- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ২৯, ২০২৬
৯০ শতাংশ অতিক্রম শেষ দফার ভোটে। শান্তিতে নির্বাচন দাবি মোদির, “অবাধ ভোটের নামে দিনভর অত্যাচার” বললেন মমতা
প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফার কলকাতা সহ ৭টি জেলার ১৪২টি বুথে শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোট পড়ল। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট পড়ল ৯০.৩৪ শতাংশ। ২০২১ সালে ভোট পড়েছিল ৭৬.০৭ শতাংশ। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে ৯২.৪৬ শতাংশ। তারপর হুগলিতে দ্বিতীয় সর্বাপেক্ষা বেশি ভোট পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলার মানুষদের শান্তিতে ভোটে অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া দ্বিতীয় দফার ভোট শান্তিতেই সম্পন্ন হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ভোটকে “অবাধ ভোটের নামে দিনভর অত্যাচার” বলে বিবৃত করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “বাইরে থেকে অবজার্ভার এলে বাঙালির ওপর অত্যাচার করা হয়েছে।” কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, “বাংলার মানুষ শান্তিতে ভোট দিতে পেরেছেন।”
রক্তপাতহীন ও প্রাণঘাতী এমন ভোট বাংলা শেষ কবে দেখেছে তা মনে করতে পারছেন না রাজ্যের রাজনৈতিক অভিজ্ঞরা।
ভোট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন দ্বিতীয় দফার ভোটদানের হার ৯২ শতাংশ ছাড়াবে।
বুধবার বিকেল ৪টের পর ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অবাধ ভোটের নামে দিনভর অত্যাচার হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের এজেন্টদের বার করে দেওয়া হয়েছে। মারধর করা হয়েছে মহিলা এবং শিশুদের। নির্বাচন কমিশনের নাম না-করে মমতা অভিযোগ তোলেন, ‘‘ইজ ইট ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন ?’’ তাঁর কথায়, ‘‘জীবনে এমন দেখিনি। তা সত্ত্বেও বলছি তৃণমূলই জিতবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতব।’’
ভোট দিতে এসে কলকাতার একাধিক থানার ওসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘‘নদিয়ার বিভিন্ন এলাকা, হুগলির আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট, পুরো ক্যানিংয়ে অত্যাচার চালানো হয়েছে। কাল (মঙ্গলবার) রাত থেকে অত্যাচার চলছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কাল আমি সারা রাত জেগে ছিলাম। রাত থেকেই আমাদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি এমন গণতন্ত্র কোথাও দেখিনি।’’
নিজের বুথের দিকে হাত দিয়ে দেখিয়ে মমতা বলেন, ‘‘দেখুন এখানে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোথাও রাজ্য পুলিশ নেই। বাহিনী দখল করে রেখেছে। ওদের উচিত সীমান্তে সুরক্ষা দেওয়া। দুঃখিত, আমি জীবনে এমন ভোট দেখিনি। আমার পাড়ায় ঢুকে মেয়েদের মেরেছে। অনেক জায়গায় এজেন্ট, প্রার্থীদের বার করে দেওয়া হচ্ছে। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বাড়িতে গতরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়েছিল। ওঁকে না পেয়ে ওঁর স্ত্রীর মোবাইল নিয়ে এসেছে।’’ তবে জেতার ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশাবাদী। ‘ভিক্ট্রি’ (ভি) চিহ্ন দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন মমতা।
বুধবার, ভোটের দিন সকালেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন মমতা। প্রথমেই তিনি পৌঁছে যান চেতলায়। সেখানে গিয়ে ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে কথা বলেন। তার পরে বলেন, ‘‘আমি আজ সারা দিন রাস্তায় থাকব। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নয়, তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে।’’ সকাল থেকেই দফায় দফায় কেন্দ্রীয় বাহিনী, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মমতা। তিনি এ-ও জানান, মঙ্গলবার সারা রাত জেগে পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছেন।
দ্বিতীয় দফার ভোটে সকলের নজরই ছিল ভবানীপুরের দিকে। এই কেন্দ্রে লড়াই মমতা বনাম শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। শুভেন্দুও সকাল থেকেই বেরিয়ে পড়েছিলেন। ঘুরেছেন ভবানীপুরের বিভিন্ন বুথে। তবে ভোটের দিন মমতার বাড়ি থেকে বেরিয়ে বুথ পরিদর্শন করাটা অনেকের কাছেই ‘বেনজির’। চেতলা থেকে তিনি সোজা চলে যান চক্রবেড়িয়ায়। সেখানে ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসুর সঙ্গে দেখা করেন। সেখানকার এক বুথের বাইরে বেশ কিছু ক্ষণ বসে ছিলেন। কথা বলেন দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে। ওই বুথ ছাড়ার আগে তিনি অভিযোগ করেন, জেলায় জেলায় তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের নিশানা করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মমতা বলেন, ‘‘আমরা সকলে চাই নির্বিঘ্নে ভোট মিটুক। তবে বাইরে থেকে অনেক পুলিশ অফিসার নিয়ে এসেছে। তারা বাংলাকে বোঝে না। গতকাল রাতে সারা বাংলা জুড়ে অত্যাচার করেছে।’’ ভোট দিতে এসে সেই একই অভিযোগ করেন মমতা। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনি কালীঘাট মন্দিরে যান।
