- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১, ২০২৫
ধানবাদে ঝাড়খণ্ড এটিএস-এর জালে হিযবুত তাহরীরের সক্রিয় সদস্য
ঝাড়খণ্ড এটিএস ধানবাদে এক প্রাক্তন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন সদস্য, আম্মার ইয়াসারকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি সম্প্রতি হিযবুত তাহরীরের সক্রিয় সদস্য হিসেবে দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এই সংগঠনটি তরুণদের উগ্রপন্থী মতাদর্শে দীক্ষিত করে ভারতের গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড বা এটিএস বড়ো সাফল্য। বৃহস্পতিবার ধানবাদের ভুলি এলাকা থেকে এক প্রাক্তন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে এটিএস, যে সম্প্রতি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের হয়ে সক্রিয় ছিল। এটিএস জানিয়েছে, ধৃত সন্দেহভাজন জঙ্গির নাম আম্মার ইয়াসার। তিনি আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সম্প্রতি আরেকটি নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ব্যানারে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
ঝাড়খণ্ডের পুলিশের ডিজিপি অনুরাগ গুপ্ত বলেন, ‘আম্মার ইয়াসারকে ২০১৪ সালে রাজস্থানের যোধপুর থেকে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর, তিনি আবার দেশবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হন। ২০২৪ সালের মে মাসে হিযবুত তাহরীরে যোগ দেন। তাঁর বিরুদ্ধে জয়পুর ও যোধপুরে জঙ্গি কার্যকলাপ সংক্রান্ত ৩টি মামলা রয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
এই গ্রেপ্তারের কিছুদিন আগেই ঝাড়খণ্ড এটিএস ওয়াশিপুর আজাদ নগর ও শামসের নগর এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়ে গুলফাম হাসান, আয়ান জাভেদ, শবনম পারভিন ও মোহাম্মদ শাহজাদ আলম নামের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে জখব্র, এদের মধ্যে আয়ান জাভেদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই আম্মার ইয়াসারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে অভিযানে এটিএস ২টি পিস্তল, ১২ রাউন্ড গুলি, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বহু বই ও নথিপত্র, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধার করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই গোষ্ঠী একটি স্বতন্ত্র নেটওয়ার্ক গঠন করে ধানবাদ ও সংলগ্ন এলাকায় হিযবুত তাহরীরের কার্যক্রম বিস্তারের পরিকল্পনা করছিল। এটিএস-এর কর্মকর্তাদের মতে সূত্রে, অভিযুক্তরা উগ্র মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত। জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আরো কয়েকজন সন্দেহভাজনের সন্ধানে অভিযান চলছে। গোটা চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।
উল্লেখ্য, হিযবুত তাহরীর, ১৯৫৩ সালে জেরুজালেমে প্রতিষ্ঠিত একটি উগ্রপন্থী ইসলামিক সংগঠন, যার লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে ইসলামিক খেলাফত প্রতিষ্ঠা। ২০১০ সালে ভারত সরকার এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। জার্মানি, রাশিয়া, চিন, মিশর, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ বহু দেশে এই সংঠন নিষিদ্ধ। হিযবুত তাহরীর বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ৪০টি দেশে সক্রিয়, যার মধ্যে রয়েছে জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত মার্কিন যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি। অনেক দেশে সংগঠনটি ‘নন-ভায়োলেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত হলেও, র্যাডিকালাইজেশন এবং সন্ত্রাসবাদে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। ঝাড়খণ্ড পুলিশের দাবি, এই সংগঠন সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মতাদর্শ প্রচার ও সদস্য নিয়োগ করে থাকে। সদস্যরা প্রায়শই সাধারণ পেশাজীবী বা ছাত্র হলেও গোপনে সংগঠনের কাজ চালায়। তরুণদের উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত করে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চালায় তারা।
❤ Support Us






