Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ২৯, ২০২৬

” উন্নয়ন নয়, উন্নয়নের মুখোশে লুকিয়ে থাকা ধ্বংস”, গ্রেট নিকোবর প্রজেক্ট নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা রাহুলের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
” উন্নয়ন নয়, উন্নয়নের মুখোশে লুকিয়ে থাকা ধ্বংস”, গ্রেট নিকোবর প্রজেক্ট নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা রাহুলের

আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণ করতে গিয়ে সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে তিনি একদিকে যেমন আপ্লুত, তেমনি তিনি উল্লেখ করেছেন উন্নয়নের নামে এই দ্বীপে কি ভাবে ধ্বংসলীলা চালান হয়েছে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে রাহুল গান্ধি তাঁর এই অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করতে গিয়ে লিখেছেন, “আজ আমি গ্রেট নিকোবর দ্বীপের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করেছি। আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে বিস্ময়কর অরণ্যগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এখানে এমন সব গাছ আছে, যেগুলো মানব সভ্যতার বহু আগে থেকে দাঁড়িয়ে আছে—প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা এক জীবন্ত ইতিহাস।
এই দ্বীপের মানুষরাও ঠিক ততটাই সুন্দর—আদিবাসী সম্প্রদায় হোক বা বসতি স্থাপনকারী সাধারণ মানুষ—তাদের জীবন, সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক সত্যিই অনন্য। অথচ আজ তাদের কাছ থেকেই তাদের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্র এই কার্যক্রমকে “প্রকল্প” বলে আখ্যা দিচ্ছে। কিন্তু আমি যা দেখেছি, তা কোনও উন্নয়ন প্রকল্প নয়। এটি লক্ষ লক্ষ গাছ কেটে ফেলার প্রস্তুতি। এটি ১৬০ বর্গকিলোমিটার রেইনফরেস্টকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এক পরিকল্পনা। এটি এমন এক বাস্তবতা, যেখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কথা উপেক্ষা করে তাদের বাসস্থান কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”
রাহুল গান্ধি তাঁর এক্স পোস্টে তাঁর অভিজ্ঞতার ভয়াবহতা উল্লেখ করে লেখেন,  “এটি উন্নয়ন নয়—এটি উন্নয়নের মুখোশে লুকিয়ে থাকা ধ্বংস। তাই আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এবং বারবার বলব: গ্রেট নিকোবরে যা ঘটছে, তা আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও আদিবাসী ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতারণা এবং গুরুতর অপরাধগুলোর একটি। এটি থামাতেই হবে। আর এটি থামানো সম্ভব—যদি আমরা, ভারতের মানুষ, সত্যিটা দেখতে চাই এবং এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রস্তুত হই।” রাহুল গান্ধি তাঁর পোস্টে স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার উন্নয়নের নামে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করছে,আর এই ধ্বংসলীলাকেই উন্নয়ন বলে চালাতে চাইছেন।

যদিও  কেন্দ্রীয় সরকার বলছে গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮.৫ লাখ গাছ কাটা হবে। কিন্তু পরিবেশবিদদের মতে, গাছ কাটার প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি হতে পারে। এটি অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতির হকসবিল কচ্ছপের (Hawksbill turtle) বাসা বাঁধার স্থান। এখানে প্রায় ১৬০০টি প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলোই স্থানীয় (endemic) প্রাণী প্রজাতি।

  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!