Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে ‘সুইসাইড বোম্বার’ তত্ত্ব! বিস্ফোরক দাবি এনসিপি বিধায়ক অমল মিতকারির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে ‘সুইসাইড বোম্বার’ তত্ত্ব! বিস্ফোরক দাবি এনসিপি বিধায়ক অমল মিতকারির

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের রহস্যজনক বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র করলেন এনসিপি বিধায়ক অমল মিতকারি। তিনি দাবি করেছেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধির হত্যাকাণ্ডের মতোই অজিত পওয়ারকেও পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর কি ‘সুইসাইড বোম্বার’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন?

অকোলা জেলায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিতকারি বলেন, ‘এটা কি নিছক দুর্ঘটনা, না কি এর পিছনে বড়ো কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে?’ তিনি ১৯৯১ সালে এলটিটিই-র হাতে রাজীব গান্ধির হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘যেভাবে রাজীব গান্ধিকে হত্যা করা হয়েছিল, ঠিক তেমনভাবেই কি অজিত পওয়ারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে?’ বিধায়কের আরও দাবি, দুর্ঘটনায় পাইলট সুমিত কাপুর আদৌ মারা গিয়েছেন কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। তাঁর কথায়, সুমিতের স্ত্রী জানিয়েছেন তাঁর স্বামী জীবিত। ফলে প্রশ্ন উঠছে, দুর্ঘটনায় আসলে কে মারা গিয়েছেন? তাঁর অভিযোগ, অজিতের মৃত্যু নিয়ে এত প্রশ্ন উঠছে, অথচ মহারাষ্ট্র সরকার অদ্ভুতভাবে নীরব।

অজিত পওয়ারের ভাইপো রোহিত পওয়ার শুরু থেকেই এই দুর্ঘটনায় বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন। অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা পওয়ার এবং এনসিপির পক্ষ থেকেও সিবিআই তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, প্রথাগত তদন্তে প্রকৃত তথ্য সামনে নাও আসতে পারে। মিতকারি প্রশ্ন তোলেন, কেন এখনো ব্ল্যাক বক্সের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, কেনই বা সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আনা হচ্ছে না। তিনি জানান, ক্যাপ্টেন সাহিল নামে যে পাইলটের ওই বিমান ওড়ানোর কথা ছিল, তিনি শেষ মুহূর্তে ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে যাওয়ায় পৌঁছতে পারেননি। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিধায়ক।

উল্লেখ্য, ২৮ জানুয়ারি সকাল ৮টা নাগাদ বারামতীর উদ্দেশে রওনা দেয় অজিত পওয়ারের বিমান। উড়ানের প্রথম দিকে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। মাত্র ১০ মিনিটে বিমানটি প্রায় ৬ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছে যায় এবং ঘণ্টায় প্রায় ১০৩৬ কিলোমিটার বেগে চলছিল। উড়ানের ২৪ মিনিট পর কিছু সময়ের জন্য বিমানটি নজরদারি সংকেত পাঠানো বন্ধ করে দেয়। কয়েক মিনিট পরে সেই সংকেত ফিরে এলেও সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে বিমানটি সম্পূর্ণভাবে রাডার থেকে হারিয়ে যায়, আর সে সময়েই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ভেঙে পড়ার ঠিক আগে বিমানের উচ্চতা নেমে আসে প্রায় ১০১৬ মিটারে এবং গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৩৭ কিলোমিটার, যা সাধারণত অবতরণের সময় স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। এই তথ্য ঘিরেই রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। পুরো ঘটনায় এখন সিবিআই তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে, আর রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!