Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২৭, ২০২৫

বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের কাছে ভূমিধস। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটক বহু, বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের কাছে ভূমিধস। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটক বহু, বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা

ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বিশাল ভূমিধসে জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরায় মাতা বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের কাছে কমপক্ষে ৩১ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন। অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়ে রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সন্ধে পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টিপাত হয়। টানা বৃষ্টিপাতের ফলে মাতা বৈষ্ণো দেবী মন্দিরে যাওয়ার পথে ধস নামে। ধসে তীর্থযাত্রীরা আটকে পড়ে। সিআরপিএফের ষষ্ঠ ব্যাটালিয়নের সৈন্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং আহতদের কাটরার কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যায়। তীর্থযাত্রীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় ও অন্যান্য সাহায্য প্রদান করে সেনারা।

জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত সাহায্য করার জন্য কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। লেফটেন্যান্ট গভর্নরের অফিস থেকে এক্স–এ এক পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘‌অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে ভূমিধসে শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী মন্দিরে ভক্তদের প্রাণহানির খবর শুনে গভীরভাবে মর্মাহত। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরা জেলার বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের কাছে ভূমিধসের ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এক্স–এ অমিত শাহ লিখেছেন, ‘‌জম্মু ও কাশ্মীরে বৈষ্ণো দেবী যাত্রা পথে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভূমিধসের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ব্যাপারে আমি জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ জি এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নর শ্রী মনোজ সিনহা জি–র সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয় প্রশাসন আহতদের সহায়তা করার জন্য ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এনডিআরএফ দলও সেখানে পৌঁছেছে।’‌

টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে জেলাজুড়ে আকস্মিক বন্যা এবং জলাবদ্ধতার পর মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩,৫০০ জনেরও বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের দল উদ্ধারকার্য ও ত্রাণ সাহায্য করছে। দক্ষিণ কাশ্মীরের ঝিলাম নদীর জলস্তর সঙ্গমের কাছে ২২ ফুট বিপদসীমা অতিক্রম করার পর বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় জম্মু ও সাম্বার ২০ থেকে ৩০টি নিচু এলাকা এবং বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বেশ কয়েকটা সেতু ভেঙে পড়ে এবং মোবাইল টাওয়ার এবং বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে। জম্মু বিভাগের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুল ২৭ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর স্কুল শিক্ষা বোর্ড বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়া দশম ও একাদশ শ্রেণীর সমস্ত পরীক্ষাও স্থগিত রেখেছে। বিস্তীর্ণ অংশে টেলিযোগাযোগ পরিষেবা ভেঙে পড়েছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জম্মু এবং তার আশেপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত এবং শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে জম্মু শহর, আরএস পুরা, সাম্বা, আখনুর, নাগরোটা, কোট ভালওয়াল, বিষ্ণহ, বিজয়পুর, পুরমণ্ডল এবং কাঠুয়া ও উধমপুরের কিছু অংশ। রিয়াসি, রামবান, ডোডা, বিল্লাওয়ার, কাটরা, রামনগর, হীরানগর, গুল, বানিহাল এবং সাম্বা ও কাঠুয়া জেলার কাছাকাছি অংশে হালকা বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিমান ও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। লেহ বিমানবন্দরে বিভিন্ন বিমান সংস্থার বেশ কয়েকটি ফ্লাইট দেরিতে চলছে এবং বেশ কয়েকটা বাতিলও করা হয়েছে। নর্দান রেলওয়ে ২২টি ট্রেন বাতিল করেছে। ফিরোজপুর, মান্দা, চক রাখওয়ালান এবং পাঠানকোটসহ স্টেশনগুলিতে ২৭টি ট্রেনের যাত্রাপথ স্থগিত করেছে। তবে কাটরা–শ্রীনগর রুটে ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!