Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ৮, ২০২৫

দিল্লির রিঠালা মেট্রো স্টেশনের কাছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! শতাধিক ঝুপড়ি ভস্মীভূত, মৃত ১, হাসপাতালে ভর্তি দগ্ধ শিশু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লির রিঠালা মেট্রো স্টেশনের কাছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! শতাধিক ঝুপড়ি ভস্মীভূত, মৃত ১, হাসপাতালে ভর্তি দগ্ধ শিশু

দিল্লির রোহিনির রিঠালা মেট্রো স্টেশনের লাগোয়া ‘বাঙালি বস্তি’-তে শুক্রবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছে এক শিশু। রাতের অন্ধকার চিরে মুহূর্তে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে ঝুপড়িগুলি, বিস্ফোরিত হয় একাধিক এলপিজি সিলিন্ডার— চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, আগুনের লেলিহান শিখা আকাশ ছুঁয়ে যায়।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১০টা ৫৬ মিনিট নাগাদ আগুন লাগার খবর আসে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন ও ২৯ জন কর্মীর একটি দল। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বস্তি জুড়ে— প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি ঝুপড়ি মুহূর্তে ভস্মীভূত হয়। পরে আরও কয়েকটি অগ্নিনির্বাপক ইঞ্জিন ও রোবট মোতায়েন করা হয় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগুন লাগার পরই টানা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিষ্ফোরণে আশপাশের বাড়িগুলির জানালা-দরজার কাঁচ ভেঙে যায়। বস্তির ভেতরে থাকা পরিবারগুলির মধ্যে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। কেউ নিজের ঘর থেকে সামান্য জিনিসপত্র বার করতে ছুটেছেন, কেউ আবার সন্তানকে কোলে নিয়ে পালিয়েছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে।

দমকলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এটি ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমাদের ২৯ জনের দল ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুঃখজনকভাবে একজনের মৃত্যু হয়েছে, এবং এক শিশু গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছে।’ ওই শিশুকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দিল্লি জল বোর্ড এবং রিঠালা মেট্রো স্টেশনের মাঝখানে অবস্থিত এই ‘বাঙালি বস্তি’। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই এক ঝুপড়িতে আগুন দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে সিলিন্ডার বিস্ফোরণই আগুনের প্রধান কারণ। পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। উৎসুক জনতার ভিড় এড়াতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘আমাদের দল আপ্রাণ চেষ্টা করছে আগুন পুরোপুরি নেভাতে। পুলিশকে অনুরোধ করেছি যাতে কেউ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি না আসে।’ স্থানীয়দের বক্তব্য, বস্তিতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে কোনো নিয়মকানুন মানা হয় না। তবে এ ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে বস্তিবাসীদের মধ্যে। তাঁরা বলছেন, প্রতিবারই আগুন লাগে, তারপর সবাই আসে, কিন্তু কিছুদিন পর আবার সব আগের মতো হয়ে যায়। কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। এই মুহূর্তে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো কয়েকজনের আটকে থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গত পরিবারের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় ও ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!