Advertisement
  • দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫

বিরোধীরা তো কোন ছাড়, খোদ বিজেপি সাংসদরাও পাচ্ছেন না ‘প্রাপ্য’ ! প্রশ্নের মুখে মোদি সরকার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিরোধীরা তো কোন ছাড়, খোদ বিজেপি সাংসদরাও পাচ্ছেন না ‘প্রাপ্য’ ! প্রশ্নের মুখে মোদি সরকার

রাজ্যসভার সাংসদ বকেয়া ‘প্রাপ্য’ দিচ্ছে না মোদি সরকার, বিরোধী তো বটেই, বিজেপি সাংসদরাও বঞ্চিত ! নাম শুনলে স্বাভাবিক ভাবেই ধরে নেওয়া যায়, প্রশাসনের শীর্ষস্তরের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগে কোনও ঘাটতি নেই। অথচ প্রাপ্য টাকা চাইতে গেলে তাঁদের কাছে আসছে একটাই উত্তর—‘ফান্ড নেই’। আর তাতেই ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। শুধু কংগ্রেসের সনিয়া গান্ধি, বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বা তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন নন, বকেয়া বেতন ও ভাতা থেকে বঞ্চিত দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার মতো রাজ্যসভার সাংসদরাও। বিরোধী শিবির তো বরাবরই অভিযোগ তুলেছে। এবার নিজ দলের সাংসদেরাও যখন কেন্দ্রের বকেয়া না-মেটানো নিয়ে ক্ষুব্ধ।

বকেয়া কত? প্রায় ২ বছরের বকেয়া হিসাবে প্রত্যেক রাজ্যসভার সদস্যের প্রাপ্য ১১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা। তাঁদের ব্যক্তিগত সহকারীদের জন্য বকেয়া ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। সাধারণ হিসেবেই দেখা যাচ্ছে, মোট আটকে রয়েছে ৩২ কোটি ৯২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। তবে শুধু বর্তমান সাংসদেরাই নন। ২০২৩ সালের পর যাঁরা রাজ্যসভা থেকে অবসর নিয়েছেন, তাঁদেরও প্রাপ্য টাকা এখনো মেলেনি। জহর সরকারের মতো প্রাক্তন সাংসদরাও রয়েছেন সেই তালিকায়।সংসদ ভবনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, লোকসভার সদস্যরা ২ মাস আগেই তাঁদের বকেয়া পেয়ে গিয়েছেন। অথচ রাজ্যসভার সদস্যরা এখনো কেবল ‘আশায় আছেন’। প্রশ্ন উঠছে, একই সংসদের ২টি কক্ষে এমন বৈষম্যের কারণ কী? রাজ্যসভার এক প্রবীণ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমাদের দোষ কী? আমরাও তো আইনপ্রণেতা। তবু বকেয়া আটকে রাখা হচ্ছে। এটা অনভিপ্রেত।’

প্রসঙ্গত ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত বেতনের হারে সংসদ সদস্যরা এখন মাসে ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা পান। সঙ্গে সংসদীয় ক্ষেত্র ভাতা এবং অফিস ভাতা মিলিয়ে তাঁদের মোট মাসিক প্রাপ্য এখন ২ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ১ লক্ষ ৯০ হাজার। অর্থাৎ মাসে ৪৬ হাজার টাকা করে বেড়েছে। কিন্তু এই বাড়তি বেতনের ‘এরিয়ার’ অর্থাৎ ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত বকেয়া অংশটি এখনও মেলেনি। ব্যক্তিগত সহকারীদের ক্ষেত্রেও একই দশা। আগে মাসে যাঁরা ৪০ হাজার পেতেন, এখন পাচ্ছেন ৫০ হাজার। কিন্তু তাঁদেরও বকেয়া আটকে। সমস্যা কোথায়? যদিও এ ব্যাপারে সরাসরি মুখ খুলছেন না কেউই। তবে রাজ্যসভার সচিবালয় সূত্রে ইঙ্গিত, ‘বরাদ্দ অর্থের ঘাটতি’ এবং ‘প্রশাসনিক জটিলতা’ই এই দেরির কারণ। তবে বহু সাংসদদের অভিযোগ, রাজ্যসভা সচিবালয় ইচ্ছাকৃতভাবেই বিষয়টি বিলম্বিত করছে। অন্যদিকে, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান, দেশের উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনের দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর সামনে এ পরিস্থিতিই বড়ো একটি চ্যালেঞ্জ। সদ্য দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। এমন অবস্থায়, রাজ্যসভার সদস্যদের প্রাপ্য মেটানো কত দ্রুত সম্ভব হবে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। এই প্রেক্ষাপটেই রবিবার উপরাষ্ট্রপতির সচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন প্রাক্তন আমলা অমিত খারে। তাঁকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হয়েছে। সরকারি সূত্র বলছে, তিনি মোদি ঘনিষ্ঠ। ২০১৮-তে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সচিব পদে যোগ দিয়ে পরে শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব পান। অবসরের পরে ২০২১ সালে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়। ঝাড়খণ্ড ক্যাডারের এই আইএএস অফিসার পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি ফাঁস করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার জন্য সরকারিভাবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন—নতুন উপরাষ্ট্রপতির পাশে এত ঘনিষ্ঠ আমলাকে বসিয়ে মোদি সরকার ঠিক কী বার্তা দিতে চাইছে ? অনেকেই মনে করছেন, মোদি ঘনিষ্ঠ এই আমলাকে উপরাষ্ট্রপতির সচিব হিসেবে বসিয়ে মূলত উপরাষ্ট্রপতির কার্যকলাপ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলির উপর কেন্দ্রীয় সরকারের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ। এমত অবস্থায় রাজ্যসভার সাংসদদের বকেয়া মেটানো আদৌ কতটা অগ্রাধিকার পাবে, তা নিয়েও উঠছে নানা জল্পনা।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!