Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ২৪, ২০২৩

ভাঙড়ে উত্তেজনা, তৃণমূলের প্রতিবাদ সভায় পুলিশের ‘না’।

ঘরোয়া রেষারেষি আপাতত স্থগিত, অতিজাগ্রত 'আরাবুল বাহিনী'

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভাঙড়ে উত্তেজনা, তৃণমূলের প্রতিবাদ সভায় পুলিশের ‘না’।

ভাঙড়ে দলীয় অফিস ভাঙচুরের প্রতিবাদে সভা করতে চেয়েছিলেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। প্রস্তুতি ছিল জব্বর। আইন শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় কলকাতা পুলিশ অনুমতি দেয়নি। নিয়মতান্ত্রিক কর্মীরা পুলিশের নিষেধাজ্ঞাকে মান্যতা দিয়ে ঘোষিত কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ালেন। ভাঙড় স্পর্শকাতর এলাকা। ঘরোয়া কোন্দল আর রাজনৈতিক লড়াই পর্যন্ত প্রায়ই ছুঁয়ে থাকে কৃষি অধ্যুষিত আর নগর সংলগ্ন এলাকাকে। আইএসএফ এর উত্থানের পর পরিস্থিতি প্রায় পুরোপুরি ছিনতাই হয়ে যায়। ইণ্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট কাঙ্খিত জমিন খুঁজে পায়। ভোটে, ঘটনাচক্রে জয়ী হল তাঁদের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। সমর্থনের ভিতকে পঞ্চায়েত ভোটে বাড়াতে চাইছে তাঁর দল। কিন্তু সূচাগ্র মেদিনীও ছাড়তে চায় না  তৃণমূল। এককালের শক্ত ঘাঁটিতে সিপিএম প্রায় সমর্থকশূন্য। বিজেপিও পুরোপুরি নারাজ। ক্ষমতার মূল প্রতিযোগিতার তৃণমূল আর আইএসএফ এর মধ্যে। সেকুলার ফ্রণ্টের আওয়াজ বড্ড বেশি চওড়া। ফ্রণ্ট নেতা কাশেম পিরজাদা কলকাতা অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

‘লড়কে লেঙ্গে’ শ্লোগান মুখর দল। কঞ্চিও  শক্ত নয়। তবু জিগির আর হুমকিতে মাঠে-ময়দানে কম্পন তুলতে পারে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁদের গলাবাজিকে বিলকুল আমল দেয় না। রাজনীতিতে, ভেতরে কত রঙের খেলা হয়য়। এরকম খেলায় তৃণমূলের বা অন্য কোনো দলের কেউ কেউ ইন্ধন জোগাচ্ছেন না, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। কারণ এলাকার নাম ভাঙড়। এলাকার মাটি কংগ্রেস আমল, বাম জমানা আর তৃণমূল কালে বহু রক্ত দেখেছে। দেখেছে নিরীহ মানূষের লাশ আর আগুনের উত্তাপ। এসব ঘটনা প্রশাসনের নখদর্পনে। গত কয়েকদিন জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার, বিধায়ক নওশাদ কলকাতা থেকে তাঁর স্বজমিনে ফেরার পথে গ্রেফতার হন। এতে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, কতিপয় অতি উৎসাহী হাতি তৃণমূলের তিনটি অফিস ভাঙচুর করে আগুনে ছড়িয়ে দেয়। এর পরের ঘটনা হয়ে ওঠে আরও বেশি সংক্রামক। ২৫ জানুয়ারি, পাকাপোল থেকে হাতিশালা পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে তৃণমূল।ইতিমধ্যে পুলিশ জানিয়ে দেয়, উপদ্রুত এলাকায় প্রতিবাদ সভা অথবা মিছিল করা যাবে না। পুলিশের নির্দেশের পর মঙ্গলবার বিকেলে,’জমি-জীবিকা রক্ষা’ কমিটি তাদের পথ-অবরোধ তুলে নেয়। আইএসএফ-এর মোকাবিলায় প্রাক্তন বিধায়ক আর বিতর্কিত তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। অন্যন্য গৌণ অগৌণ নেতারা এখনও মৌন। আরাবুল বাহিনীসহ সবাই দলের উপরতলার নির্দেশের দিকে তাকিয়ে আছেন। মনে হচ্ছে, কেউই বিশেষ করে আরাবুল বাহিনী ‘বিনাযুদ্ধে সূচাগ্র’ মেদিনীও ছাড়বে না। তাঁরাই এখনও অঘোষিত ‘ভাঙড় বাঁচাও কমিটি’-র জাগ্রত রক্ষক।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!