Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫

হাজারিবাগে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে নিহত শীর্ষ মাও নেতা সহদেব সহ ২ সদস্য। উদ্ধার বিপুল অস্ত্রশস্ত্র

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হাজারিবাগে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে নিহত শীর্ষ মাও নেতা সহদেব সহ ২ সদস্য। উদ্ধার বিপুল অস্ত্রশস্ত্র

ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে ফের ড়োড়ো সাফল্য যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী।  সোমবার ভোরে ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ জেলার পাতি পিরি জঙ্গলে কোবরা ব্যাটালিয়ন ও জেলা পুলিশের সঙ্গে তীব্র গুলির লড়াইয়ে নিহত হলেন সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম শীর্ষ নেতা সহদেব সোরেন ওরফে ‘পরবেশ। দীর্ঘদিন ধরে গা ঢাকা দিয়ে থাকা এই মাওবাদী নেতার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। অভিযানে নিহত আরো দুই অন্যতম মাওবাদী সদস্য— রঘুনাথ হেমব্রম ওরফে চঞ্চল’, তিনি বিহার-ঝাড়খণ্ড স্পেশাল এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন, তাঁর মাথার দাম ছিল ২৫ লক্ষ টাকা) এবং বিসেন গাঞ্ঝু ওরফে রামখেলওয়ান’ জোনাল কমিটির সদস্যমাথার দাম ১০ লক্ষ টাকা। মৃতদের মাথার উপরে মোট পুরস্কারমূল্য ছিল ১.৩৫ কোটি টাকা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছেগিরিডি-বোকারো সীমান্ত সংলগ্ন কারান্দি গ্রামে ভোর ৬টা নাগাদ শুরু হয় গুলির লড়াই। গোপন সূত্রে খবর ছিলওই এলাকায় নাশকতার ছক কষছে মাওবাদীরা। সে খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালায় কোবরা ব্যাটালিয়নগিরিডি জেলা পুলিশ ও হাজারিবাগ পুলিশ। প্রায়  ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা গুলির লড়াই শেষে  জনের দেহ উদ্ধার করেছে জওয়ানরা। উদ্ধার হয়েছে এ কে-৪৭, গ্রেনেড-সহ বিপুল অস্ত্রশস্ত্র। এই মুহূর্তে জঙ্গল ঘেরা এলাকায় চলছে চিরুনি তল্লাশি। সিআরপিএফ সূত্রে খবরনিহত সহদেব সোরেন একাধিক জেলায় মাওবাদী কর্মকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। চলতি বছরের জুলাই মাসেও তাঁর নেতৃত্বে একটি অভিযানে প্রাণ হারান এক সেনা জওয়ান। দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ব ভারতে সিপিআই (মাওবাদী)-র সাংগঠনিক কার্যকলাপে ব্যাপক ভূমিকা ছিল তাঁর।

এদিকেগত কয়েক বছর ধরে লাগাতার অভিযানে চাপে পড়েছে মাওবাদী সংগঠনগুলি। সরকারি তথ্য অনুযায়ীচলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মোট ২৪৫ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। শুধু ছত্তীসগঢ়ের বস্তার ডিভিশনেই মৃত্যু হয়েছে ২১২ জনের। রবিবার ভোরে পলামু জেলার একটি অভিযানে নিকেশ হয়েছে মুখদেও যাদব নামে আরো এক গুরুত্বপূর্ণ মাওবাদী নেতা। একই দিনেমহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলি জেলায় গ্রেফতার হয়েছে শঙ্কর ভীমা মহাকাযিনি দণ্ডকারণ্যের ভামরাগড় অঞ্চলের মাওবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ৭ই সেপ্টেম্বরচাইবাসা জেলায় নিষিদ্ধ সংগঠনের আরো এক নেতা আপতন’ ওরফে অমিত হংসদাযাঁর নামে ৯৫টিরও বেশি মামলা ছিলপুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হন।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রবল চাপের মুখে পড়েই  ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় অনেক মাওবাদী নেতা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিচ্ছেন। কিছুদিন আগেই আত্মসমর্পণ করেছেন কিষেণজির (মল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও) স্ত্রীপথৌলা পদ্মাবতী ওরফে সুজাতা ওরফে কল্পনা। ঝাড়খণ্ড পুলিশের এক শীর্ষ কর্তার জানিয়েছেন, ‘চলতি বছরেই মাওবাদী দমন অভিযানে একের পর এক সাফল্য এসেছে। গোটা দণ্ডকারণ্য ও ঝাড়খণ্ডবিহার সীমান্তে চূড়ান্ত কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। যত দিন না পর্যন্ত সমূলে মাওবাদী কার্যকলাপ নির্মূল হয়অভিযান অব্যাহত থাকবে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!