Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ৬, ২০২৬

কলকাতায় পাক-হামলার হুঁশিয়ারি নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা, ‘মৌন’ মোদিকে কটাক্ষ — নাকাশিপাড়ার সভা থেকে সুর চড়ালেন মমতা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কলকাতায় পাক-হামলার হুঁশিয়ারি নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা, ‘মৌন’ মোদিকে কটাক্ষ — নাকাশিপাড়ার সভা থেকে সুর চড়ালেন মমতা

বাংলায় এখন ভোটের মাস। রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে। জেলায় জেলায় ঘুরে প্রচারে ঝড় তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। ভোটার তালিকা, জাতীয় নিরাপত্তা থেকে স্থানীয় ইস্যু, সব মিলিয়েই নির্বাচনে বিরোধীদের কোণঠাসা করতে তৎপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সীমান্তের উত্তাপ এ বার কি ছড়িয়ে পড়তে চলেছে বাংলার বুকেও? পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারিকে সামনে রেখে এমনই প্রশ্ন তুলে নির্বাচনী মঞ্চে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার, নদিয়ার নাকাশিপাড়ার সভা থেকে তাঁর নিশানায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কলকাতাকে লক্ষ্য করে স্পষ্ট হুমকি দেওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্ব ‘মৌনব্রত’ পালন করছে।

রবিবার সিয়ালকোটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ মন্তব্য করেন, ভারত যদি কোনও ‘মিথ্যা অজুহাতে’ পাকিস্তানে অভিযান চালায়, তবে তাঁর জবাব সীমান্তে থেমে থাকবে না, সংঘাত টেনে আনা হবে ভারতের অভ্যন্তরে, কলকাতায় ঢুকে হামলার কথাও বলেন তিনি। তাঁর এ মন্তব্যের পর থেকেই কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সোমবার সে ইস্যুকেই হাতিয়ার করে নাকাশিপাড়ার সভামঞ্চে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ান মমতা। তাঁর প্রশ্ন, ‘পাকিস্তানের মন্ত্রী কলকাতাকে উড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছেন, আর আপনারা চুপ করে রয়েছেন? প্রধানমন্ত্রী গতকাল বাংলায় এসেছিলেন প্রচারে, একবারও বললেন না কেন যে এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে?’ তাঁর অভিযোগ, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে কেন্দ্রের নীরবতা শুধু অস্বাভাবিকই নয়, উদ্বেগজনকও।

এখানেই থামেননি তৃণমূল নেত্রী। বরং আরও তীক্ষ্ণ সুরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কি কেবলই কাকতালীয়? নির্বাচনের আগে আবার কোনও বড় ঘটনার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে না তো?’ তাঁর এ মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের মন্ত্রীর এই মন্তব্যের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হোক। তাঁর সাফ বক্তব্য, ‘বাংলাকে নিশানা করা হলে আমরা তা মানব না। ভারতীয় হিসেবে এই অপমান মেনে নেওয়া যায় না।’  প্রসঙ্গত, গত বছর কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ১৮ জন নিরীহ মানুষ। সে ঘটনার পর থেকেই ভারত-পাক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। হামলার দায়ে লস্কর-ই-তৈয়বার নাম উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রের পালটা পদক্ষেপ এবং সীমান্তে উত্তেজনার আবহ এখনো স্মৃতিতে তাজা। সে প্রেক্ষিতেই কলকাতাকে সরাসরি নিশানা করার হুঁশিয়ারি রাজনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মমতা স্মরণ করিয়ে দেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে তৃণমূল বরাবর কেন্দ্রের পাশে থেকেছে। পহেলগাঁও হামলার পর কেন্দ্রের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও সমর্থনের নজির রয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের নীরবতা তাঁর কাছে ‘বিস্ময়কর’।

নির্বাচনী প্রচারের আবহে এ দিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভোটের আগে বাইরে থেকে টাকা, মাদক এবং অস্ত্র রাজ্যে ঢোকানো হচ্ছে। ‘আমরা প্রমাণ ছাড়া কিছু বলি না, সময় মতো সব সামনে আনব।’—বলেছেন তিনি। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নন্দীগ্রামে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সফরের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর কটাক্ষ, ‘কারা সঙ্গে ছিল, তা সবাই দেখেছে। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে কার সঙ্গে কার যোগ রয়েছে।’ মহিলাদের উদ্দেশে আলাদা বার্তাও দেন মমতা। ভোটের দিনে বাধা এলে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। প্রয়োজনে ঝাড়ু হাতে বেরিয়ে পড়ুন, কিন্তু ভোটাধিকার ছাড়বেন না।’ ইভিএম খারাপ হলে নতুন মেশিনে ভোট নেওয়ার দাবিও তোলেন তিনি।

নদিয়ার সভামঞ্চ থেকে স্থানীয় সংযোগও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, এই জেলায় বহুবার এসেছেন, বহু কাজও হয়েছে। তাঁর পরনের শাড়িও নদিয়ার তাঁতিদের তৈরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। কল্যাণীতে রাজ্যের প্রথম ট্রিপল আইটিআই গড়ে ওঠার কথাও বলেন। একই সঙ্গে বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হচ্ছে। ‘এটা ২৫ দিনের খেলা, তারপর মানুষ জবাব দেবে।’—এমন মন্তব্যও শোনা যায় তাঁর কণ্ঠে। অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও পালটা আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলায় কথা বললেই কাউকে ঘুষপেটিয়া বলা হচ্ছে, অথচ সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব তো কেন্দ্রেরই।’

এ দিন কালীগঞ্জ কেন্দ্রের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। গত উপনির্বাচনের পরবর্তী হিংসার ঘটনায় নিহত শিশু তমন্না খাতুনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি শোকপ্রকাশ করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, নির্দোষদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, দোষীরা থেকে যাচ্ছে আড়ালে। প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘মানুষের ভোটে ক্ষমতায় এসে সেই মানুষদেরই নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে।” কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকাও তাঁর সমালোচনার মু খে পড়ে। তাঁর কথায়, ‘ইডি-সিবিআই সব একসঙ্গে কাজ করছে।’ সভা শেষে অন্য এক আবহ—নিজের লেখা ও সুর দেওয়া গানে স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে নাচে পা মেলান মমতা। রাজনৈতিক তাপমাত্রার মধ্যেই সেই মুহূর্তে মিশে যায় উৎসবের রং।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!