- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৪, ২০২৫
খড়দহের বহুতল আবাসনে ‘অস্ত্রের পাহাড়’, উদ্ধার ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, হাজার রাউন্ড গুলি। নেপথ্যে বড়ো হামলার ছক?
খড়দহের রিজেন্ট পার্ক এলাকার বহুতল আবাসন প্রতিভা মঞ্জিল থেকে সোমবার সকালে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, এদিন ওই আবাসনে হানা দেয় ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযানে উদ্ধার হয় ১৫টি দেশি-বিদেশি বন্দুক, পাশাপাশি মিলেছে প্রায় এক হাজার রাউন্ড গুলি। উদ্ধার হয়েছে কয়েক লক্ষ টাকার নগদ অর্থও। ঘটনায় আটক করা হয়েছে লিটন চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তিকে।
ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। একের পর এক সূত্র ধরে উঠছে বড়ো ষড়যন্ত্রের আভাস। খড়দহের সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ঘটনায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ পাড়ায় থাকি। কখনো কল্পনাও করতে পারিনি, এমন বিপজ্জনক অস্ত্র এখানে মজুত থাকতে পারে। আমরা সবাই হতবাক, আতঙ্কিত।’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্ত্র ও গুলির পাহাড় উদ্ধার হওয়া ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে থাকতেন মধুসূদন মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা তিনি কোনো অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। মধুসূদনের পরিচয় নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা গুঞ্জন। বেশিরভাগ প্রতিবেশী জানেন না তিনি কী কাজ করেন। তবে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ‘মধুসূদন খুব শান্ত ও মিশুক প্রকৃতির মানুষ বলে পরিচিত। তাঁর ফ্ল্যাটে এমন ‘অস্ত্রভাণ্ডার’ লুকানো ছিল ভাবতেই পারছি না’ আরেকজন বলেন, ‘পাড়া চিরকাল শান্তিপূর্ণ, কিন্তু এই ঘটনা পুরো পরিবেশকে বিষণ্ণ করে দিয়েছে। প্রশাসনের তৎপরতা কাম্য।’
পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া বিপুল অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দেশি ও বিদেশি বন্দুক, সেমি-অটোমেটিক রাইফেল, পিস্তল, রিভলভারসহ নানা ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এসব অস্ত্র মুঙ্গের থেকে পুরুলিয়া হয়ে খড়দহে প্রবেশ করানো হয়েছিল। নেপথ্যে বড়ো সুসংগঠিত একটি চক্র রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মধুসূদনের অপরাধ জগতের সঙ্গে যোগাযোগের দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফ্ল্যাটে কোন কোন কাজ হতো, কারা আসত যেত, কারা জড়িত, এসব বিষয়ে গোয়েন্দা খোঁজ চনেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, সরব রাজনৈতিক মহলও। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘ভোট যত এগোচ্ছে, ততই অস্ত্রের কারবার বেড়ে যাচ্ছে। হাজার রাউন্ড গুলি মানে হাজার মানুষের প্রাণ। খড়দহে এত অস্ত্র কীভাবে ঢুকল? এর ব্যাখ্যা অবশ্যই রাজ্যের পুলিশমন্ত্রীর কাছে দাবি করব।’
সম্প্রতি, জুন মাসে পানিহাটির খড়দহ-মৌলানা সেলিম রোডের বাসিন্দা তৃণমূল কর্মী নইম আলির বাড়ি থেকে প্রচুর অস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। স্টেন গান, পাইপ গান, নাইট্রো-অ্যামুনেশন কার্তুজ সহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র-পিস্তল মিলেছিল। লাগাতার অস্ত্র উদ্ধারের ফলে, খড়দহ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অস্ত্র কারবার ও অপরাধ জগতের সক্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনিক মহলে।
❤ Support Us






