- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৫
বুলজোডারে গুঁড়িয়ে গেল বঙ্গবন্ধু বাসভন, বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থানে ভাঙা হল ম্যুরালও
গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দিন আগুন জালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বঙ্গবন্ধু সেখ মুজিবর রহমানের বাসভবন। পড়ে ছিল শুধু বাড়ির কাঠামো। ৬ মাস পর বাকি কাঠামোও বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হল। বুধবার শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল ভাষণের পরই ছাত্র–জনতার ব্যানারে রাতভর তাণ্ডব চালায় একদল তরুণ। বুলডোজার দিয়ে ভবনটির একাংশ ভেঙে দেয়।
বুধবার সন্ধের পর থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের বাসভবনের সামনে এসে ‘ছাত্র–জনতার’ ব্যানারে জড়ো হতে শুরু করেন বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা। রাত ৮টা নাগাদ তাঁরা বাড়িটিতে প্রবেশ করেন। রাত যত গড়ায়, ভিড়ও বাড়তে থাকে। এরপর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাড়িতে ঢোকার মুখে শেখ মুজিবুর রহমানের যে মূর্তি ছিল, সেটাও ভেঙে গুড়িয়ে দেয় উত্তেজিত ছাত্ররা। পরে রাত ১১টা নাগাদ বুলডোজার নিয়ে আসা হয়।
ভাঙচুর চালানোর সময় উত্তেজিত ছাত্ররা মুজিব–বিরোধী ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। ছাত্রদের মুখে স্লোগান ছিল, ‘জনে জনে খবর দে, মুজিববাদের কবর দে’, ‘জনে জনে খবর দে, আওয়ামী লীগের কবর দে’। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বলেন, ‘স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা আজ ছাত্র লীগের ব্যানারে জাতির সামনে ভাষণ দিয়েছে। যে আমাদের ভাইদের গুলি করে দেশ থেকে পালিয়েছে, সে কী করে কর্মসূচি ঘোষণা করে। আমরা এই দেশে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার কোনও অস্তিত্ব রাখব না। যারা ছাত্র হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, সেই ফ্যাসিবাদীদের কোনও চিহ্ন বাংলাদেশের মাটিতে রাখতে চাই না।’
এই ঘটনার আগে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্র লীগের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগদানের কথা ঘোষণা করেন। তারই প্রতিবাদে বুধবার রাতে ‘লং মার্চ টু ধানমন্ডি–৩২’ কর্মসূচির ঘোষণা করে জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। ‘ছাত্র–জনতা আন্দোলন’ নামে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়। তারপরই ছাত্ররা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের বাসভবনের সামনে হাজির হতে শুরু করে। গোটা দেশে যখন এই ধ্বংসলীলার তাজা খবর সম্প্রচার হচ্ছে, কোনও পুলিশ কিংবা সেনা জওয়ানকে ধারে–কাছে দেখা যায়নি।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলার পরে ঢাকাসহ দেশের আরও বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়। আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার আরেকটি বাসভবন সুধাসদনেও হামলা চালানো হয়। ভবনের দুটি তলায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। স্বামী ওয়াজেদ মিয়ার এই বাড়িতে এক সময় শেখ হাসিনা থাকতেন। খুলনা মহানগরের ময়লাপোতা এলাকায় অবস্থিত ‘শেখ বাড়ি’ নামে পরিচিত একটি বাসভবনও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচার বাড়ি।
বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম–সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বাড়িও। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ভোলার বাসভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালনো হয়। চট্টগ্রাম ও সিলেটে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালও ভাঙচুর করা হয়। রংপুরের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও কারমাইকেল কলেজে স্থাপিত শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হয়েছে ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের ‘মুজিব ম্যুরাল’।
❤ Support Us






