Advertisement
  • এই মুহূর্তে স | হ | জ | পা | ঠ
  • নভেম্বর ১৪, ২০২৫

সপ্তাহান্তে রাতের জ্বলজ্বলে আকাশদিগন্ত, খসে পড়বে সহস্র উল্কা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সপ্তাহান্তে রাতের জ্বলজ্বলে আকাশদিগন্ত, খসে পড়বে সহস্র উল্কা

আসন্ন শীতের স্বচ্ছ আকাশে উজ্জ্বল স্নিগ্ধ উল্কাবৃষ্টি, প্রকৃতির এ এক অপরূপ দৃশ্য! আগামী সপ্তাহান্তে, অর্থাৎ ১৬ নভেম্বর রবিবার রাতে এবং ১৭ নভেম্বর সোমবার ভোরে, আকাশে খসে পড়বে সহস্র উল্কা। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫টি থেকে ২০টি উল্কা দেখা যাবে, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে জ্বলজ্বল করতে থাকবে। এ বছর ‘লিওনিড মেটিওর শাওয়ার’-এর দৃশ্যটি আরো বিশেষ, কারণ রাতের আকাশের দিকে তাকালে মনে হবে সমস্ত উল্কা কনস্টেলেশনের মাথা থেকে বেরিয়ে আসছে। আর তাতে ভরপুর সৌন্দর্যও থাকবে, কারণ লিওনিড মেটিওরের কণাগুলি বেশ বড়ো, যার ফলে এগুলি দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে জ্বলে থাকতে পারে।

মহাগাজতিক আলোর খেলা ৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। তবে, ১৬ নভেম্বর রাতে সবচেয়ে বেশি আলোকদৃশ্য দেখা যাবে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রবিবার রাত ১১টা ৩০ মিনিট উল্কাপাতও আরও বেশি উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হবে। তবে একদম সঠিকভাবে দেখতে চাইলে, আপনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অন্ধকার স্থানগুলিতে গিয়ে এটি উপভোগ করতে পারবেন। যেমন, কোনো জাতীয় উদ্যান বা অন্ধকার আকাশের জায়গা যেখানে আলো আর দূষণ কম। এমন উল্কাবৃষ্টি ঘটে পৃথিবী যখন ৫৫পি/টেম্পেল-টাটল নামক একটি ধূমকেতুর ধূলিকণার পথের মধ্যে চলে আসে। এই ধূমকেতুটি প্রথম ১৮৬৫ সালে আবিষ্কার হয় এবং প্রতি ৩৩ বছরে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবী যখন ওই ধূমকেতুর কক্ষপথের আশেপাশে চলে আসে, তখন তার মধ্যে থাকা ধূলোকণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়ে এবং সেই ধুলোর অংশগুলোই উল্কাপাত হয়ে চোখে পড়ে। ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্সের অধিকর্তা সন্দীপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘পৃথিবী এক মহাকাশযানের মতো সূর্যের চারপাশে ঘুরছে, এবং প্রতিদিনই তার দিক বদলাচ্ছে। শনিবার পৃথিবী যে দিকেই যাচ্ছে, সেই দিকে সিংহরাশি আকাশে উঠছে। তাই, আকাশে তাকালে মনে হবে, সমস্ত উল্কা সিংহরাশির মাথা থেকে বেরিয়ে আসছে।’

এ বছর, লিওনিড মেটিওর শাওয়ারের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, চাঁদের উপস্থিতি এসময় খুবই ক্ষীণ। ১৬ নভেম্বর রাতে চাঁদ মাত্র ৯ শতাংশ আলোকিত থাকবে, ফলে মেটিওর শাওয়ার দেখতে কোনো সমস্যা হবে না। এছাড়া, উল্কাগুলোর গতি অত্যন্ত দ্রুত, প্রায় ৪৪ মাইল প্রতি সেকেন্ডে, যার ফলে এ বছর মেটিওর শাওয়ার আরো তীব্র এবং আকর্ষণীয় হবে। যারা এই লিওনিড মেটিওর শাওয়ারটি মিস করবেন, তাদের জন্য অপেক্ষা রয়েছে ১৩ ডিসেম্বর, যখন ‘জেমিনিড মেটিওর শাওয়ার’ আসবে। যদিও সেটি তুলনামূলক কম উজ্জ্বল হবে, তবে আবারও আকাশে উল্কা খসে পড়ার দৃশ্য দেখবার সুবর্ণ সুযোগ সেটি। বিশেষজ্ঞরা জানান, ‘জেমিনিড মেটিওর শাওয়ার’টি হবে তুলনামূলকভাবে ছোটো কণার, যেগুলি দ্রুত পুড়ে গিয়ে ছাই হয়ে যাবে, ফলে এটি লিওনিডের তুলনায় কিছুটা আলাদা। তবে, উল্কাপাতের সংখ্যা সেময় কিছু কম থাকবে— প্রতি ঘণ্টায় ৭টি উল্কা খসে পড়বে। সুতরাং, রবিবার রাতে, দ্রুতগতিতে আকাশে উড়ে যাওয়া উল্কাগুলির একটি অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে প্রস্তুত থাকুন। যত বেশি অন্ধকার, তত ভালো দেখার সুযোগ! রাত জাগুন, তাপমাত্রা ঠান্ডা হতে পারে, কিন্তু আকাশের এই অপরূপ দৃশ্য আপনাকে ঠান্ডার কথা ভুলিয়ে দেবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!