দুপুর ৩টেতেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হারে সমস্ত নজিরকে ছাপিয়ে গেল এ বারের ভোট। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি কেন্দ্রে ৭৮.৬৮ শতাংশ ভোট পড়ল দুপুর ৩টে পর্যন্ত। দু’দফা মিলিয়ে ৮৬.৩৫ শতাংশ ভোট ইতিমধ্যেই যন্ত্রবন্দি হয়ে গিয়েছে। বাকি ৩ ঘণ্টায় এই অঙ্ক নিঃসন্দেহেই আরও বাড়বে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের সর্বোচ্চ হার ছিল ২০১১ সালে। ‘পরিবর্তনের’ সেই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮৪.৩৩ শতাংশ। শেষ পাওয়া আপডেটে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে দ্বিতীয় দফায় কলকাতা ও ৭টি জেলার ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ৯৮.৯০ শতাংশ ভোট হয়েছে। এই পরিসংখ্যান যখন কমিশন দিচ্ছে তখনও ভোট শেষ হতে আরও ১ ঘণ্টা বাকি।
দ্বিতীয় দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ২১ লক্ষ ৭৫ হাজার ২৯৯। অর্থাৎ, হিসাব বলছে, ৩টে পর্যন্ত ভোট পড়ে গিয়েছে ২ কোটি ৫৩ লক্ষ ১৫ হাজারের সামান্য কিছু বেশি। দু’দফা মিলিয়ে বুধবার ৩টে পর্যন্ত পড়ল ৫ কোটি ৮৯ লক্ষ ৩৭ হাজারের বেশি ভোট। রাজ্যে এ বার মোট ভোটার ৬ কোটি ৮২ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৩। ভোট শেষের তিন ঘণ্টা বাকি থাকতেই এ বার ভোটদানের হার দাঁড়িয়ে গেল ৮৬.৩৫ শতাংশে।
প্রথম দফায় দুপুর ৩টে পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছিল ৭৮.৭৭ শতাংশ। সেই নিরিখে অবশ্য দ্বিতীয় দফা প্রথম দফার তুলনায় খানিক পিছিয়ে রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে নির্বাচন হয়েছিল। ওই দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩০৪। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ২২ হাজার ১৬৮ জন। শতাংশের নিরিখে ৯৩.১৯ শতাংশ ভোটার।
প্রথম দফায় ভোটদানের চূড়ান্ত হার ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে কমিশন (৯৩.১৩ শতাংশ)। দ্বিতীয় দফায় দুপুর ৩টে পর্যন্ত ভোটদানের হার ৭৮.৬৮ শতাংশ। দুই দফা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ভোটের হার ৮৬.৩৫, যা ইতিমধ্যেই ২০১১ সালের ভোটদানের হার (৮৪.৩৩)-কে ছাপিয়ে গিয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীক মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়েছে, রাজ্যের যেখানে যেখানে ইভিএমে টেপ পাওয়া গিয়েছে, পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট নিয়ে সেখানে পুনর্নির্বাচন হবে। বিজেপি অভিযোগ করেছে, ডায়মন্ড হারবারের ফলতায় কয়েকটি বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো রয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ফলতার ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বরে বুথে পুনর্নির্বাচন করানোর। তার পরেই মনোজকুমার আগরওয়াে জানিয়ে দিলেন পুনর্নির্বাচন নিয়ে তাঁর সিদ্ধান্তের কথা। তিনি জানান, আর কোনও বুথে ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষা না হলে সেখানেও হবে পুনর্নির্বাচন। এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, যে দুষ্কৃতীরা এই ধরনের কাজ করছে, তাদের চিহ্নিত করা হবে।
ভোটিং মেশিনে কারচুপি ! তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর নাম, ছবি ও প্রতীকের উপর সেলোটেপ চিটিয়ে দিয়ে ভোট করানোর অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল মন্তেশ্বরে । তৃণমূল প্রার্থীর বোতাম অচল করে দিয়ে বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠতেই বন্ধ হয়ে যায় ভোটগ্রহণ পর্ব । খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান তৃণমূল, বিজেপি দুই দলের প্রার্থী-সহ নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ আধিকারিকরা । দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটাররা হয়রানির শিকার হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রিসাইডিং অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই । ঘটনাকে ঘিরে বুথের সামনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় । যদিও কয়েক ঘন্টা পর নতুন মেশিনে ভোট নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূল- বিজেপির তরজা ওঠে তুঙ্গে ।
