Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

মহারাষ্ট্রের পুরভোটে গেরুয়া ঝড় ! রাজ–উদ্ধব জোটে ধাক্কা, সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে বিজেপি–শিন্দেসেনা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মহারাষ্ট্রের পুরভোটে গেরুয়া ঝড় ! রাজ–উদ্ধব জোটে ধাক্কা, সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে বিজেপি–শিন্দেসেনা

বৃহন্মুম্বই পুরসভা (বিএমসি) নির্বাচনের গণনার মধ্যভাগে স্পষ্ট ঠাকরে ভাইদের জোটউদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) ও রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)বৃহত্তর প্রভাব তৈরি করতে পারছে না। দেশের ধনীতম ও জনসংখ্যার নিরিখে বৃহত্তম পৌরসভার দখলে এগিয়ে রয়েছে বিজেপিএকনাথ শিন্দে নেতৃত্বাধীন শিবসেনা জোট। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। দুপুরের দিকে দেখা যাচ্ছে বিজেপিশিব সেনা জোট ১০০-র বেশি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে কেবল বিজেপিই ৮০টিশিব সেনা ২৬টি ওয়ার্ডে এগিয়ে। শিব সেনা (ইউবিটি) ৬০টি এবং কংগ্রেস ৫টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে।নির্বাচনে কংগ্রেস এবার দলিত নেতা প্রকাশ আম্বেদকরের দল বঞ্চিত বহুজন অঘাড়ী’ (ভিবিএ)র সঙ্গে আস্সন মঝোতা করেছে। অন্যদিকেমহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বে এনসিপি বিজেপিশিন্দে জোটে অন্তর্ভুক্ত না হয়ে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

বিএমসি ছাড়াও রাজ্যের ২৮টি পুরসভায় গেরুয়া ঝড় বইছে। পুণে ও নাগপুরে বিজেপি জোট এগিয়ে, থাণে একনাথ শিন্দের শিবসেনা আধিপত্য কায়েম রাখছে। রাজ্যজুড়ে বিরোধী জোট মহাবিকাশ আঘাড়ির সংগঠিত উপস্থিতি চোখে পড়ছে না। বিশেষ করে কংগ্রেসরাজ্যের একসময়ের শাসক দলকার্যত মুছে গেছে। শিবসেনার ভাঙনের পর এটাই প্রথম বিএমসি নির্বাচন। ২০১৭ সালে শেষ নির্বাচনে ২২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮৪টিতে জিতে বৃহত্তম দল হয়েছিল অবিভক্ত শিবসেনা। ২০১৯ পর্যন্ত বিজেপির সমর্থনে পুরসভা চালালেওবিধানসভা ভোটের পরে এনডিএ ছাড়েন উদ্ধব ঠাকরে। এরপর কংগ্রেস ও এনসিপির সমর্থনে চলছিল শিবসেনার পুরসভা। মেয়াদ ফুরোনোর পর ২০২২ সালের মার্চে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। প্রায় ২০ বছর পরে ঠাকরে ভাইরা আবার একত্রিত হয়ে লড়াই করলেও প্রাথমিক গণনা দেখাচ্ছে, তাঁদের ঐতিহ্যবাহী আধিপত্য ঝুঁকির মুখে।

মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা চন্দ্রকান্ত পাটিল বিজেপিশিন্দেসেনা জোটের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘মহাযুতি মোট আসনের অর্ধেকের বেশি আসন পেতে চলেছে। বিএমসিতে প্রায় ১৩০টির মতো আসন আসা সম্ভব।’ তিনি অভিযোগ করেছেশিবসেনা (ইউবিটি), এনসিপি, কংগ্রেস বা এমএনএস ভোটকে জনকল্যাণের জন্য ব্যবহার করছেন নাবরং ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থে লাগাতার জোট গড়ে রেখেছেন তারা। অন্যদিকেউদ্ধব ঠাকরে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে বরখাস্তের দাবি তুলেছেন। তাঁর দাবি, ‘গণতন্ত্রকে হত্যা করার চেষ্টা চলছে। কমিশন ও সরকারের মধ্যে যোগসাজশে ভোটপ্রক্রিয়াকে বিকৃত করা হয়েছে।’ তবে, প্রাথমিক ফলাফলে স্পষ্টবিএমসি-সহ রাজ্যের অধিকাংশ শহরে বিজেপিশিন্দে জোট শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে। ঠাকরে ভাইদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই আপাতত প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন২০২৬ সালের পুরভোটের ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছেশিবসেনার ভাঙনের পর রাজনীতির মানচিত্র মহারাষ্ট্রে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে। যদিও, পুরভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল অপেক্ষাকৃত কম। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ীবিএমসিতে মাত্র ৫২.৯৪% ভোটার ভোট দিয়েছেন। ২০১৭ সালে ৫৫.৫৩% ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। তবু রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে এই নির্বাচনের ফলাফল ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। বিএমসি-সহ মহারাষ্ট্রের পুরভোটে গেরুয়া জোটই নতুন রাজ্য রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রধান শক্তি এ কথা বলাই বাহুল্য।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!