Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ২৭, ২০২৬

বঙ্গ নির্বাচনের শেষ দিনে মমতার পদযাত্রায় জনউচ্ছ্বাস, দিলেন প্ররোচনা এড়ানোর পরামর্শ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বঙ্গ নির্বাচনের শেষ দিনে মমতার পদযাত্রায় জনউচ্ছ্বাস, দিলেন প্ররোচনা এড়ানোর পরামর্শ

ভোট প্রচারের শেষ দিন যাদবপুরের সুকান্ত সেতু থেকে আলিপুর গোপাল নগর পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পদযাত্রা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সময়ের স্বল্পতার জন্য যাদবপুর থেকে ঢাকুরিয়া পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদযাত্রাকে তিনটি ভাগে ভাগ করে নেন। প্রথম ভাগে তিনি সুকান্ত সেতু থেকে ঢাকুরিয়া পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যান। তারপর ঢাকুরিয়া থেকে স্কুটারে উঠে গোলপার্ক পৌঁছে সেখান থেকে আবার পদযাত্রায় অংশ নেন। তারপর সেখান থেকে বালিগঞ্জ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে আসেন, সেখান থেকে আবার স্কুটারে উঠে হাজরা ল’ কলেজের সামনে নেমে যান, সেখান থেকে আবার তৃতীয় ভাগে পায়ে হেঁটে মুখ্যমন্ত্রী পদযাত্রা নিয়ে পৌঁছে যান গোপাল নগর।

সুকান্ত সেতুর সামনে মিছিল শুরুর আগে তৃণমূল নেত্রী দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, “শান্ত ভাবে ভোট দেবেন। ভোটের লাইনে যদি বেশিক্ষণ দাঁড়াতে হয় দাঁড়াবেন। নিজের ভোটটা দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ভিভিপ্যাট-এ ভোট দেওয়ার প্রমাণ দেখে বার হবেন। অনেক পুলিশ আরও আসতে পারে। প্ররোচনা আসতে পারে, তাতে পা দেবেন না।”

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিনের পদযাত্রায় ছিলেন, টালিগঞ্জ, যাদবপুর, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ বিধানসভার প্রার্থীরা। ছিলেন সাংসদ সায়নী ঘোষ, সুস্মিতা দেব, সাগরিকা ঘোষ সহ যাদবপুর, টালিগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকার কাউন্সিলররা।

মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী প্রতিটি লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিন যাদবপুর থেকে হাজরা পর্যন্ত পদযাত্রা করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রায় ছিলেন অসংখ্য মানুষের ভিড়, মিছিলের যাত্রাপথের উভয় পাশে একবার তৃণমূল নেত্রীকে চোখের দেখা দেখার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন অগণিত মানুষ। ৪টি বিধানসভা ছুঁয়ে যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদযাত্রা। এই পদযাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর দেড়টা নাগাদ,তবে সেই পদযাত্রা শুরু হয় প্রায় ৪টা নাগাদ।

এই পদযাত্রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক কথায় দৌড়ে চলতে থাকেন পদযাত্রায় যোগ দেওয়া মানুষজন। এই পদযাত্রা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত একটা শক্তি প্রদর্শন করেন। আসলে ৯ কিলোমিটার মিছিলের এই যাত্রাপথে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে গোপাল নগরে পৌঁছতে যাতে দেরি না হয় তাই মাঝে মাঝে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্কুটারে উঠে পড়েন।

পদযাত্রার সারা পথ যতই করো হামলা, আবার জিতবে প্রচার সঙ্গীত বাংলা বাজতে থাকে সাউন্ড সিস্টেমে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অগণিত মানুষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখার জন্য কেউ বাড়ির বারান্দায়, কেউ পাচিলের ওপর উঠে এই মুহূর্তটিকে মোবাইল বন্দি করতে থাকেন। এক কথায় প্রবল উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদযাত্রায়।

এই পদযাত্রা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের অংশগ্রহণের পদযাত্রা। মানুষের হাঁটার ধরণ, ভঙ্গি দেখেই সেটা স্পষ্ট অনুধাবন করা যায়। পদযাত্রায় ছিল না কোনও আতিশয্য, অত্যন্ত স্বাভাবিক, সরল একটা ছবি ধরা পড়ে এই পদযাত্রায়। এই মিছিলে ছিল না কোনও সজ্জিত গাড়ি, ফুলের আড়ম্বরপূর্ণ সজ্জা বা কোনও ইঞ্জিন চালিত রথ। ছিল স্বাভাবিক মানুষের অংশগ্রহণ ও তাদের কণ্ঠে জয় বাংলা স্লোগান। আর ছিল প্রিয় নেত্রীকে ভালোবাসার, কাছ থেকে দেখার একটা আন্তরিক ছবি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!