- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ১৬, ২০২৬
‘সব বদলে দিলেও, বাংলার সরকার বদলাবে না’ – প্রশাসনিক প্রধানদের রদবদলে হুঁশিয়ারি মমতার
‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’ – এই স্লোগান দিয়ে ডোরিনা ক্রসিং থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিলেন তৃণমূল নেত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূল। ডোরিনা ক্রসিংয়ে মিছিল থামার পর সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দেন। এখন থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যতই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানদের সরিয়ে দেওয়া হোক অপসারিত রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানরা তৃণমূলের হয়ে মানুষের হয়ে কাজ করবে। তৃণমূল গত ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের চাইতেও বেশি আসন নিয়ে জিতে আসবে। মমতা বলেন, ‘আমরা মাছের কাঁটা বাছি, আপনারা রাজনীতির উকুন বাছেন। সব চেঞ্জ করে দিন, তার পরেও বাংলার সরকার বদলাবে না। লিখে নিন।’
এদিন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এই মিছিল ইলেকশন ঘোষণার আগেই ঠিক করা ছিল। কারণ, গ্যাসের দাম যে ভাবে বেড়েছে সে জন্য এই কর্মসূচি নিয়েছি। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেছে কেন্দ্র। আমি গ্যাস কোম্পানিগুলির সঙ্গে মিটিং করে জেনেছি, সঙ্কট নেই। আমরা বলছি সার্ভার ওপেন করুন। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাশ দিয়ে লাভ নেই। গ্যাস দিন মানুষকে।’
এর পরেই আধিকারীকদের বদলের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ পায়, বলেন, ‘গত রাতে কী করলেন? মধ্যরাতে মেসেজ পেলাম, কাউকে কাজে লাগিয়ে ছুপারুস্তমের মতো গুপ্ততাণ্ডব করছে। বাঙালি মহিলা চিফ সেক্রেটারি, ওঁকে বদলে দিয়েছেন। ওঁরা অ্যান্টি উইম্যান… এ যেন মগের মুলুক। এক জন মহিলাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দিলেন। এক বার রাজ্যকে জিজ্ঞাসাও করলেন না! ডিজি কে ছিলেন পীযূষ পাণ্ডে। তাঁকেও এক কথায় বাদ। আপনারা শুধু বাঙালি নয়, অবাঙালিদেরও বাদ দিচ্ছেন। আসলে আপনারা বেছে বেছে দেখছেন কারা বিজেপির হয়ে কাজ করবে। যাঁকেই পাঠান, তাঁরা আমাদের হয়ে কাজ করবেন। মানুষের হয়ে কাজ করবেন।’
শশী পাঁজর বাড়িতে আক্রমণ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘মিটিং (ব্রিগেড) করার আগে আপনারা কী করলেন? শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা করলেন? লজ্জা থাকা দরকার। আমরা হামলার বদলে হামলা করব না। তবে আমরা আর সহ্য করব না। আগে বলেছি, বদলা নয় বদ চাই। এ বার বলছি, বিজেপি হটাও। এর আগে মোটা ভাইয়ের মিছিলের পর বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল। এবার বলছে আমার বাড়িতে আক্রমণ করবে। আমি বলছি আয়, আমি বসে আছি, দেখি কত সাহস।’ মমতার অভিযোগ, ব্রিগেড-এর সভায় লোক আনার জন্য ১০০০ টাকা করে দিয়েছে, আমি বলি ওই টাকায় গ্যাসের ভর্তুকি দিন। তাতে মানুষের উপকার হবে। এত পাবলিসিটি না করে গ্যাসের দামটা ঠিক করতে পারতেন।
এর পরে প্রসঙ্গান্তরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আরএসএসকে আগে শ্রদ্ধা করতাম, গান্ধীজির মৃত্যুর পরে করি না’, এর পরেই এস আই আর-এর প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের উপর আমাদের আস্থা আছে। যাঁদের নাম কাটা যাবে ট্রাইবুনালে যাবেন। আপনারা যাবেন। বিনা পয়সায় আইনজীবীরা সাহায্য করবেন।’ এছাড়াও বাংলা ভাষায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কথা বলতে গিয়ে কত ভুল করেন সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘আগে বাংলাটা ভাল করে শিখে আসুন। না-হলে বলার প্রয়োজন নেই। রানি রাসমণিকে বলছেন রসোমণি! মাতঙ্গিনীকে কী যেন বলেছিলেন, আমি উচ্চারণ করতে পারছি না।’
পুলিশের প্রতি বিজেপি নেতৃত্বের হুঁশিয়ারির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মমতার হুঁশিয়ারি, ‘পুলিশকে ‘থ্রেট’ করে লাভ নেই। ওরা চাকরি করে। চাকরিটা আপনারা দেননি। ওরা নিজেদের যোগ্যতায় পেয়েছে চাকরি। এক মাসের জন্য বদলে আবার বলছে পরে দেখে নেবে… তোমরা ঘেঁচু করবে।’ বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘তোমার পরিবর্তনের সংকল্প গল্প হয়ে থেকে যাবে। তোমার পরিবর্তন হবে না। তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন হবে।’ পুলিশ প্রশাসনে পরিবর্তনকে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটের আগে টাকা ছড়ানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘আবার দেখা হবে। নবান্নে দেখা হবে। দেখব, কত হামলা, কত বদলা নিতে পারো। বিজেপির পার্টির লোককে ডিএম, চিফ সেক্রেটারি করতে হবে? কেন মানুষের উপর ভরসা নেই! লড়াইয়ে থাকবেন বন্ধুরা, আমি লড়াইতে। আমি তো যাবই না। মাথায় রাখবেন কোনও ঘটনা ঘটলে প্রধানমন্ত্রী থেকে এই সবক’টাকে দায়িুত্ব নিতে হবে। খেয়াল রাখবেন, বিহার, হরিয়ানা থেকে কাউকে এনে যেন ভোট করতে না পারে। টাকা ছড়াতে না পারে। কেন চেঞ্জ করলেন সিপি সুপ্রতিমকে ( পড়ুন সুপ্রতিম সরকার)? টাকা ঢোকাবেন সে জন্য? হামলা করবেন যাতে ধরতে না পারেন সে জন্য? আমরাও নজর রাখব।’
❤ Support Us






