- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২, ২০২৬
ব্যক্তি নির্ভরতায় চলতে পারেনা দল, দিলীপ মন্তব্যে কীসের ইঙ্গিত ?
কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে স্বল্প সময়ের বৈঠক। তার পরে আবার বঙ্গ রাজনীতিতে চেনা ছন্দে ফিরলেন দিলীপ ঘোষ। রোজের মতো শুক্রবারও ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণ করতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বললেন, ‘কোনও দল একজন ব্যক্তির উপরে নির্ভর করে চলতে পারে না।’ প্রসঙ্গত সাংবাদিকরা রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে একটি প্রশ্ন করার পর তার জবাবে এই মন্তব্য করেন দিলীপ। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনীতিকরা বলছেন, ‘এটাই সেই চেনা দিলীপ ঘোষ’। তবে দলেরই অন্য একটি গোষ্ঠীর বক্তব্য, ‘দিলীপ ঘোষ কিন্তু দলে পদহীন নেতা।’
শুক্রবার সংবাদমাধ্যম তাঁকে প্রশ্ন করে, ‘তবে কি এ বার দলের শীর্ষ নেতারা বুঝতে পারলেন যে একক ভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে দিয়ে বাজিমাত করা সম্ভব নয়?
এই প্রশ্নের উত্তরে নিজস্ব ও পরিচিত স্টাইলে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘কোনও পার্টি একটি ব্যক্তির উপরে নির্ভর করে চলতে পারে না। অন্যরাও রয়েছেন। কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের অভিজ্ঞতা বেশি, পরিচিতি বেশি। তাঁদের গুরুত্ব দিতেই হবে। একজন বা দু’জন পশ্চিমবঙ্গের মতো একবড় রাজ্য জিতিয়ে দেবেন, তা সম্ভব নয়।’ চলতি বছরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে দিলীপের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কি শুভেন্দুর ক্ষমতা কমছে? এই প্রশ্নও উঁকি দিচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
কিন্তু গত আট-নয় মাস ধরে কিন্তু পরিস্থিতিটা অন্য রকম ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সভায় অনুপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্য বিজেপিতেও তাঁর কোনও পদ এই মুহূর্তে নেই। তার পরেও তাঁকে শেষ পর্যন্ত কেন স্বীকার করতে হলে শীর্ষ নেতৃত্বকে?
এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ বলেন, ‘দল এক্সপেরিমেন্ট করে। তখন নির্বাচন লড়তে হয়নি। বিভিন্ন মুখকে আমরা সামনে আনি। মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখি। তা দেখার পরে এখন দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সবাইকে নিয়েই লড়তে হবে। আমার মনে হয় সেই প্রক্রিয়াই চলেছে।’
দিলীপ ঘোষ বরাবরই সোজা কথার মানুষ। কোনও রাখঢাক তাঁর কোনও কালেই ছিল না, এখনও নেই। তবে তিনি যে ভাবে শুভেন্দু অধিকারী সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন তাতে স্পষ্ট হচ্ছে দলের ওপর শুভেন্দুর রাস আলগা হতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি ন্যাশনাল লাইব্রেরি হলে অটল বিহারী বাজপেয়ীর জন্ম দিনের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু কেন বিজেপিতে এসেছেন, তৃণমূল কেন ছেড়েছেন, কেউ কেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসেন, তিনি সব ছেড়ে বিজেপিতে এসেছেন এসব কথা নিজের ভাষণে বলার পর বলতে উঠে বিজেপি রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় বলে দেন পুরনো ফুল নিয়ে আলোচনা নয়, নতুন ফুলের কর্মসূচিতে গিরুত্ব দিতে হবে। এছাড়াও বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, তৃণমূলের কোনও নেতা-মন্ত্রীকে নাম ধরে ব্যক্তিগত কুৎসা সভা সমিতিতে করা যাবে না। এটা যে শুভেন্দুর প্রতি শতর্ক বার্তা সেটা স্পষ্ট কারণ, শুভেন্দু অধিকারীই একমাত্র বিজেপি নেতা যিনি কোনও শালীনতা না রেখে মুখ্যমন্ত্রী তথা একজন মহিলা নেত্রীকে যা খুশি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে যা খুশি বলেন। এবার দিলীপ ঘোষ দলে গুরুত্ব পাওয়ায় শুভেন্দুর ক্ষমতা যে অনেকটাই খর্ব হল তাতে সন্দেহ নেই।
❤ Support Us






