- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১, ২০২৫
‘উদ্দেশ্য থাকলেই অপরাধ প্রমাণ হয় না’– নাজিব নিখোঁজ মামলায় সিবিআইয়ের চুড়ান্ত রিপোর্ট গ্রহণ দিল্লি আদালতের
৯ বছর পেরিয়ে গিয়েছে, দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিব আহমেদের খোঁজ মেলেনি আজও। সন্দেহের তির উঠেছিল কয়েক জন সহপাঠীর দিকেই। ছিল রাজনৈতিক রংও। কিন্তু সোমবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট জানিয়ে দিল, প্রমাণের অভাবে, অপরাধী হিসাবে দায়ী করা যাচ্ছে না কাউকেই। পর্যাপ্ত প্রমাণ না-থাকার যুক্তিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘উদ্দেশ্য থাকলেই প্রমাণ হয় না।’ সিবিআই যে চুড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করেছিল, সেটিই মেনে নিল আদালত।
২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর জেএনইউ থেকে নিখোঁজ হন এমএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র, ২৭ বছরের নাজিব। অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন ক্যাম্পাসে তাঁর সঙ্গে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কয়েকজন ছাত্রের সাথে হাতাহাতি হয়। তাঁর বন্ধুদের অভিযোগ, শারীরিক নিগ্রহ ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। । পরদিন সকাল থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান নাজিব। কিন্তু সেই ঘটনার সঙ্গে নাজিবের নিখোঁজ হওয়ার কোনো সরাসরি যোগসূত্র মেলেনি বলেই জানাল আদালত। ছেলের সন্ধানে তখন থেকেই দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা ফতিমা নাফিস। প্রথমে দিল্লি পুলিশ, পরে হাই কোর্টে আবেদন করে ২০১৭-য় তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। ২০১৮-য় ‘ক্লোজার রিপোর্ট’ জমা দেয় সিবিআই। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি ফতিমা। রিপোর্টের বিরোধিতা করে আদালতে প্রতিবাদপত্র দাখিল করেন তিনি। অভিযোগ করেন, তদন্ত ঠিক মতো হয়নি। ৯ জন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে সিবিআই কার্যত কোনো পদক্ষেপই নেয়নি।
সোমবার সিবিসাই-এর রিপোর্টই মান্যতা দিল আদালত। বিচারক জ্যোতি মাহেশ্বরী বলেন, ‘’হোস্টেল নির্বাচন বা জেএনইউ-এর মতো রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদের মধ্যে বচসা, ধাক্কাধাক্কি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কেবল সেই ঘটনাকে ভিত্তি করে এমন গুরুতর অভিযোগ তোলা যায় না, যেখানে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রমাণই নেই।’ তবে আদালত মেনে নিয়েছে, ঘটনার রাতে নাজিবের উপর শারীরিক ও মৌখিক হেনস্তার অভিযোগ সাক্ষীদের বয়ানে উঠে এসেছে কিন্তু তার সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার কোনও যুক্তিসংগত, তথ্যভিত্তিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি বলেই পর্যবেক্ষণ। বিচারকের কথায়, ‘সত্যের খোঁজেই তো প্রতিটি অপরাধ তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু কিছু ঘটনা এমন হয়, যেখানে সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সত্য অধরা থেকে যায়।’ রায়ে বলা হয়েছে, নাজিবের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। একজন উদ্বিগ্ন মায়ের যন্ত্রণা এবং বিচারের দাবি যথেষ্ট মূল্যবান। কিন্তু সিবিআই যে তদন্ত করেছে, তাকে অযথা দোষ দেওয়া যায় না।’
তবে এখানেই সব শেষ নয়। আদালত জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নাজিবের সম্পর্কে কোনও ‘বিশ্বাসযোগ্য ও প্রাসঙ্গিক’ তথ্য সামনে এলে তদন্ত ফের শুরু করা যাবে। সিবিআই সেই তথ্য আদালতের সামনে পেশ করতেও বাধ্য থাকবে। এই রায়ের পরে ফতিমা নাফিস কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাননি। তবে দীর্ঘ ৯ বছরের অপেক্ষার পরে আদালতের রায় তাঁকে কতটা মানসিক আঘাত দিল, তা বলাই বাহুল্য। তিনি প্রশ্ন তুলছেন— ‘আমার ছেলে তাহলে কোথায় গেল? কেন পুলিশ বা সিবিআই আজও তাঁর খোঁজ দিতে পারল না?’ আদালতের রায় হয়তো তদন্ত বন্ধ করল, কিন্তু সন্তানহারা এক মায়ের বুকভাঙা অগুনতি প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
❤ Support Us






