Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫

কিষেণজির স্ত্রী, শীর্ষ মাওবাদী নেত্রী পদ্মাবতীর আত্মসমর্পণ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কিষেণজির স্ত্রী, শীর্ষ মাওবাদী নেত্রী পদ্মাবতীর আত্মসমর্পণ

৪ দশকেরও বেশি আত্মগোপনে থাকবার পর, অবশেষে আত্মসমর্পণ করলেন সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, মাওবাদী নেতা কিষেণজির স্ত্রী পোথুলা পদ্মাবতী ওরফে কমরেড কল্পনা। শনিবার হায়দ্রাবাদে তেলেঙ্গানা পুলিশের ডিজিপি জিতেন্দ্রের উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। মাওবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছে প্রশাসন। পদ্মাবতীর মাথার দাম ছিল ঠিক ১ কোটি টাকা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের দক্ষিণ আঞ্চলিক ব্যুরোর সেক্রেটারি ছিলেন পদ্মাবতী। একইসঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর খোঁজে ছিল ছত্তিশগড়, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র এবং তেলেঙ্গানার নিরাপত্তা বাহিনী।

পদ্মাবতীর জন্ম তেলেঙ্গানার জোগুলাম্বা গাদওয়াল জেলার এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে। আত্মীয়দের প্রভাবে কৈশোরেই বিপ্লবী চিন্তাধারার প্রতি আকৃষ্ট হন। ১৯৮২ সালে আত্মগোপনে চলে যান। পরে বিয়ে করেন মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ নেতা, কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের প্রধান ও পলিটব্যুরো সদস্য মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজিকে। ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরের জামবনি থানার বুড়িশোল জঙ্গলে যৌথবাহিনীর গুলিতে নিহত হন কিষেণজি। তাঁর মৃত্যুর পরও বহু বছর সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন পদ্মাবতী। দণ্ডকারণ্য অঞ্চলে ‘জনতা সরকার’ বা গণ সরকার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা এবং ওড়িশা-সহ অন্তত ৪টি রাজ্যে একাধিক মামলায় অভিযুক্ত পদ্মাবতী। তাঁকে খুঁজতে বহু বছর ধরে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। মাথার দাম রাখা হয়েছিল ১ কোটি। কিন্তু তাঁর নাগাল পাওয়া যায়নি। শীর্ষস্থানীয় মাওবাদী নেতৃত্বের নারী সদস্যাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় কমিটিতেও তাঁর ব্যাপক প্রভাব ছিল।

তেলেঙ্গানা পুলিশের দাবি, এই আত্মসমর্পণ শুধু সংগঠনে বড়ো ধাক্কা নয়, আদতে আদর্শগত ও নৈতিক পরাজয় মাওবাদীদের। পুলিশের ভাষায়, ‘’২০২৫ সালের শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত ৪০৪ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। পদ্মাবতীর মতো একজন শীর্ষ নেত্রীর আত্মসমর্পণ বাকি মাওবাদীদের জন্য একটি বার্তা।’ ডিজিপি জিতেন্দ্র মাওবাদী সদস্যদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘অস্ত্র ত্যাগ করুন, নিজেদের গ্রামে ফিরে যান। তেলেঙ্গানার উন্নয়নে শামিল হোন।’ আত্মসমর্পণের পরে পদ্মাবতী এখন নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের জন্য পুনর্বাসন প্রকল্প চালু রয়েছে, পদ্মাবতীকেও সেই আওতায় আনা হবে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলি যথাযথ আইনি পথে নিষ্পত্তি হবে।

উল্লেখযোগ্য ঘটনা, তবে এটিই প্রথম নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কিষেণজির ভ্রাতৃবধূ বিমলা চন্দ সিদাম ওরফে তারাক্কা, আত্মসমর্পণ করেন মহারাষ্ট্রের গঢ়ছিরৌলিতে। তাঁর স্বামী মাল্লোজুলা বেণুগোপাল রাও ওরফে ভূপতি ওরফে বিবেক, সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। বিমলা নিজে ছিলেন পিএলজিএ (পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি)-র একজন কমান্ডার ও দণ্ডকারণ্য জোনাল কমিটির নেত্রী। তিনি বিদর্ভ অঞ্চলের আরও ১০ জন ‘কমরেড’-এর সঙ্গে মহারাষ্ট্রের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের সামনে আত্মসমর্পণ করেন। এবার পদ্মাবতীর আত্মসমর্পণ, নিঃসন্দেহে মাওবাদী আন্দোলনের এক পর্বের অবসান। এক সময় যাঁরা ‘বিপ্লব’-এর নামে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই আজ মূল স্রোতে ফিরতে চাইছেন। কেউ স্বেচ্ছায়, কেউ বা পরিস্থিতির চাপে। কিষেণজির মৃত্যুর এক যুগ পরে তাঁর স্ত্রী যখন আত্মসমর্পণ করেন, তখন সেটি শুধু একটি ঘটনা নয়— বরং এক রাজনৈতিক, আদর্শগত অধ্যায়ের ইতি টানার বার্তা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!