Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ৭, ২০২৬

যাদবপুরে পোশাক বিতর্কে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সুপারিশ। ছুটিতে ইংরেজি বিভাগের প্রধান

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
যাদবপুরে পোশাক বিতর্কে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সুপারিশ। ছুটিতে ইংরেজি বিভাগের প্রধান

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে হিজাব-সংক্রান্ত বিতর্কের আবহে শেষ পর্যন্ত ছুটিতে যেতে হল বিভাগীয় প্রধান শাশ্বতী হালদারকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, তিনি ৭ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যক্তিগত কারণে ছুটির আবেদন করেছেন এবং তা অনুমোদিত হয়েছে। তবে ইংরেজি বিভাগের একাংশ শিক্ষক ও শাশ্বতীর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, বিষয়টি মোটেও ব্যক্তিগত নয়; বরং তাঁকে কার্যত ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ শাশ্বতী হালদারকে বৈঠকে ডেকেছিল। সেই বৈঠকে ক্যাম্পাসে সম্ভাব্য ছাত্র-ঘেরাওয়ের আশঙ্কার কথা তুলে ধরে কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটিতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেই অনুযায়ী তিনি ছুটির আবেদন করেন।

এই ঘটনার সময়কাল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। কারণ, আগামী বৃহস্পতিবার ইংরেজি বিভাগের বোর্ড অফ স্টাডিজ (বিওএস)-এর বৈঠক ডেকেছিলেন বিভাগীয় প্রধান নিজেই। ওই বৈঠকে হিজাব–বিতর্কে তাঁর জমা দেওয়া রিপোর্ট এবং পরীক্ষায় নকল ঠেকানো সংক্রান্ত আগের বিওএস রেজোলিউশনের মিনিটস নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। উল্লেখ্য, পরীক্ষার হলে চিটিং রোধে আইন মেনেই কাজ করা হয়েছে বলে ইতিমধ্যেই বিওএস একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। কিন্তু বিভাগীয় প্রধান ছুটিতে যাওয়ায় সেই বৈঠকের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির ভূমিকা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন উঠছে। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, কমিটির সদস্যরা তদন্তের প্রথম দিনেই সংবাদমাধ্যমে শাশ্বতী হালদারকে সাময়িকভাবে বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে সরানোর সুপারিশের কথা জানান, যা একেবারেই নজিরবিহীন। কোনও তদন্ত বা তথ্যানুসন্ধান কমিটির কাজ শুরু হওয়ার পর তার প্রক্রিয়া ও সুপারিশ সাধারণত গোপন থাকার কথা। অথচ প্রথম দিনেই সেই সুপারিশ প্রকাশ্যে চলে আসায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও অস্বস্তিতে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, খোদ উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির এই সুপারিশের কথা সোমবার সংবাদমাধ্যম থেকেই জানতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, যদি এই বিষয়টি আদালতে গড়ায়, তা হলে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রবল আইনি ও প্রশাসনিক বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২৬ ডিসেম্বর ইংরেজি বিভাগের পড়ুয়ারা বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে একটি অনলাইন বৈঠক করেছিলেন, যা সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলে। সেই বৈঠকে বিভাগীয় প্রধান উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগকারী দুই ছাত্রী সেখানে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। পড়ুয়ারা চার দফা দাবি জানান—তদন্ত চলাকালীন এইচওডি-কে পদ থেকে সরিয়ে অন্য কাউকে অ্যাকটিং হেড করা, আপাতত তাঁকে ইনভিজিলেশন ও ইভাল্যুয়েশন সিস্টেম থেকে দূরে রাখা, তদন্ত কমিটির অগ্রগতির রিপোর্ট পড়ুয়াদের জানানো এবং এই দাবিগুলি মানা।

এই একই দাবি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে আসা রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের কাছেও জানানো হয়েছিল। ফলে কর্তৃপক্ষ কি পড়ুয়াদের সেই দাবির কাছেই নতিস্বীকার করল—এই প্রশ্নও ভাবাচ্ছে যাদবপুরের প্রবীণ শিক্ষক মহলকে।

এ দিকে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ২৭ ডিসেম্বর একটি সংবাদপত্রে পরীক্ষার সময়ে ঘটে যাওয়া হিজাব–বিতর্ক নিয়ে নিজের মতামত জানিয়ে একটি উত্তর–সম্পাদকীয় প্রতিবেদন লিখেছিলেন। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই এমন মতপ্রকাশ তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। সেই প্রতিবেদনের প্রতিলিপি মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়েও উপাচার্য কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সব মিলিয়ে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব–বিতর্ক ঘিরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং একাডেমিক স্বাধীনতা—সব কিছুকেই ঘিরে জটিল প্রশ্নের মুখে পড়েছে কর্তৃপক্ষ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!