোদের দেখা যায়নি আর। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরণতি, ওসমান তুর্কির কব্জি থেকে মুক্তি পেল সমূহ আরব রাষ্ট্র আর মধ্য এশিয়ায় বিস্তূত ভূখন্ড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে এসব অঞ্চল, এসব দেশ ছাড়ল পশ্চিমি শক্তিজোট। এবারের রক্তক্ষয়ের পরিণতি কী হবে ? চিন ইরান আর সৌদির নিরক্ত উত্থান এবং ইসরাইল আর ফিলিস্তিনের সহযোগিতাময় স্থায়িত্ব। সূচনায় উষার কষাঘাত শোনা যাচ্ছে। মৃত্যুর পর মৃত্যু পেরিয়ে, ছায়া পূর্বগামিনী হয়ে ওঠার প্রস্তুতি শুরু
ইসরাইলে হামাসের অতর্কিত হামলা ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমকে উসকে দিয়েছে। রাষ্ট্রহিসেবে ইসরাইলের আত্মপ্রকাশের পর এত বড়ো আক্রমণ আর এরকম ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি ‘তথাকথিত ইহুদি রাষ্ট্র’। প্রযুক্তি আর বিজ্ঞান চর্চায় অত্যাধুনিক। মানসিকতায় পুরোপুরি অতীতমুখী। মার্কিন ও বৃটিশ অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণে ইহুদি বণিকদের ভূমিকা প্রবল। এমন কোনো সরকার, কখনো ওয়াশিংটনে আসেনি, যে ইহুদিদের অধিপত্যকে অস্বীকার করে স্বাধীন নীতি গ্রহণ করেছে। ব্যতিক্রম ছিলেন বারাক ওবামা, তাঁর আমলেই ফিলিস্তিনকে অর্ধরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। চাপে পড়ে তেল আবিভ তা মেনে নিয়েছিল। কিন্তু যাঁর হাতে ন্যস্ত হয় ফিলিস্তিনের শাসন, আরাফতের মৃত্যুর পর, তিনিও স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠলেন।মাহমুদ আব্বাস আরাফতের মতো ব্যক্তিত্বশীল নন, বিশ্বময় পরিচিতিও নেই। বছরের পর বছর জুড়ে ক্ষমতা দখল করে বসে আছেন, নির্বাচনের স্যাঁতস্যাঁতে রাস্তা এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দুর্বলতার জন্য সশস্ত্র আল হামাস বলবান হয়ে ওঠে। পশ্চিমি দেশগুলোতে, পশ্চিম এশিয়ায় উড়ে বেড়ায়, পিলওকে কোণঠাসা করতেই একসময় আল্ হামাসের প্রতিষ্ঠায় মদত দেয় ইসরাইলি গোয়েন্দারা। গুজবটি নির্ভুল নয় হয়তো বা, সোভিয়েত রাশিয়ার দখলদারিকে খতম করতে যেমন আলকায়দার জন্ম। বিন লাদেনকে লেলিয়ে দিয়েছিল আমেরিকা ও তার মিত্রশক্তি, তেমনি আরাফতের ভিতে ফাটল তৈরি করতে ফিলিস্তিনের সুন্নি শক্তিধর আহমেদ ইয়াসিনের পাশে দাঁড়ায় তেল আবিভ।যখন তারা বুঝতে পারল, অস্ত্র আর অর্থ হাতে পেয়ে, ইয়াসিনের আল হামাস— ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন হয়ে উঠেছে, তখনই না চিকিৎসক, ভয়ঙ্কর ইয়াসিনকে খতম করে দেয় ইসরাইলি বাহিনী। হামাস তখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশে, দেশে, তার বাহিনীতে যোগ দিয়েছে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি -অফিলিস্তিনি যোদ্ধারা। হিজবুল্লাহর নাসরুল্লাহর নেতৃত্বকে সরিয়ে তারাই গাজা স্ট্রিপের সর্বেসর্বার চেহারা