Advertisement
  • ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

২১ এর উদযাপনে কলকাতায় প্রথম বই উৎসব এবার বাঘাযতীনে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
২১ এর উদযাপনে কলকাতায় প্রথম বই উৎসব এবার বাঘাযতীনে

২১ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বইমেলার স্বপ্ন দেখছিলেন বইপ্রেমীরা। ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে, ভাষার মায়ায় জড়িয়ে থাকতে কলকাতা শহরে একটি নতুন বইমেলা। এবার সেই স্বপ্ন বাস্তবের রূপ নিতে চলেছে দক্ষিণ কলকাতার বাঘাযতীন এলাকার লায়েলকা মাঠে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি বুধবার থেকে শুরু হয়ে চলছে এক অনন্য বইমেলার।  চলবে ১ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পাঠকদের জন্য খোলা থাকবে।

বই, আড্ডা, উৎসবের আমেজে মেতে থাকা মহানগরের বাসিন্দাদের কাছে বইমেলা, লিটল ম্যাগাজিন মেলা, কলেজস্ট্রিটের বইপাড়ার অলিগলি পছন্দের ঠিকানা। সদ্য শেষ হয়েছে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার সারম্বর, মেলা শেষে যখন বিষণ্নতার হাতছানি তখনই পাঠক-প্রকাশক-আড্ডাপ্রেমীদের বুকে বসন্তের ফুরফুরে বাতাসের স্পর্শ দিতে হাজির কলকাতা ক্রিয়েটিভ পাবলিশার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। শহরের দক্ষিণে, সবুজের কোলে, প্রাকৃতিক পরিবেশে আয়োজিত হচ্ছে ‘একুশে বইমেলা’। অভিজ্ঞ সংগঠকরা জানান, দীর্ঘ আলোচনা ও সংগ্রামের পর লায়েলকা মাঠটিই উপযোগী স্থান হিসেবেই চূড়ান্ত হয়।

বাঘাযতীন সংলগ্ন বিজয়গড় ও রিজেন্ট এস্টেট এলাকার এই মাঠটিকে জড়িয়ে আছে সবুজ গালিচা, হাঁটার রাস্তা, ছোটো ঝিল আর একটি সুন্দর পার্ক, যা মেলার পরিবেশকে আকর্ষণীয় ও আরামে পরিপূর্ণ করবে বলে আশা আয়োজকদের। দক্ষিণ কলকাতার এই স্থান থেকে বাঘাযতীন বাসস্ট্যান্ড মাত্র ৫৫০ মিটার ও সুলেখা মোড় থেকে ৭০০ মিটার দুরত্বে। আয়োজক কলকাতা ক্রিয়েটিভ পাবলিশার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছেন, এবারের মেলায় প্রায় ৭০টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিতে চলেছে। পাশাপাশি ‘স্বনির্ভর’, ইত্যাদি সহযোগী সংগঠন মেলাটিকে দিচ্ছে সমৃদ্ধ পরিবেশ। শুরু থেকেই প্রতিটি স্টলে সাজানো হবে বহুমাত্রিক বই দিয়ে। লিটল ম্যাগাজিন, কবিতা থেকে উপন্যাস, গবেষণা থেকে শিশু সাহিত্য সবকিছুই থাকবে সম্ভারে।

মেলার মূখ্য থিম ‘আক্রান্ত আমার ভাষা’। যেখানে বাংলা ভাষার বহমান স্রোত, সুরক্ষা, ব্যবহারের স্বাধীনতা ও ভাষা নিয়ে ক্রমবর্ধমান সামাজিক সমস্যার কথা ফুটে উঠবে। কর্মজীবী মানুষেরা, বিশেষ করে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা মেলায় তুলে ধরা হবে। তাঁরা বিভিন্ন দিনের আলোচনায় এসে তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন। নাটক, কবিতা-গল্প পাঠ, শিল্পীর চিত্রকর্ম প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন সাহিত্য–সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হবে। মেলার লোগো এঁকেছেন শিল্পী শুভাপ্রসন্ন। আরও একটি আকর্ষণীয় উদ্যোগ হলো, এ মেলার জন্য বিশেষভাবে তৈরী করা ‘আক্কু’ নামের মাসকট, যেটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের যোদ্ধা হিসেবে প্রতীকী প্রতিনিধিত্ব করবে। প্রতিবাদী স্পর্ধায় স্লোগান তাই উঠেছে, ‘অস্ত্র নয়, অক্ষর আমাদের হাতিয়ার।’

অন্যরকম এই মেলার উদ্বোধন করবেন ‘গানওয়ালা’ কবীর সুমন। উপস্থিত থাকবেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও কলাকুশলীসহ বিভিন্ন লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। প্রকাশকরা বলছেন, ‘আগে যেখানে বইমেলায় স্টল নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল, সেখানে এবার লেখক ও প্রকাশকদের মধ্যে উৎসাহ বিরামহীন। লোকচক্ষুর বাইরে এসে বই পড়া ও নতুন বই খুঁজে পাওয়ার আনন্দটাই আলাদা।’ এ মেলার বিশেষত্ব এটি শুধু বই বিক্রির মহাযজ্ঞ নয়, এটি বাংলার চিয়ায়ত সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভাষা ও সাহিত্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক বিন্যাস, বিতর্ক, অভিজ্ঞতা আদান–প্রদান, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে লেখক ও প্রকাশকদের সাথে সংযুক্ত করার একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক উদ্যোগ। ফেব্রুয়ারির স্মৃতিবিজড়িত আবহে, বই ছুঁয়ে লায়েলকা মাঠ হয়ে উঠবে বাংলা ভাষার অক্ষয় ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেবার আন্তরিক প্রচেষ্টা স্বরূপ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!