- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ১, ২০২৬
বর্ষবরণের রাতে ‘উৎসবের ধোঁয়া’! বছরের প্রথম দিনেই কলকাতার বাতাসে লাগামছাড়া বিষ, যাদবপুরে একিউআই ছুঁল ৩৮০
নতুন বছরের শুরুতে, দিল্লির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তিলোত্তমা কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বাতাস দূষণের সহ্য মাত্রা ছাড়িয়েছে। বর্ষবরণের রাতে দেদার আতশবাজি পোড়ানো, ছুটির মরসুমে যানবাহনের বাড়তি চাপ এবং শীতকালীন আবহাওয়ার প্রভাবে বৃহঃস্পতিবার শহরের অধিকাংশ প্রান্তে বায়ুর গুণমান পৌঁছেছে ‘খুব খারাপ’ স্তরে। পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য বলছে, এদিন কলকাতার বহু এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৩০০ ছাড়িয়েছে।
দূষণের নিরিখে শহরের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ছবি যাদবপুরে। সেখানে অতি সূক্ষ ধূলিকণা বা পিএম ২.৫-এর নিরিখে একিউআই পৌঁছেছে ৩৮০-তে, যা ‘খুব খারাপ’ শ্রেণিতে পড়ে। পিছিয়ে নেই বালিগঞ্জ ও বিধাননগরও। বালিগঞ্জে সর্বোচ্চ একিউআই রেকর্ড হয়েছে ৩৬১ এবং বিধাননগরে ৩৫৩। ফোর্ট উইলিয়াম (৩২১), রবীন্দ্র ভারতী (৩১০), ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল (৩৪৩) ও রবীন্দ্র সরোবর (৩৪৩)— সর্বত্রই বাতাসের মান উদ্বেগজনক। কলকাতার চেয়েও ভয়াবহ ছবি ধরা পড়েছে হাওড়ায়। ঘুসুড়ি এলাকায় প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫-এর মাত্রা উঠে গিয়েছে ৪২৭ মাইক্রোগ্রামে। বেলুড় মঠ এলাকাতেও দূষণের মাত্রা ৩৯০ ছুঁয়েছে। স্বাভাবিক সহনসীমা যেখানে ৫০–১০০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার। পরিবেশবিদদের মতে, আমজনতার স্বাস্থ্যের পক্ষে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। শীতকালে ‘এয়ার ইনভার্শন’-এর ফলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঠান্ডা ভারী বাতাস নীচে আটকে থাকার কারণে দূষণকণা উপরের দিকে উঠতে পারে না। তার উপর বাতাসের গতি কম থাকায় ধোঁয়া ও ধূলিকণা দীর্ঘ সময় ধরে ভূপৃষ্ঠের কাছেই রয়ে যাচ্ছে। এ বছর শীতে শিশিরও ঠিকমতো পড়ছে না। ফলে ধূলিকণাগুলি জলীয় কণায় পরিণত না হয়ে বাতাসেই আটকে থাকছে। নববর্ষে দেদার বাজি পোড়ানোয় সেই কণার পরিমাণ আরো বেড়েছে।
ডব্লিউবিপিসিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্তও শহরের অধিকাংশ এলাকায় বায়ুর গুণমান ‘খারাপ’ পর্যায়েই রয়ে গিয়েছে। যাদবপুরে দুপুরে একিউআই ছিল ৩১৭, বিধাননগরে ৩০৬, ভিক্টোরিয়ায় ২৮৩ এবং রবীন্দ্র সরোবরে ২১৪। অর্থাৎ দিনের আলো বাড়লেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। পরিবেশ পর্যবেক্ষক সংগঠন ‘সবুজ মঞ্চ’-এর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আতশবাজি পোড়ানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা বহু জায়গাতেই মানা হয়নি। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, রাত সাড়ে ১২টার পরেও দক্ষিণ ও উত্তর কলকাতার একাধিক এলাকায় প্রায় রাত ২টো পর্যন্ত বাজি পোড়ানো চলেছে। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। ভোরের দিকে প্রাতঃভ্রমণ আপাতত বন্ধ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। পাশাপাশি ঘরের বাইরে মাস্ক পরা ও যথাসম্ভব যানবাহন বহুল এলাকা এড়িয়ে চলার কথা বলছেন তাঁরা। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষদের সতর্ক থাকতে হবে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
❤ Support Us






