Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ৩০, ২০২৩

মণিপুরের সশস্ত্র গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণ করে মূলস্রোতে ফিরতে কেন্দ্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করল, জানালেন অমিত শাহ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মণিপুরের সশস্ত্র গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণ করে মূলস্রোতে ফিরতে কেন্দ্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করল, জানালেন অমিত শাহ

গত ৩ মে থেকে অশান্ত মণিপুরে কি এবার শান্তি ফিরতে চলেছে? দীর্ঘ সময় ধরে মণিপুরে জাতিগত সংঘর্ষে মণিপুরে খুন, ধর্ষণ, ধর্ষিতা মহিলাদের নগ্ন করে রাজপথে ঘোরানো কত কিই না হয়েছে। রাহুল গান্ধি পৌঁছে গেছেন মণিপুরে, তাঁকে সড়ক পথে চূড়াচাঁদপুর যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে, তারপর তিনি চপারে করে সেখানে পৌঁছেছেন। অমিত শাহ নিজে পৌঁছেছেন মণিপুরে শান্তি ফেরাতে।

 

এই মুহূর্তে মণিপুর সেই অর্থে উত্তপ্ত না থাকলেও, থমথমে। এরই মধ্যেই বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানালেন, মমিপুরের কুখ্যাত উগ্রপন্থী সংগঠন ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট বা ইউএনএলএফ-এর সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে কেন্দ্রের। অমিত শাহের দাবি, দেশের উত্তর-পূর্বে শান্তি ফেরানোর পথে এই চুক্তি একটি মাইলফলক।

 

প্রসঙ্গত, ১৯৬৪ সালে ইউএনএলএফ প্রতিষ্ঠা করেন এ সমরেন্দ্র সিংহ। মণিপুরের অন্যতম প্রভাবশালী মৈইতেই সশস্ত্র গোষ্ঠী ছিল তারা। নয়ের দশকে ভারতের হাত থেকে স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামের সূচনা ঘটায় তারা। তাদের একটি শাখা সংগঠনও রয়েছে, মণিপুর পিপলস আর্মি নামে।

আগামী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন। সব রাজনৈতিক দলই এখন লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে ঘর গোছাচ্ছে। দামামা বেজে গিয়েছে। এই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ইউএনএলএফ-এর সঙ্গে সমঝোতার কথা জানালেন অমিত শাহ। অমিত শাহ তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “একটি মাইলফলক তৈরি হল। উত্তর-পূর্বে স্থায়ী ভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে মোদি সরকার যে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হল। ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট আজ দিল্লিতে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ইউএনএলএফ মণিপুরের সবচেয়ে প্রাচীন সশস্ত্র সংগঠন। হিংসা ছেড়ে মূলস্রোতে ফিরতে রাজি হয়েছে তারা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ওঁদের স্বাগত জানাই, শান্তি এবং প্রগতির জন্য শুভেচ্ছা রইল।”

 

অমিত শাহ আরও লেখেন, “ইউএনএলএফ-এর সঙ্গে ভারত সরকার এবং মণিপুর সরকার যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তাতে ছয় দশকের সশস্ত্র আন্দোলনে সমাপ্তির সূচনা ঘটল। সকলের উন্নয়নে বিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উত্তর-পূর্বের যুবসমাজের জন্য সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ে দেওয়ার পক্ষপাতী তিনি। তাঁর এই লক্ষ্য অর্জনের পথে এটি একটি মাইলফলক”।

এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ছবি এবং একটি ভিডিও-ও পোস্ট করেছেন শাহ। ওই ভিডিও-তে একে একে আগ্নেয়াস্ত্র সমর্পণ করতে দেখা গিয়েছে উর্দিধারী কিছু যুবককে। যে ছবি পোস্ট করেছেন শাহ, তাতে দেখা যাচ্ছে, জঙ্গলের মধ্যে, একটি খাদানের সঙ্গে পরপর সাজানো রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র।

 

অমিত শাহের এই পোস্টের পরই বিবৃতি জারি করেন ইউএনএলএফ-এর চেয়ারম্যান লামজিংবা খানদোংবাম। সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ভারত সরকারের সঙ্গে আজ যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষর করলাম আমরা।” চলতি বছরের ৩ মে থেকে বেশ কয়েক মাস সাম্প্রদায়িক হিংসার সাক্ষী থেকেছে মণিপুর। তার পর এই প্রথম কোনও সশস্ত্র সংস্থা হাতিয়ার ফেলে মূলস্রোতে ফেরার রাস্তা ধরল।

 

গত ১৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আটটি মেইতেই সশস্ত্র সংগঠনের উপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করেন। তাদের উপর বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধী আইন বা ইউএপিএ প্রয়োগ করা হয়। নিষিদ্ধ এই সংগঠনগুলির মধ্যে ছিল ইউএনএলএফ সংগঠনটিও। এর কয়েক দিন পরই, গত ২৬ নভেম্বর মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী বীরেন হিংস জানান, ইউএনএলএফ-এর সঙ্গে শান্তিস্থাপনের কথা চলছে। যদিও গতবছর থেকেই ইউএনএলএফ-এর সঙ্গে কথা চলছিল বলে জানা যায়।

 

যদিও এর নেপথ্যে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিগত কয়েক মাস ধরে মেইতেই এবং কুকিদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত ছিল উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যটি। হিংসা বন্ধ করায় কেন্দ্রের ব্যর্থতা নিয়ে দেশে তো বটেই, বিদেশের মাটিতেও তীব্র সমালোচনা হয়। শুধু তাই নয়, মণিপুরে ক্ষমতাসীন বিজেপি, সংখ্যালঘু মেইতৈইদের কোণঠাসা করতে চাইছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে, ইউএনএলএফ-এর সঙ্গে এই চুক্তি রাজনৈতিক কৌশলের অঙ্গ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!