Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২৮, ২০২৫

ডিএমকে-এর সঙ্গে নির্বাচনী চুক্তি, রাজ্যসভার ভোটে প্রার্থী কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসান

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ডিএমকে-এর সঙ্গে নির্বাচনী চুক্তি, রাজ্যসভার ভোটে প্রার্থী কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসান

লোকসভা নির্বাচনের সময় তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন ডিএমকে-এর সঙ্গে ভোট চুক্তি হয়েছিল, সে পথ ধরেই এবার রাজ্যসভায় প্রবেশ করতে চলেছেন দক্ষিণী চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও মাক্কাল নিধি মায়াম বা এমএনএম-এর প্রতিষ্ঠাতা কমল হাসান। বুধবার ডিএমকের তরফে প্রকাশিত রাজ্যসভার প্রার্থীতালিকায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, রাজ্যের ৬টি শূন্য আসনের একটিতে এমএনএম নেতার প্রার্থী হওয়ার পথ পরিষ্কার। তামিলনাড়ু বিধানসভায় ডিএমকের প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে ৬টি রাজ্যসভা আসনের মধ্যে অন্তত ৪টি তারা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২ আসন যেতে পারে এআইএডিএমকের দখলে। রাজ্যসভায় সাংসদ হবার লড়াইয়ে প্রতিটি আসনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৩৪ বিধায়কের ভোট। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ডিএমকে ও তার জোটসঙ্গীদের সংখ্যা সেই তুলনায় যথেষ্ট। ফলে বিধানসভায় এমএনএমের কোনো বিধায়ক না থাকলেও কমলের জয় কার্যত নিশ্চিত।

ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, আগামী ১৯ জুলাই তামিলনাড়ু থেকে রাজ্যসভার ৬ শূন্যপদ পূরণের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হবে। বর্তমান ৬ সাংসদ—পিএমকের আনবুমনি রামাদোস, ডিএমকের পি উইলসন, এম শানমুগাম, এন চন্দ্রসেঘরন, এম মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং এমডিএমকের ভাইকোর মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৫ জুলাই। ডিএমকের তালিকায় পি উইলসনকে পুনরায় মনোনীত করা হয়েছে। নতুন মুখ হিসেবে রয়েছেন আর শিবলিংগম ও রোকিয়া মালিক। আর চুক্তি অনুযায়ী, চতুর্থ আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এমএনএমের জন্য। সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় ডিএমকে-কংগ্রেস-বাম জোটকে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছিলেন কমল হাসান। বিনিময়ে রাজ্যসভা আসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডিএমকে সভাপতি তথা মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন।

মঙ্গলবার রাতে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী পিকে শেখর বাবু চেন্নাইয়ে কমলের বাসভবনে গিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি পালনের বার্তা পৌঁছে দেন। বৈঠকের পর শেখর বাবু বলেন, ‘’আমাদের নেতা স্ট্যালিন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।’’ তবে এক্ষেত্রে এমডিএমকে-র সাধারণ সম্পাদক ভাইকোর রাজ্যসভার ভবিষ্যত অনিশ্চিত। তাঁর ছেলে দুরাই ভাইকো ইতিমধ্যেই লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে এবার রাজ্যসভায় ভাইকোর পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। একইভাবে, পিএমকের আনবুমনি রামাদাসও এবার তাঁর আসন ধরে রাখতে পারবেন না বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা—কারণ তাঁর পাশে কোনো বড়ো দ্রাবিড় দল সমর্থনে নেই। এমএনএমের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি প্রস্তাব পাস করে দলের প্রতিষ্ঠাতা কমল হাসানকেই রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দিল্লির রাজনীতিতে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ একপ্রকার নিশ্চিত।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ‘নতুন রাজনীতির’ স্বপ্ন নিয়ে এমএনএম গড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন কমল হাসান। তৎকালীন ডিএমকে-এআইএডিএমকে-বিজেপি-কংগ্রেস শিবিরের বাইরে থেকে জনগণের স্বার্থে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সংস্কারের বার্তা দেন তিনি। তবে এখনো পর্যন্ত বড়ো কোনো নির্বাচনী সাফল্য তাঁর অধরাই থেকে গেছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৩.৭২ শতাংশ ভোট পেলেও, কোনো আসন পাননি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে কোয়েম্বাটোর দক্ষিণ থেকে নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজেপির প্রার্থী বানাথি শ্রীনিবাসনের কাছে অল্প ব্যবধানে হেরে যান। ২০২২ সালে পুরসভা ভোটেও ১৪০ ওয়ার্ডে প্রার্থী দিয়ে একটি আসনও জিততে পারেনি এমএনএম। তবে গত বছর রাহুল গান্ধির ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’-য় যোগ দিয়ে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্টতার অবস্থান স্পষ্ট করেন কমল। এবার সংসদের উচ্চকক্ষে প্রবেশ করলে তিনি হয়ে উঠতে পারেন জাতীয় রাজনীতির বিরোধী শিবিরে দক্ষিণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তামিল রাজনীতিতে চিত্রতারকাদের প্রভাব দীর্ঘদিনের। এম জি আর, জয়ললিতা, শিবাজি গণেশন, করুণানিধি থেকে শরথকুমার, বিজয়কান্ত—রূপোলি পর্দা থেকে রাজনীতির মঞ্চে উঠে আসার ইতিহাস রোমাঞ্চকর। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে আরো এক কিংবদন্তির নাম—কমল হাসান।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!