- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২১, ২০২৩
ঘাসফুল শিবিরে অস্বস্তি। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার কুন্তল ঘোষ। ‘চক্রান্ত’ বললেন তৃণমূলের যুবনেতা
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে এবার ইডির জালে তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ । নিউটাউনের তাঁর জোড়া ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে পাকড়াও করলেন তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
কুন্তল ঘোষ নিউটাউনের চিনার পার্ক অঞ্চলে থাকেন। জনসেবী বলে এলাকায় তাঁর পরিচিতি। সেই সঙ্গে শাসক দলের যুব শাখার সঙ্গেও তিনি যুক্ত। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেণ্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি আধিকারিকরা, তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর জোড়া ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাতে যান।ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। ইডি সূত্রে খবর, বহু প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি শাসক দলের তরুণ নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ , চাকরি দেওয়ার নাম করে তিনি বহু চাকরি প্রার্থীর কাছে টাকা নিয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁর বেশ কয়েক জন এজেণ্টও সক্রিয় ছিল বলে জানান গোয়েন্দারা। চিনার পার্কে যে দুটি ফ্ল্যাট তাঁর নামে রয়েছে তা ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা দামে কিনেছিলেন। যুব নেতা হয়েও তাঁর অগাধ সম্পত্তির উৎস কি তা নিয়েও সন্দিগ্ধ তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই মানিক ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য আটক করেছিল ইডি। তাঁর কাছে থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে কুন্তলের যোগাযোগ করিয়ে দিতেন তাপস মিশ্র নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগে এমনটাই জানিয়েছেন তাপস মণ্ডল। টাকার হিসেবও নাকি ঠিক করে রাখতেন তাপস মিশ্র। আরও অভিযোগ, বলাগড়ের তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদ সদস্য শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় টাকা তোলার ক্ষেত্রে সঙ্গী ছিলেন কুন্তলের। একটা কালো ডায়েরিতে হিসেব থাকত বলেও জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। টাকার বিনিময়ে নাকি সই করে রসিদও দেওয়া হত।
হুগলী জেলায় নির্বাচনের সময় প্রচুর টাকা খরচ করেছিলেন। চালিয়েছেন ডি এলএড কলেজও। আগে এনজিও চালালেও পরে রাজনীতিতে আসেন। তাঁর বাবাও সক্রিয় ভাবে রাজনীতি করতেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে। গোটা ঘটনাতেই অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির।
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাবে কুন্তল জানিয়েছেন, পুরো ব্যাপারটি তাঁকে হেনস্থা করবার এক পরিকল্পতিত চক্রান্ত। মানিক ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলকে ঘুষের টাকা না দেওয়ার জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে এমন অসত্য তথ্য তিনি দিয়েছেন। নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে তৃণমূলের একের পর এক নেতা ও শিক্ষা দফতরের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা কারাগারে। এখন যুবনেতার এই গ্রেফতারি শাসক দলকে পঞ্চায়েত ভোটের আগে আরও চাপে ফেলল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
❤ Support Us







