Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬

নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে পেতে কেন্দ্র ও রাজ্যকে আধার তথ্য ব্যবহারে এসওপি প্রণয়নের নির্দেশ ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে পেতে কেন্দ্র ও রাজ্যকে আধার তথ্য ব্যবহারে এসওপি প্রণয়নের নির্দেশ ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের

ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট বৃহস্পতিবার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে নিখোঁজ শিশুদের খোঁজে আধার তথ্য ব্যবহারের জন্য একটি স্পষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে বলেছে। ২০১৮ সালে ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলা থেকে এক নাবালিকা মেয়ের নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্ত একটি হেবিয়াস করপাস আবেদনের শুনানির সময় আদালত এই নির্দেশ দেয়।

মেয়েটির মা চন্দ্রমুনি উরাঁও তাঁর কন্যার সন্ধানের জন্য বিচারিক হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেন। তিনি গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে হাইকোর্টে আবেদন জানান এবং অভিযোগ করেন যে তাঁর মেয়ে মানব পাচারের শিকার হয়ে থাকতে পারে।
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয় যে, ২০১৯ সালে মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার পর একটি এফআইআর দায়ের করা হলেও স্থানীয় পুলিশ তদন্তে তেমন অগ্রগতি করতে পারেনি। তদন্তের ধীরগতিতে হতাশ হয়ে তিনি মেয়ের সন্ধান নিশ্চিত করতে জরুরি নির্দেশনার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সুজিত নারায়ণ প্রসাদ ও বিচারপতি এ কে রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকার ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে বিস্তারিত স্ট্যাটাস রিপোর্ট তলব করে। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে এবং তদন্ত এখনও চলছে। গুমলার ডিএসপি এবং অ্যান্টি-হিউম্যান ট্র্যাফিকিং পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে এ পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বেঞ্চকে অবহিত করেন। আদালতকে আরও জানানো হয় যে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় একটি নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। এই এসআইটি সম্ভাব্য সূত্র সংগ্রহের জন্য দিল্লিতেও গিয়েছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, ‘নিখোঁজ মেয়েটির ছবি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে এবং সনাক্তকরণের সুবিধার্থে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সাফল্য পাওয়া যায়নি এবং তাকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে যে, নিখোঁজ শিশুদের মামলায় আধার-সংযুক্ত তথ্য আইনসম্মতভাবে ব্যবহারের জন্য তদন্তকারী সংস্থাগুলোর স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকা উচিত, পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

আদালত আরও উল্লেখ করে যে, নিখোঁজ শিশুদের মামলাকে হালকাভাবে দেখা চলবে না এবং তদন্তে সহায়তার জন্য একটি শক্তিশালী ও সুসংজ্ঞায়িত নীতিগত কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে। এর আগে শুনানির সময় বেঞ্চ শিশু পাচার সংক্রান্ত সমস্যা এবং রাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সর্বশেষ আদেশে হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে একটি বিস্তৃত ও সন্তোষজনক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!