- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ২৬, ২০২৬
ভিসা-ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ! ৫ বছর বাড়ল ‘আইভিএফআরটি’ প্রকল্প
The Prime Minister, Shri Narendra Modi at the first cabinet meeting, at the Prime Ministers Office, in South Block, New Delhi on May 31, 2019.
আন্তর্জাতিক যাতায়াতকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরাপদ করে তুলতে বড়োসড়ো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। ইমিগ্রেশন, ভিসা প্রদান এবং বিদেশি নাগরিকদের নিবন্ধন ব্যবস্থাকে একত্রিত করে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে আইভিএফআরটি (ইমিগ্রেশন, ভিসা, ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ট্র্যাকিং) প্রকল্পের মেয়াদ আরও ৫ বছরের জন্য বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে হওয়া বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০৩১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ প্রকল্প চালু থাকবে। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১,৮০০ কোটি টাকা।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের স্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি কৌশলগত রূপান্তর। সম্প্রতি ‘অভিবাসন ও বিদেশি আইন, ২০২৫’ কার্যকর হওয়ার পর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি নাগরিকদের ব্যবস্থাপনা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে বলেই মনে করছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই সিদ্ধান্তকে ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, আগামী ৫ বছর এ প্রকল্প চালু রাখার সিদ্ধান্ত ভারতে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে সহজ করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবায়িত করবে। তাঁর কথায়, এই প্রকল্প ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক করে তুলবে এবং বিদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতে ভ্রমণ ও কাজের পরিবেশকে নির্বিঘ্ন করবে, পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও আরও সুরক্ষিত রাখবে।
আইভিএফআরটি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য, ভিসা প্রদান, ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স এবং বিদেশিদের নিবন্ধন—এই তিনটি ক্ষেত্রকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। ইতিমধ্যেই এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বহু পরিষেবা অনলাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। নতুন পর্যায়ে সেই কাঠামোকে আরও বিস্তৃত, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনে মোবাইলভিত্তিক পরিষেবা, স্বয়ংক্রিয় সেলফ-সার্ভিস কিয়স্ক এবং একীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে। পাশাপাশি, ইমিগ্রেশন পোস্ট, ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) এবং ডেটা সেন্টারগুলিতে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী ও সম্প্রসারণযোগ্য জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে, যেখানে অনুমোদিত সংস্থাগুলির মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদানপ্রদান সম্ভব হবে। প্রকল্পটির পরবর্তী পর্যায়ে তিনটি মূল ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—উদীয়মান প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, মূল অবকাঠামোর রূপান্তর এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি। সরকারের বক্তব্য, নিরাপত্তা কাঠামোয় কোনও আপস না করেই ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
২০১০ সালের মে মাসে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনে ১,০১১ কোটি টাকার বাজেটে এই প্রকল্পের সূচনা হয়। প্রাথমিক মেয়াদ ছিল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তীতে ২০১৫, ২০১৭ এবং ২০২১ সালে ধাপে ধাপে এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ১,৩৬৫ কোটি টাকার বরাদ্দে প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন করে পাঁচ বছরের অনুমোদন। গত এক দশকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ইমিগ্রেশন ও ভিসা পরিষেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে সম্পূর্ণ অনলাইন ও স্পর্শবিহীন ভিসা প্রক্রিয়া চালু হয়েছে, যেখানে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ থেকে শুরু করে পেমেন্ট—সব কিছুই ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে ৯১.২৪ শতাংশ ই-ভিসা আবেদন ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যা এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা স্পষ্ট করে।
ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টগুলিতেও যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত হয়েছে। আগে যেখানে ছাড়পত্র পেতে ৫-৬ মিনিট সময় লাগত, এখন তা কমে গড়ে ২ থেকে ৩ মিনিটে দাঁড়িয়েছে। আরও এক ধাপ এগিয়ে, দেশের ১৩টি প্রধান বিমানবন্দরে ‘ফাস্ট ট্র্যাক ইমিগ্রেশন—ট্রাস্টেড ট্র্যাভেলার প্রোগ্রাম’-এর আওতায় স্বয়ংক্রিয় ই-গেট চালু হওয়ায় নথিভুক্ত যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই সময় নেমে এসেছে প্রায় ৩০ সেকেন্ডে। এই সুবিধা ভারতীয় নাগরিকদের পাশাপাশি ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারীরাও পাচ্ছেন। বর্তমানে আইভিএফআরটি প্ল্যাটফর্মের আওতায় দেশের ১১৭টি ইমিগ্রেশন পোস্ট, ১৫টি এফআরআরও এবং ৮৫৪টি জেলা স্তরের নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ যুক্ত রয়েছে। সময়ের সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মে ৩০টিরও বেশি পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা ভারতের অভিবাসন ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান আধুনিকতারই প্রতিফলন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পের সম্প্রসারণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক যাতায়াত সহজ হলে পর্যটন, বিমান পরিবহণ, আতিথেয়তা, চিকিৎসা পরিষেবা এবং বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের মতে, আইভিএফআরটি প্রকল্প শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করবে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
❤ Support Us