মন্তেশ্বর বিধানসভার মন্তেশ্বর ঘোষপাড়ায়, মন্তেশ্বর জোকারিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ নম্বর বুথে ভোটগ্রহণ পর্ব চলছিল সুষ্ঠুভাবেই। দুপুর ১২ টা নাগাদ ভোটারদের নজরে আসে, ভোটিং মেশিনের ৪ নং বোতাম সহ তৃণমূল প্রার্থী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরির নাম, প্রতীক সেলুটেপ চিটিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । তা দেখেই ভোটাররা বিস্ময় প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে ওই বুথে ছুটে যান তৃণমূলের এজেন্ট সুজিত ভট্টাচার্য । নির্বাচন কমিশন-সহ পুলিশ আধিকারিকদের খবর দিলে ঘটনাস্থলে যান তারাও । দীর্ঘক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ভোটাররা । তৃণমূল প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরি ও বিজেপি প্রার্থী সৈকত পাঁজা বুথে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন । কে বা কারা এই ঘটনা ঘটালো, কতক্ষণ ধরে এইভাবে ভোট চলেছে সেই নিয়েও প্রশ্ন ওঠে । পরে ওই ভোটিং মেশিনের পরিবর্তে নতুন মেশিনে বাকি ভোটারদের ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় । প্রায় ৩ ঘন্টা পর ভোটগ্রহণ পর্ব ফের শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে । সিদ্দিকুল্লা বলেন, ‘যে ইভিএম মেশিনে ৪ নম্বর বোতামে টেপ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেই মেশিনটি যথাযথ অবস্থায় সিল করে দেওয়া হয়েছে। নতুন মেশিনে আবার ভোট নেওয়া শুরু হয় ।
ভোটের দিন সকালে কেতুগ্রাম বিধানসভার বিরুরি গ্রামের ৩৫ নম্বর বুথ থেকে কিছুটা দূরেই উদ্ধার ছয়টি তাজা বোমা । বুথ থেকে অল্প দূরেই একটি ফাঁকা জায়গায় নাইলনের ব্যাগের মধ্যেই ছিল তাজা বোমাগুলি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্র বাহিনী । যেখানে বোমা রয়েছে সেই জায়গাটিকে ঘিরে রাখা হয়েছে । সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে ইতিমধ্যেই বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াডে খবর দেওয়া হয়েছে । স্কোয়াড ঘটনাস্থলে এসে বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করবে । ঘটনাস্থল থেকে সাধারণ মানুষজনকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে । স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার ব্যাপারে মুখ খোলেননি। তবে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে ভোটের দিন বুথ সংলগ্ন জায়গায় বোমা পাওয়া গেল ? কী কারণে রাখা হয়েছিল এই বোমা ? কারা বোমা মজুত করেছিল? এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এদিন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জয়হিন্দ ভবন বুথের সামনে শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছলে তৃণমূলের তরফে জয় বাংলা স্লোগান দিতে থাকে। মুহূর্তে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা ধাওয়া করে যান তৃণমূল কর্মী- সমর্থকদের। মুহূর্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী জয়হিন্দ ভবন থেকে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের লাঠি চার্জ করে সরিয়ে দেয়। এই সময় ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমার ভোটারদের প্রভাবিত করছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, তখন আমাদের ছেলেরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ওনাকে প্রতিহত করেছেন।” শুভেন্দু অভিযোগ করেছেন, “আমার ওপর তৃণমূল হামলা করছে।” কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দুর এই দাবি উড়িয়ে বলেন, “ক্যামেরায় দেখাক ওনার ওপর হামলা হয়েছে।” এরপর শুভেন্দু নির্বাচন কমিশনে ফোন করে বলেন, “আমি আক্রান্ত,কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠান।” শুভেন্দু জানান এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে বাংলায় কেমন ভোট হয়েছে জানতে চান। তিনি শাহকে সব জানিয়েছেন বলে জানান।
আমডাঙা, ফলতা, ভাঙড়, মথুরাপুরে অশান্তির ঘটনা ঘটে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সষম হন। তবে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হল এক ফোটা রক্তপাত না হতে দেওয়া, একটিও প্রাণের অকালে ঝরে পড়া বন্ধ করা। দুই দফা ভোটেতো নির্বাচন কমিশন হাসলো,এখন দেখার ৪ মে ফল প্রকাশের পর জয়ের হাসি কে হাসতে পারে।
❤ Support Us





