Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ১৯, ২০২৫

রাজ্যের চেষ্টায় ফিরল বাড়ি বাংলাদেশি সন্দেহে মুম্বইয়ে অকথ্য নির্যাতনের শিকার মন্তেশ্বরের যুবক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজ্যের চেষ্টায় ফিরল বাড়ি বাংলাদেশি সন্দেহে মুম্বইয়ে অকথ্য নির্যাতনের শিকার মন্তেশ্বরের যুবক

বাংলাদেশি সন্দেহে মুম্বইয়ে বিএসএফের অকথ্য নির্যাতনের শিকার মন্তেশ্বরের যুবক। মন্তেশ্বরের কুলুট গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাফা কামাল শেখ নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করতে সমস্ত রকম নথি দেখিয়েও নিস্তার পায়নি। রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পিটিয়েছে বিএসএফ। এমনকী বাংলাদেশেও পাঠিয়ে দেয়। রাজ্য সরকারের তৎপরতায় শেষমেশ বাড়ি ফিরল মোস্তাফা। বাংলাদেশ থেকে প্রথমে উত্তরবঙ্গের মেখলিগঞ্জ, সেখান থেকে বহরমপুর হয়ে দিদির বাড়ি মন্তেশ্বরের ইছু-ভাগড়া গ্রামে ফিরেছে বছর সাতচল্লিশের মোস্তাফা। খবর পেয়ে সেখানে ছুটেছেন চরম উৎকন্ঠায় দিন কাটানো মোস্তাফা কামালের মা কেরিমা খাতুন। কালনার এসডিপিও রাকেশ চৌধুরি বলেন, ‘মোস্তাফা কামালকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শেষ পর্যন্ত তাকে বাড়ি ফেরানো হয়েছে।’ দিদির বাড়িতে ফিরে মোস্তাফা জানাল, ‘আমার অপরাধ আমি বাংলায় কথা বলেছি। মুম্বই পুলিশ আর বিএসএফ সেসব মানতেই চায়নি। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড দেখিয়েও লাভ হয়নি। উল্টে বেধড়ক পিটিয়েছে।’ তবে বাংলাদেশে পাঠানোর পর সেখানকার কিছু মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা ও খাবার দেওয়ায় কৃতজ্ঞ মোস্তাফা। তার সঙ্গে যেরকম ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে বাংলা থেকে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়ার আগে মানুষ ২ বার ভাববে বলে মনে করছেন মোস্তাফা কামাল।
বছর দশেক আগে মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রাম পঞ্চায়েতের কুলুট গ্রামের বাসিন্দা কেরিমা খাতুনের স্বামী আলি আহমেদ শেখ প্রয়াত হন। সংসারের হাল ধরতে কেরিমার বড় ছেলে মোস্তাফা কামাল শেখ মুম্বই পাড়ি দেন। সেখানে ঝাল মুড়ি, চানা মশলা বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। পরে ভাই মোস্তাফা জামালকেও মুম্বইয়ে নিয়ে গিয়ে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। মোস্তাফা কামাল শেষ বাড়ি আসেন ২০১৫ সালে। তবে বাড়ি না এলেও নিয়ম করে মায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান। মায়ের সঙ্গে ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। আত্মীয়-স্বজন মারফত মায়ের পছন্দের জিনিসপত্রও পাঠিয়ে দেন। কয়েকদিন আগে ফেরিমা আত্মীয়স্বজন মারফত জানতে পারেন তার বড় ছেলেকে আটক করা হয়েছে। এমনকী মোবাইলটাও কেড়ে নিয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!