- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১০, ২০২৩
দাড়িভিটকাণ্ডে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট
দাড়িভিটে গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় শেষ পর্যন্ত এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এই নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অবিলম্বে আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করতে হবে। বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ ছিল বলেই এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হল বলে জানিয়েছেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা।
২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলার শিক্ষকের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছিল উত্তর দিনাজপুরের দাড়িভিটে। সেই সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাপস বর্মন এবং রাজেশ সরকার নামের দুই ছাত্রের। এই ঘটনায় মৃতের পরিবারের সদস্যদের এবং স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ওই দুই ছাত্রের। পুলিশ যদিও অভিযোগ এই অভিযোগ অস্বীকার করে। তখন সিবিআই তদন্তের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয় মৃতের পরিবার। তখন এই ঘটনায় রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। সেই মামলাতেই এবার এনআইএ তদন্তের এই নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা।
আজ থেকে পাঁচ বছর আগে দাড়িভিটের এই ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল রাজ্য। শাসক-বিরোধী বাদানুবাদ চরমে পৌঁছেছিল। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি তখন উত্তাল হয়েছিল। উত্তেজনা এমন জায়গায় পৌঁছয় তৃণমূল এবং বিজেপি সম্মুখ এক প্রকার এই ঘটনা নিয়ে সমরে নেমে পড়েছিল। গোটা ঘটনার উপর রাজনীতির রং লাগাবার অভিযোগ উঠেছিল। সেই নিয়ে দীর্ঘ দিন টানাপোড়েন চলেছে রাজ্য রাজনীতিতে । অভিযোগ ছিল পুলিশের গুলিতে দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ছাত্রের পরিবারের এই অভিযোগ ছিল, স্থানীয়দের এই একই অভিযোগ ছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশ যদিও গুলি চালানোর কথা বরাবর অস্বীকার করে এসেছে। সেই ঘটনায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। শেষ পর্যন্ত রাজ্য মানবাধিকার কমিশন সরে দাঁড়ায়। গত সোমবার এই মামলার শুনানি শেষ হয়। বুধবার এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেন।
যদিও বিচারপতি মান্থার এই নির্দেশকে আদালতের নির্দেশের উপর কিছু বলবেন না বলেও তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এদিন বলেন, “এই ঘটনায় বিজেপির হাত ছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এতো তদন্তের ভার নেয়, কই কটা তদন্তের কিনারা তারা করতে পারে?”
শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল। অভিযোগ, দাড়িভিট স্কুলে বাংলা এবং বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরেই বছর পাঁচেক আগে এই বিক্ষোভ হয়। অভিযোগ, স্কুলে অঙ্ক এবং বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষকের প্রয়োজন থাকলেও, উর্দু এবং সংস্কৃত বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। তা নিয়ে বিতর্ক বাধে, ক্রমে তা বিক্ষোভের আকার ধারণ করে। সেই বিক্ষোভ চলাকালীনই পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের সংঘর্ষ বাধে এবং তাতে পুলিশ গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে আর এই গুলিতেই দুই ছাত্রের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
❤ Support Us






