Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১, ২০২৫

‘বাংলাদেশি’ তকমায় ওড়িশায় আটক বাংলার ১৯ পরিযায়ী শ্রমিক। উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যদের ফেরাতে তৎপর রাজ্য

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘বাংলাদেশি’ তকমায় ওড়িশায় আটক বাংলার ১৯ পরিযায়ী শ্রমিক। উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যদের ফেরাতে তৎপর রাজ্য

বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ ভিন্ রাজ্যে আবারো বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ। এ বার ঘটনাস্থল ওড়িশা। ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অন্তত ১৯ জন পরিযায়ী শ্রমিককে আটক করেছে ওড়িশার পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে বালেশ্বর জেলার রেমুনা থানা এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর শ্রমিকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে তাঁদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

সূত্রের খবর, গত ২৫ জুন ওড়িশার ওই এলাকার একটি নির্মীয়মাণ সড়ক প্রকল্পে কাজ করছিলেন বীরভূমের শ্রমিকেরা। সে সময় স্থানীয় প্রশাসনের তরফে তাঁদের কাগজপত্র চাওয়া হয়। শ্রমিকদের পরিবার দাবি করেছে, বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে আটক করা হয়। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬ জন নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের সুকরাবাদ গ্রামের এবং বাকি ৩ জন পাইকর থানা এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের আশঙ্কা, বিনা দোষে দিনের পর দিন আটক করে রাখা হচ্ছে তাঁদের আপনজনদের। উদ্বেগজনক ঘটনার খবর পৌঁছায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে। নলহাটি বিধানসভা এলাকার তৃণমূল যুবনেতা আবু জায়েদ রানার মাধ্যমে বিষয়টি বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছায়। তিনি থানার মাধ্যমে শ্রমিকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তাঁদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত যাবতীয় নথি সংগ্রহ করে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের কাছে পাঠান। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি উদ্যোগী হয় রাজ্য প্রশাসন। সব নথি পাঠানো হয় ওড়িশা প্রশাসনের কাছে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের বাংলায় ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকার ও পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদ একযোগে কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে এক শ্রমিক,মহম্মদ জহিরুল মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনা নিয়ে সুর চড়িয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পরিকল্পিত ভাবেই বাংলা ভাষাভাষীদের হেনস্থা করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই আটকে পড়া শ্রমিকদের ছাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘা থেকে তীব্র কণ্ঠে বলেছেন, ‘বাংলা ভাষায় কথা বললে এ দেশে অপরাধী হতে হয়? বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে যাঁরা বাংলায় কথা বলেন, তাঁদের বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। এটা খুবই ভয়ানক প্রবণতা। ওঁরা সবাই পশ্চিমবঙ্গের বৈধ নাগরিক, কারও কারও কাছে আধার, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড সবই আছে। তবুও তাঁদের বারবার প্রমাণ দিতে হচ্ছে যে তাঁরা ভারতীয়!’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাভাষী মানুষদের এভাবে হেনস্থা করা বন্ধ হওয়া উচিত। রাজস্থানে ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে, এখন আবার ওড়িশায় এমন ঘটনা। আমি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনব।’

প্রসঙ্গত, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক মাসে একাধিকবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করা হয়েছে। এমনকি, মুম্বই পুলিশ ভারতীয় পরিচয়পত্র দেখানো সত্ত্বেও ৫ জনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। পরে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপে তাঁদের ফেরত আনা হয়। তৃণমূল সাংসদ ও পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যে ভাষায় রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি, ক্ষুদিরাম কথা বলতেন, সেই ভাষায় কথা বলার জন্য আজ মানুষকে অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে। ভাষার প্রতি এ অপমান, শুধু ভাষার অপমান নয়, বাঙালিত্বের উপর আঘাত। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পরিকল্পিত ভাবেই বাংলাভাষীদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। এ চুপ করে সহ্য করা হবে না।’ তিনি বলেন, ‘যেভাবে পশ্চিমবঙ্গ ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের সম্মান দিয়ে কাজ করতে দেয়, তেমনি অন্য রাজ্যগুলিরও উচিত আমাদের মানুষদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা।’ রাজ্য সরকার জানিয়েছে, যতদিন না ওই শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে আসছেন, ততদিন পর্যন্ত তাঁদের মুক্তির জন্য সমস্ত চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। শ্রমিক পরিবারগুলির আশা, যত দ্রুত সম্ভব প্রিয়জনেরা বাড়ি ফিরবেন। তবে এ ঘটনায় যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা সহজে কাটবে না বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!