নেয়। প্রায়ই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে। ইসরাইলের সর্বশক্তিমান গোয়েন্দা শক্তি মোসাদও টের পায়নি, আহত পিড়ীত, রক্তাক্ত গাজা স্ট্রিপে প্রায় দুর্ভেদ্য প্রতিরোধের শক্তি, আক্রমণের ক্ষমতায় বিছিয়ে দিয়েছে আল হামাস। সুড়ঙ্গের পর সুড়ঙ্গ দিয়ে নির্মাণ করেছে আত্মগোপনের রাস্তা। ২৩ দিনের টানা ইসরাইলি হামলার সম্মুখীন হয়েও তারা রণক্ষেত্র ছাড়েনি। লড়ছে। লড়বে। পরিকল্পিত শক্তি নিয়ে ঢুকে পড়ছে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে। ইসরাইল মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এতদিন সে ছিল আগ্রাসী, আক্রমণাত্মক। এখন তাকে রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহন করতে হচ্ছে। নব্য ঔপনিবেশিকতা তার অন্তর আর বাহিরকে কি আদৌ রক্ষা করতে পারবে ? পশ্চিমি নেতাদের ঘন ঘন তেল আবিভে ছুটতে হচ্ছে। তাঁরা আশ্বাস দিচ্ছেন। যা জোরালো নয়, চক্ষু লজ্জার খাতিরে সম্মুখ সমরে আপাতত সংশয়াচ্ছন্ন। ঝুঁকি অনেক। চিন, রাশিয়া, ইরান চুপ করে বসে থাকবে না। ভারত আলটপকা মন্তব্য করেও সরে গেল, মানতে হল ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব। রাষ্ট্রসঙ্ঘ কার্যত দুভাগ। বড়ো অংশ আক্রান্ত নিঃসহায় গাজার পাশে। ক্ষুদ্রাংশ ভোট না দিয়ে চুপ থাকল। এ কীসের লক্ষণ ? বৃহত্তর, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি ?

চিত্র সৌজন্য রয়টার্স
ফিলিস্তিন আন্তর্জাতিক, দুর্বোধ্য, বর্বরোচিত রাজনীতির ট্র্যাজিক রঙ্গমঞ্চ হয়ে উঠেছে। অমানিশা তাড়া করছে সকাল, দুপুর আর অস্তাচলের পরবর্তী প্রতিটি মুহূর্তকে। একি শুধু ফিলিস্তিনকে ? রেহাই কোথায় ইসরাইলের, ওখানকার সাধারন আর মুক্তমনা গণচিত্তের ? ভয়ের কবলে গোটা পশ্চিম এশিয়া নয় কি? বলা বাহুল্য নিখিল বিশ্ব ! প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর এরকম রক্ত খেকোদের দেখা যায়নি আর। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরণতি, ওসমান তুর্কির কব্জি থেকে মুক্তি পেল সমূহ আরব রাষ্ট্র আর মধ্য এশিয়ায় বিস্তূত ভূখন্ড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে এসব অঞ্চল, এসব দেশ ছাড়ল পশ্চিমি শক্তিজোট। এবারের রক্তক্ষয়ের পরিণতি কী হবে ? চিন ইরান আর সৌদির নিরক্ত উত্থান এবং ইসরাইল আর ফিলিস্থিনের সহযোগিতাময় স্থায়িত্ব।বিষয়টি কষ্টকল্পিত নয়। অবশ্যম্ভাবী। সূচনায় উষার কষাঘাত শোনা যাচ্ছে। মৃত্যুর পর মৃত্যু পেরিয়ে, ছায়া পূর্বগামিনী হয়ে ওঠার প্রস্তুতি শুরু। যতদ্রুত সম্ভব যুদ্ধ থামানো দরকার। ঋষি-বাইডেনের ইসরাইল সফর, আকাশে ন্যাটোর যুদ্ধ বিমান, জল-স্থলে ইরাণের গোপন কৌশল প্রলম্বিত হওয়া মানেই আরেক মহাতামসিক সর্বনাশ।মুক্তবুদ্ধি আর বিবেক, চিত্ত আর বিত্ত, আশা করি শিগগিরি দুনিয়া জুড়ে শান্তি কল্যানের আহবানে, কলরবে মেতে উঠবে।
❤ Support Us








