Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

বিধানসভা ভোটের আগে কেরালার নাম পরিবর্তনে সায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার। বাংলার ক্ষেত্রে বঞ্চনা কেন?— প্রশ্ন মমতার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিধানসভা ভোটের আগে কেরালার নাম পরিবর্তনে সায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার। বাংলার ক্ষেত্রে বঞ্চনা কেন?— প্রশ্ন মমতার

কেরালা এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কেরালাম’ নামে পরিচিত হবে। মঙ্গলবার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে, এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ২০২৪ সালের ২৪ জুন, কেরালা বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত করেছিল, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের নাম ‘কেরালাম’ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।মুখ্যমন্ত্রী পিনারায় বিজয়ন বলেছিলেন, মালায়ালমে রাজ্যের নাম ‘কেরালাম’। এই সম্বোধনই রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পরিচয়কে আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। বিধানসভায় দুইবারের প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পেছনে রয়েছে প্রযুক্তিগত কারণ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক প্রথম প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে কিছু সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছিল। এই প্রক্রিয়া মেনে ২০২৪ সালের প্রস্তাবটি পুনরায় গৃহীত হয়।

ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী, রাজ্যের নাম পরিবর্তনের জন্য সংসদে আইন প্রণয়ন করতে হয়। আইন প্রবর্তনের আগে রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট রাজ্য বিধানসভাকে পাঠিয়ে মতামত নেন। রাষ্ট্রমন্ত্রক পর্যালোচনা করে, রেলওয়ে, গোয়েন্দা ব্যুরো, ডাক বিভাগ, ভারতীয় জরিপ, রেজিস্ট্রার জেনারেল থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ নেয়। অনুমোদনের পরে সংসদে বিল প্রবর্তিত হয়। এক্ষেত্রে, ‘কেরালা (নাম পরিবর্তন) বিল, ২০২৬’ এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংসদে উত্থাপিত হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও আইন মন্ত্রণালয় প্রস্তাবের সাথে একমত হয়েছেন। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি বিলটি রাজ্য বিধানসভায় পাঠাবেন। বিধানসভা মতামত জানালে সংসদে বিল প্রবর্তনের জন্য সুপারিশ করবেন রাষ্ট্রপতি।

২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গকে ‘বাংলা’ নামকরণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়নি, কারণ এটি বাংলাদেশের নামের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে বিদেশ মন্ত্রক উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। কেরালার দীর্ঘদিনের দাবি স্বীকৃতি পাওয়ায় দক্ষিণের রাজ্যটিকে শুভেচ্ছা জানালেও মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন বাংলার দাবিকে ঘিরে। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাও রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দু’বার পাশ করেছে। এমনকি তিনি নিজে দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবু এখনও পর্যন্ত সেই প্রস্তাবে কেন্দ্রের অনুমোদন মেলেনি। কেরালার প্রস্তাবে কেন্দ্রের ছাড়পত্র মেলায়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, কেরালা যদি অনুমোদন পায়, তবে বাংলার ক্ষেত্রে বঞ্চনা কেন?  মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তাঁর কথায়, ‘ওরা বাংলা বিরোধী বলেই আমাদের সঙ্গে বঞ্চনা করছে।’ পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, কেরলে বিজেপি ও সিপিএমের মধ্যে নয়া সমীকরণ গড়ে ওঠার কারণেই হয়তো ওই রাজ্যের প্রস্তাবে দ্রুত সায় মিলেছে।

কেরালা নামের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় মৌর্য সাম্রাজ্যের সম্রাট অশোক-এর শিলালিপিতে (খ্রিস্টপূর্ব ২৫৭), যেখানে ‘কেরালামপুত্র’ শব্দটির উল্লেখ আছে। ভাষাতাত্ত্বিকরা কেরালামকে চেরাম রাজবংশের সঙ্গে যুক্ত করেন। জার্মান পণ্ডিত হারম্যান গুন্ডার্ট উল্লেখ করেছেন, কেরাম হলো  চেরামের কন্নড় রূপ এবং কেরালাম হলো গোকর্ণম থেকে কন্যাকুমারির মধ্যবর্তী অঞ্চল। কেরালার একীকরণের দাবিও ঐতিহাসিক। মালায়ালমভাষী অঞ্চলের জন্য ঐক্য কেরালা আন্দোলন ১৯২০-এর দশকে শুরু হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ত্রাভনকোর ও কোচি মিলিত হয়ে ১৯৪৯ সালে ত্রাভনকোর-কোচিন রাজ্য গঠন করে। ১৯৫৬ সালে ভাষাভিত্তিক পুনর্গঠন কমিশন সুপারিশ করে মালাবার, কাসারগোডসহ একীভূত কেরালা গঠনের জন্য।

সামনেই কেরালায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলেও গুরুত্বও পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারায় বিজয়নের প্রস্তাবে সিপিআইএম-সব বামশরীকদের পাশাপাশি কেরালা বিজেপি নেতৃত্বও এতে সমর্থন জানিয়েছেন। সম্প্রতি বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে কেরালার নাম পরিবর্তনে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তবে, কংগ্রেস নেতা শশী থারুর হালকা হাস্যরসপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, রাজ্যের নতুন নামের ইংরেজি রূপ নিয়ে। তিনি লিখেছেন, কেরালাম’-এর বাসিন্দাদের জন্য ‘কেরালাইট’ আর ‘কেরালান’ শব্দগুলোর কী হবে? ‘কেরালামাইট’ মনে হয় কোনো মাইক্রোব, আর ‘কেরালামিয়ান’ মনে হয় কোনো বিরল খনিজ…! মুখ্যমন্ত্রী হয়তো নতুন শব্দের জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারেন।’ তাঁর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!