- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ২৭, ২০২৬
বাংলাদেশে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়াদিল্লির
ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার (রাষ্ট্রদূত) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। খুব শীঘ্রই তিনি ঢাকায় গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানানো হলেও, নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
এতদিন বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন প্রণয় বর্মা। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের আগমনের প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের যে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা মসৃণ করতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
দীনেশ ত্রিবেদীর অন্যতম বিশেষত্ব হল তাঁর বাংলাভাষায় সাবলীল দক্ষতা এবং বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যসহ বাংলা সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তাঁর সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে, যা বাংলাদেশে তাঁর কূটনৈতিক ভূমিকা পালনে সহায়ক হতে পারে।
রাজনৈতিক জীবনে দীনেশ ত্রিবেদীর অভিজ্ঞতা দীর্ঘ এবং বৈচিত্র্যময়। আশির দশকে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। পরে ১৯৯০ সালে জনতা দলে যোগ দিয়ে ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে তিনি সেই দলে যোগ দেন এবং দলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক হন।
২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মনমোহন সিংহের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রীর পদ ছাড়লে দীনেশ ত্রিবেদী সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে রেলের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দলের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ দেখা দেয় এবং তাঁকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়।
২০১৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে আবার লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হলেও তিনি বিজেপির অর্জুন সিংহের কাছে পরাজিত হন। এরপর তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে পুনরায় রাজ্যসভায় পাঠায়। তবে পরবর্তীতে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং ২০২১ সালের ৬ মার্চ তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দেন।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ দীনেশ ত্রিবেদীর এই নতুন কূটনৈতিক দায়িত্ব ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সূচনা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
❤ Support Us







